নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার পর এই প্রথম ছবি পাঠাল ভারতের চন্দ্রযান। চাঁদের গা-ঘেঁষে থাকা অবস্থায় সেই ছবি পাঠাল ভারতীয় মহাকাশযান। রবিবার সেই ছবি টুইট করল ইসরো। চাঁদের দেশে পাড়ি দিয়ে প্রথম চন্দ্রদর্শন, ছবি পাঠাল চন্দ্রযান-৩, মানে চন্দ্রদর্শন করে ফেলল চন্দ্রযান-৩। চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার পর এই প্রথম ছবি পাঠাল ভারতের চন্দ্রযান। চাঁদের গা-ঘেঁষে থাকা অবস্থায় সেই ছবি পাঠাল ভারতীয় মহাকাশযান।চাঁদের কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে চন্দ্রযান ৩। এবার রীতিমতো টেনশনে রয়েছে ইসরো। কারণ এই সময়টা এতই সংবেদনশীল, যে সামান্য ভুলেই ব্যর্থ হতে পারে ল্যান্ডিং। ভেস্তে যেতে পারে গোটা অভিযান। তার মধ্যেই রবিবার রাতে সুখবর এল। প্রথম চাঁদকে দেখতে পেল চন্দ্রযান, শুধু তাই নয়, গা ঘেঁষে থাকা অবস্থায় চাঁদের ছবিও (Image Of Moon) তুলল ভারতের গর্বের মহাকাশযান চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3)।
এই প্রথম এত কাছ থেকে চাঁদের যে চেহারা ধরা পড়ল চন্দ্রযানের ক্যামেরায় (Image Of Moon), তা প্রকাশ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। চাঁদের ছবি-সহ একটি ভিডিও পোস্ট করে ইসরো টুইট করে লেখে, ‘চন্দ্রযান-৩ মহাকাশযানের দেখা চাঁদ। ৫ অগস্ট চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার সময় তোলা ছবি’। শনিবার সন্ধে ৭টা বেজে ১২ মিনিটে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে চন্দ্রযান-৩। সেই সময়ই ওই ছবি তোলা হয় বলে জানানো হয়েছে ইসরোর তরফে। শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছয় চন্দ্রযান-৩। মহাকাশযানটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টান আগেই কাটিয়ে ফেলেছিল। উৎক্ষেপণের ২২ দিন পর চাঁদের আকর্ষণবলের অধীনে প্রবেশ করেছে সেটি। তবে মূল গন্তব্যে পৌঁছতে এখনও অনেকটা ‘পথ’ পেরোনো বাকি। চাঁদের মাটি ছোঁয়ার আগে বেশ কয়েকটি কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে চন্দ্রযান-৩-কে।
চন্দ্রযান-৩-কে চাঁদের কক্ষপথে সফল ভাবে পৌঁছে দেওয়ার পর ইসরোর তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে মহাকাশযানটিকে চাঁদের কক্ষপথে ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মোট ১৮৩৫ সেকেন্ডের চেষ্টায় তা সফল ভাবে করা গিয়েছে। চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখেছিলেন আমেরিকার মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং। ঘটনাচক্রে, শনিবারই ছিল তাঁর ৯৩তম জন্মবার্ষিকী।
চন্দ্রযান-৩-এর প্রাথমিক গন্তব্য চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। তার পরেই চন্দ্রাভিযানের ‘সবচেয়ে কঠিন পর্ব’টি অপেক্ষা করে আছে ইসরোর জন্য। সেটাই হতে চলেছে কঠিনতম পরীক্ষা। আগামী ২৩ অগস্ট বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিটে রোভার প্রজ্ঞানকে পেটের ভিতরে নিয়ে ‘পাখির পালকের মতো অবতরণ’ (সফট ল্যান্ডিং) করার কথা চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রমের। চার বছর আগে ঠিক ওই পর্যায়ে এসে ব্যর্থ হয়েছিল ইসরোর ‘চন্দ্রযান-২’। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার কথা চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রমের। সেই অভিযান যদি সফল হয়, তবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা নতুন মাত্রা পাবে। আমেরিকা, রাশিয়া, চিনের পরে চতুর্থ দেশ হিসাবে মহাকাশযান সফল ভাবে চাঁদে অবতরণ করানোর তালিকায় উঠে আসবে ভারত।
