ফালাকাটায় হাতির তাণ্ডব! ১৫ বিঘা ভুট্টা খেত সাবাড়

২৯শে মার্চ,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক ,ফালাকাটা: আলুর লোকসানের পর এবার হাতির হানা। ফালাকাটার বংশীধরপুর গ্রামে শনিবার রাতে জলদাপাড়া বনাঞ্চল থেকে আসা ১৪টি হাতির একটি দল তাণ্ডব চালাল। বিঘা বিঘা ভুট্টা ও বোরো ধান খেত পিষে দিয়ে একাকার করে দিল হাতির দলটি। রবিবার সকালে খেতজুড়ে ধ্বংসলীলার চিহ্ন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
বংশীধরপুর গ্রামের অধিকাংশ জমিতেই এখন ভুট্টার চাষ। জয়ন্ত অধিকারী ও ঈশ্বর বর্মনের প্রায় ২ বিঘা করে ভুট্টা খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে গোটা গ্রামে প্রায় ১৫ বিঘার ভুট্টা খেত এখন ধ্বংসস্তূপ। চাষি প্রদীপ অধিকারী ও প্রাণেশ্বর বর্মনের বোরো ধান খেতও রেহাই পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এক চাষির কথায়, “আলু চাষে এবার এমনিতেই লোকসান হয়েছে। ভেবেছিলাম ভুট্টা বিক্রি করে সেই ঘাটতি মেটাব। কিন্তু হাতিরা সব শেষ করে দিল।”
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি রাতেই জলদাপাড়া থেকে হাতির দল গ্রামে ঢুকে পড়ছে। শনিবার রাতে খবর পেয়ে বনকর্মীরা এলাকায় পৌঁছে হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠালেও, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। যদিও বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে বারবার হাতির হানা রুখতে কেন স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে বন দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে উত্তরবঙ্গের চা বলয় ও বন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ‘মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত’ একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বংশীধরপুরের এই ঘটনা সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। চাষিদের ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলি কী প্রতিশ্রুতি দেয়, এখন সেটাই দেখার।
লুকিয়েও মিলল না রেহাই!
শিলিগুড়িতে কিশোরী মৃত্যুকাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক

২৯শে মার্চ,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক , শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কুলিপাড়ায় কিশোরী মৃত্যুকাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক। জানা গিয়েছে, গুরুংবস্তি এলাকার বাসিন্দা ওই অভিযুক্তকে শনিবার গভীর রাতে ভিন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে আজই শিলিগুড়িতে আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার কুলিপাড়ার ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, ওই কিশোরীর গুরুংবস্তি এলাকার বাসিন্দা ওই অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে ওই গৃহশিক্ষকের বাড়িতে টিউশন পড়তে যেত। অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক যদিও বিবাহিত। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ওই গৃহশিক্ষকই তাঁদের মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে। ঘটনা জানাজানি হতেই অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির দাবিতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এদিকে, কিশোরীর দেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চম্পট দেয় ওই গৃহশিক্ষক। তবে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এদিকে, ঘটনার বেশ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুন ক্রমশ বেড়েই চলছিল। তবে লুকিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক।
