শ্রীলঙ্কার এই তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে একাই সাজঘরে ফেরত পাঠান তিতাস।নিজের প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নেন তিনি। অনুষ্কা সঞ্জীওয়ানি ও ভিস্মি গুণারত্নকে আউট করেন। দ্বিতীয় ওভারে আতাপাত্তুকে আউট করে শ্রীলঙ্কাকে বড় ধাক্কা দেন বাংলার তিতাস। বাংলার পেসারের দেওয়া এই ৩ ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ এশিয়ান গেমসে মহিলা ক্রিকেটের ফাইনালের ভারতের সোনা জয়ে বড় ভূমিকা বাংলার পেসার তিতাস সাধু। ফাইনালে একাই ৩ উইকেট নিয়ে দেশ তথা বাংলাকে গর্বিত করল চুঁচুড়ার তিতাস।বাংলার তিতাসের আগুনে বোলিংয়েই সোনা জয় ভারতের, শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার একাই ধসিয়ে দেন চুঁচুড়ার মেয়ে
Titas Sadhu: এক দিনে এশিয়ান গেনসে জোড়া সোনা ভারতের ঝুলিতে। সকালে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল টিম ইভেন্টের পর বেলা গড়াতে সোনা জিতল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল।
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন স্মৃতি মন্ধনা, হরমনপ্রীত কউর, রিচা ঘোষ, তিতাস সাধুরা।ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান করে ভারত। রান বেশি না হওয়ায় দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার দায়িত্বটা গিয়ে পড়ে বোলারদের উপর। আর সেই পরীক্ষা ১০০-তে ১০০ পেলেন বঙ্গ তনয়া।শ্রীলঙ্কা মহিলা দলের ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ বলা হয় প্রথম ৩ ব্যাটারকে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সহ অনুষ্কা সঞ্জীওয়ানি ও ভিস্মি গুণারত্নে। শ্রীলঙ্কার এই তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে একাই সাজঘরে ফেরত পাঠান তিতাস।নিজের প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নেন তিনি। অনুষ্কা সঞ্জীওয়ানি ও ভিস্মি গুণারত্নকে আউট করেন। দ্বিতীয় ওভারে আতাপাত্তুকে আউট করে শ্রীলঙ্কাকে বড় ধাক্কা দেন বাংলার তিতাস। বাংলার পেসারের দেওয়া এই ৩ ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি শ্রীলঙ্কা।
শেষ পর্যন্ত ৪ ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিতাস সাঁধু। মেডেন পেয়েছেন একটি ওভার। বাংলার মেয়ের পেস অ্যাটাকে ভর করেই এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল।তিতাসকে নিয়ে বাংলার ক্রিকেটের প্রত্যেকে আশাবাদী। অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নজর কেড়েছিলেন তিনি। এশিয়ান গেমসের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, সুযোগ যখন পেয়েছেন, ভারতীয় দলের জন্য নিজের সবটা উজাড় করে দেবেন। ফাইনালে দেশকে সোনা জিতিয়ে কথা রাখলেন তিতাস। ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রান করে ভারত। খেলা শুরুর পর থেকে টেলিভিশনে সারাক্ষণ চোখ রেখে বসেছিলেন তিতাস সাধুর ঠাকুমা।
বাড়ির মেয়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে প্রতিপক্ষকে কেমন কাত করে দিচ্ছে, সে দৃশ্যে চোখ ছলছল করে উঠছিল তৃপ্তি সাধুর। একটাই আফশোস শেষের ওভারগুলো দেখতে পাননি। টিভি সেটের সামনে থেকে সরেছিলেন মাত্র। এরপরই হই হই বাড়িতে। ভারত জিতেছে। প্রথমবার এশিয়াডে মেয়েদের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে ভারত। আর তাতেই বাংলার মেয়ের হাত ধরে এল সোনা। এখন তিতাস একটি সোনার মেয়ের নাম। এশিয়ান গেমস ২০২৩-এ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে খেলছেন চুঁচুড়ার তিতাস সাধু। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে তিতাস চার ওভার বল করে ছয় রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন। এক ওভার মেডেন। তাঁর এই পারফর্ম্যান্সেই সোনা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয় শ্রীলঙ্কার। আর ভারত এশিয়ান গেমসে দ্বিতীয় সোনা জেতে।ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা ফোন করতে শুরু করেছেন তিতাসের বাড়িতে। কলকাতা থেকেও ফোন আসছে, বলছিলেন তিতাসের কাকা। সকলেই চাইছেন এবার তাঁদের মণ্ডপে একবার আসুক তিতাস।
ঠাকুমা তৃপ্তি সাধু বলেন, “খুবই ভাল লাগছে। তবে একটাই খারাপ লাগছে, শেষের দিকে খেলাটা দেখতে পারিনি। প্রথম থেকে খেলাটা দেখছিলাম। আমি তখন সবে উপরে গিয়েছি। তখনই হইহই। মেয়েটা আমাদের সবদিকেই ভাল। এত ভাল মেয়ে দেখা যায় না। ও আরও উঁচুতে উঠুক, আরও বড় হোক এটাই চাই। ও জিতবে আমাদের ভরসা ছিল। খুব অধ্যাবসায় ওর। এটাই ওকে এতটা সাফল্য এনে দিল।”
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা ফোন করতে শুরু করেছেন তিতাসের বাড়িতে। কলকাতা থেকেও ফোন আসছে, বলছিলেন তিতাসের কাকা। সকলেই চাইছেন এবার তাঁদের মণ্ডপে একবার আসুক তিতাস। কাকা রক্তিম সাধু বলেন, “একের পর এক অ্যাচিভমেন্ট। প্রথমে যখন দীপ্তি শর্মার বলে ১২ রান হয়ে গেল একটু চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু দারুণ খেলল মেয়েটা। মনে হচ্ছে ওই যেন বেস্ট প্লেয়ার হয়ে যাচ্ছে।
ওর কাছে আমার আশা ছিল। তবে এত ভাল পারফর্ম্যান্স। সকলে ওকে গোল্ডেন গার্ল বলছে, কাকা হিসাবে এর থেকে গর্বের আর কী বা হতে পারে। চুঁচুড়া শহর এখন তিতাসময় হয়ে গিয়েছে।”এদিন চুঁচুড়ায় তিতাসের কলেজ রোডের বাড়িতে আসেন তাঁর কোচ দেবদুলাল রায়চৌধুরীও। বলছিলেন, “প্রথম থেকেই খুব মন দিয়ে খেলেছে ও। জেলাস্তর থেকে রাজ্যস্তরের ম্যাচ খেলেছে যেমন, বিশ্বকাপেও তেমন নিজেকে প্রমাণ করেছে। প্রত্যেক ফাইনালে যে ভাল খেলছে, এটা ওরই কৃতিত্ব। মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে পারাটাই ওর ইউএসপি। ছোট থেকেই কোনও কিছুতে ঘাবড়ে না গিয়ে খেলে গিয়েছে ও। খুব তাড়াতাড়ি শিখে নিতে পারে ও।” একসময় সুইমিং করত। ক্লাস এইট নাইন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু। খুব কম সময়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে যাওয়া, এবার এশিয়াডে সোনা।”
( আরও অনেক খবর পড়তে আমাদের এই NEWS UAP পেজ এ চোখ রাখুন)