ইসরোর পোস্ট করা ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে, ধূসর গোলকের মতো চাঁদ। তার গায়ের এবড়ো খেবড়ো জমি, বড় বড় গহ্বরগুলিও স্পষ্ট ধরা পড়েছে।
ইসরো আগেই জানিয়েছিল, ৫ থেকে ২৩ বা ২৪ অগস্ট পর্যন্ত সময়টা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে চন্দ্রযানকে। কারণ এই সময়টায় চাঁদের অভিকর্ষজ টান সহ্য করে চাঁদের দিকে এগিয়ে যেতে পারলেই সাফল্যের অনেকটা সিঁড়ি অতিক্রম করে যাবে চন্দ্রযান-৩। আর কোনও কারণে তা যদি না হয়, তাহলে চাঁদে হয় মুখ থুবড়ে গিয়ে পড়বে চন্দ্রযান অথবা চাঁদের পাশ দিয়ে ছিটকে মহাশূন্যে হারিয়ে যাবে।তবে এই টেনশনের মধ্যেই প্রথম ছবি পাঠিয়ে দিল চন্দ্রযান ৩। খানিক চিন্তামুক্ত করল সকলকে।
শনিবারই ইসরোর তরফে টুইটে জানানো হয়েছে, “চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ অনুভব করছে চন্দ্রযান।
চাঁদের কক্ষপথে সফল ভাবে ঢুকে পড়েছে চন্দ্রযান-৩। বেঙ্গালুরু মিশন অপারেশন কমপ্লেক্স (MOX) ISTRAC থেকে এই মিশন সফল হয়েছে। পরবর্তী অপারেশন – কক্ষপথ হ্রাস ৬ অগস্ট ২০২৩ রাত ১১টায়।”ইসরো তরফে আরও জানানো হয়েছে, চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3) চলতি সপ্তাহেই প্রবেশ করবে মুন স্ফিয়ার অফ ইনফ্লুয়েন্সে। এরপরই আসবে জটিল একটি পর্ব। চাঁদের কক্ষপথে নিক্ষেপ করার সেই পর্বে ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে চন্দ্রযান ৩-এর গতিবেগ। চন্দ্রযান ৩ ইতিমধ্যেই চাঁদের বলয়ে (স্ফিয়ার অফ ইনফ্লুয়েন্স) প্রবেশ করেছে। এটি চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬২ হাজার ৬৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় আছে। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির আওতায় ঢুকে পড়েছে তৃতীয় চন্দ্রযান। এই পর্বে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই বিপদ।
সব ঠিক থাকলে ২৩ তারিখ বিকেল ৫.৪৭ মিনিটে চন্দ্রযানের ঐতিহাসিক অবতরণ হওয়ার কথা। চাঁদের চারটি কক্ষপথ পার করে ধীরে ধীরে চন্দ্রপৃষ্ঠের ৩০ কিলোমিটার উপর থেকে হাল্কা পালকের মতো ২০ মিনিট ধরে চাঁদের পিঠে নামবে চন্দ্রযানের ল্যান্ডার বিক্রম। এই সফ্ট ল্যান্ডিং সফল হলেই চাঁদের বুকে ভারতের জয়যাত্রার ইতিহাস রচিত হবে। বিক্রম ল্যান্ড করার পরে তার পেটের ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসবে রোভার প্রজ্ঞান। চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে খনিজ, নুড়ি-পাথর কুড়োবে সে। চন্দ্রপৃষ্ঠে এঁকে দেবে অশোক স্তম্ভ ও ইসরোর প্রতীক চিহ্ন।চাঁদের গা-ঘেঁষে থাকা অবস্থায় সেই ছবি পাঠাল ভারতীয় মহাকাশযান। রবিবার সেই ছবি টুইট করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, চারদিকে অন্ধকার। তার মধ্যে ধূসর রঙের গোলক। চন্দ্রপৃষ্ঠের এবড়োখেবড়ো অংশ ধরা পড়েছে ছবিতে।
