আসানসোল দক্ষিণেএবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে

 ৯ এপ্রিল ২০২৬,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক:বার্নপুর,:-আসানসোল দক্ষিণেএবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা SIR।

ভোরবেলা বার্নপুরের নেহরু পার্কের ধার ঘেঁষে বয়ে চলা দামোদর নদ-এর দৃশ্য বড় মনোরম। এ নদের বুক চিরে জেগে থাকা বাঁশের সাঁকোটা আজ শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, একরাশ ক্ষোভ আর বঞ্চনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপারে বাঁকুড়া, এপারে পশ্চিম বর্ধমান—দুই জেলার হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য ঝুলে থাকে ওই নড়বড়ে বাঁশের উপর।
শুধু কি মানুষের ভাগ্য? এই সাঁকো এখন এলাকার রাজনৈতিক লড়াইয়েরও বড় হাতিয়ার। ২০২৬ সালের West Bengal Assembly Election-এ অন্যতম হটস্পট আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র-এর ভোটভাগ্যও যেন এই সাঁকোর মতোই দোদুল্যমান। একদিকে ‘সেতু নেই তো ভোট নেই’ স্লোগান, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি।
সাঁকো থেকে রাজনীতি: ‘নো ব্রিজ, নো ভোট’
দামোদরের উপর স্থায়ী সেতুর দাবিতে ‘দামোদর বিহারীনাথ সেতুবন্ধন কমিটি’-র আন্দোলনে কাঁপছে শিল্পাঞ্চল। বর্ষায় সাঁকো ডুবে গেলে কৃষক, ছাত্রছাত্রীদের মাইলের পর মাইল ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—ভোট আসবে যাবে, কিন্তু সেতু কবে?
রাজনৈতিক টানাপোড়েন: দোষ কার?
বর্তমান বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্য সড়কের সেতু নির্মাণ রাজ্যের দায়িত্ব।
অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর বক্তব্য—কেন্দ্রের সদিচ্ছা থাকলে অনেক আগেই কাজ শুরু হয়ে যেত।
এই দড়ি টানাটানির মাঝে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।
ভোটার তালিকা নিয়ে বড় ধাক্কা
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)। প্রায় ৪১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
আগের ভোটার সংখ্যা: ২,৯১,০৭৮
বর্তমান: ২,৪৮,০৯১
এই বিশাল পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক তৈরি করেছে। শাসকদলের দাবি—এটি পরিকল্পিত। কেন্দ্রীয় শিবির বলছে—এটি নিয়মমাফিক পরিশোধন।
লড়াইয়ের ময়দান: ঘরের ছেলে বনাম বিদায়ী বিধায়ক
এবারের লড়াই মূলত দুই শিবিরে—
তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল) – ‘ঘরের ছেলে’, প্রাক্তন বিধায়ক
অগ্নিমিত্রা পল (বিজেপি) – বর্তমান বিধায়ক
২০২১-এ সায়নী ঘোষ-কে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। তবে এবার তৃণমূল পুরনো মুখে ফিরেছে।
অতীতের ভোট সমীকরণ
২০১৬: তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী
২০২১: অগ্নিমিত্রা পল জয়ী
লোকসভায়: শত্রুঘ্ন সিনহা-র জয়ে এলাকায় তৃণমূলের পুনরুত্থান
তৃতীয় শক্তির চেষ্টা
CPI(M) প্রার্থী শিল্পী হালদার বিকল্প রাজনীতির ডাক দিচ্ছেন। তবে বাস্তবে লড়াই মূলত দ্বিমুখী—তৃণমূল বনাম বিজেপি।
ভোটারদের মন কোথায়?
এই কেন্দ্রে—
অবাঙালি (হিন্দিভাষী) ভোটারের প্রভাব বেশি
তফসিলি জাতি: ~২০–২২%
তফসিলি উপজাতি: ~৫–৭%
সংখ্যালঘু ভোটাররাও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর
মহিলা ভোটারদের ক্ষেত্রে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম ‘নিরাপত্তা’—এই দ্বন্দ্বও বড় ভূমিকা নেবে।
শেষ কথা
আসানসোল দক্ষিণের এই লড়াই শুধুই রাজনৈতিক নয়—এটি অস্তিত্বের লড়াই।
দামোদরের বুকে বাঁশের সাঁকো যেমন দুলছে, তেমনই দুলছে মানুষের আস্থা।
সেতু যদি না আসে, তবে ‘বিশ্বাসের সেতু’টাই হয়তো সবচেয়ে আগে ভেঙে পড়বে।