জাল আধার কার্ডে কাজ করছিল গুজরাটে, এসআইআর-এর ভয়েই কি বাংলায় ফেরা?
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, গাজোল: ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝেই এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করল গাজোল থানার পুলিশ। সোমবার রাতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পান্ডুয়া এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ধৃতের নাম ফিরোজ শেখ, বাড়ি বাংলাদেশের জয়হাটের রসূল ফুলবাড়ি এলাকায়।
গাজোল থানার পুলিশের একটি দল সোমবার রাতে রুটিন টহলদারিতে বেরিয়েছিল। পান্ডুয়া এলাকায় ওই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে সে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। এরপর তাকে থানায় এনে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হলে সে স্বীকার করে যে, সে বাংলাদেশের বাসিন্দা। পুলিশি জেরা এড়াতে সে জানায়, প্রায় এক বছর আগে (রমজানের ১৫ দিন আগে) সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফিরোজ শেখ ভারতে ঢুকেই একটি জাল আধার কার্ড বানিয়ে ফেলেছিল। সেই ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সে গত কয়েকমাস ধরে গুজরাটে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশজুড়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও এসআইআর-এর কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় সে ভয় পেয়ে যায়। ধৃতের দাবি, সে ভেবেছিল বাংলায় এসআইআর-এর কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখানে কড়াকড়ি কম হবে, তাই সে নিশ্চিন্তে গা-ঢাকা দিতে বাংলায় ফিরে আসে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাজোল বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় ওই ব্যক্তির কোনও প্রভাবশালী চেনা পরিচিত বা এজেন্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে সে ভাড়াবাড়ির খোঁজ করছিল। এই চক্রের মূল শিকড় কোথায় এবং আর কতজন এভাবে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে রাজ্যে লুকিয়ে আছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
কর্তব্যে অবিচল! দুর্ঘটনার কবলে শিক্ষকদের গাড়ি,
রক্তাত্ব হয়েও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিতে স্কুলে ছুটলেন ৬ শিক্ষক
জলপাইগুড়ি: দুর্ঘটনার ভয়াবহতাও হার মানল পেশাদার দায়বদ্ধতার কাছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিতে যাওয়ার পথে জলপাইগুড়ির বালাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন সাতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। গাড়িতে থাকা একজন শিক্ষক গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হলেও, বাকি ছয়জন সামান্য আহত অবস্থাতেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর সোজা পৌঁছে গেলেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। তাঁদের এই দৃষ্টান্তমূলক আচরণে কুর্নিশ জানাচ্ছে শিক্ষা মহল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে জলপাইগুড়ি থেকে একটি চার চাকা গাড়িতে করে সাতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ময়নাগুড়ির জোরপাকরি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। বালাপাড়া এলাকায় একটি দ্রুতগামী ছোট চার চাকা গাড়ি পেছন থেকে শিক্ষকদের গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে শিক্ষকদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে পড়ে যায়।
গাড়িতে থাকা সাতজনই কম-বেশি চোট পান। তাঁদের মধ্যে একজন শিক্ষকের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত থাকলেও তাঁরা বড় কোনও বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, আহত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের শারীরিক যন্ত্রণাকে গুরুত্ব না দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কথা ভাবেন। তাঁরা জানান, আজ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, তাঁদের সময়মতো স্কুলে না পৌঁছালে পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই প্রাথমিক শুশ্রূষার পরেই তাঁরা জোরপাকরি উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। ঘাতক গাড়িটির খোঁজ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, আহত শিক্ষকদের এই কর্তব্যপরায়ণতা দেখে হাসপাতালের নার্স ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও অবাক হয়ে যান।
