ভাড়ার তাগাদায় অত্যাচারের অভিযোগ বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, ধূপগুড়ি:,৩১শে জানুয়ারী ২০২৬:- বকেয়া ৩৮০০ টাকা বাড়িভাড়া মেটানোর জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি খুঁটিতে বেঁধে অপমান করার অভিযোগে প্রৌঢ়ের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে শহরে। শনিবার ময়নাতদন্তের পর বিকেলে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধুপাড়ায় ওই প্রৌঢ়ের মরদেহ ফিরলে সন্ধে পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন। ভাড়াটের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন বাড়িওয়ালা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে হাজির হন ধূপগুড়ি থানার পুলিশ আধিকারিকরা।
ঘটনার সূত্রপাত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে। এক মাসের কিছু বেশি সময় ধরে দেশবন্ধুপাড়ায় অমর দে’র বাড়িতে ঘরভাড়া নেন পেশায় ব্যান্ডপার্টির সানাইবাদক তথা পার্ট-টাইম টোটোচালক বছর পঞ্চান্নর ঝন্টু দাস। বিপত্নীক ঝন্টুবাবুর সঙ্গে থাকতেন ছেলে শুভঙ্কর, পুত্রবধূ শিখা এবং দুই নাবালক নাতি। মৃত ব্যক্তির ছেলেও বাবার মতো একই পেশায় রয়েছেন।
বাবার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় শুভঙ্কর বলেন, ‘মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার চুক্তিতে আমরা ভাড়া নিয়েছিলাম। যেহেতু টোটো চার্জ হয় সেহেতু ডিসেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২৮০০ টাকা সহ মোট ভাড়া দাঁড়ায় ৭৮০০ টাকা। মঙ্গলবার বাড়িওয়ালাকে আমি চার হাজার টাকা দিই এবং জানাই আমি ও বাবা কাজ করে শনিবারের মধ্যে বাকি টাকা দিয়ে দেব। তিনি মেনেও নেন। বুধবার সকালে আমি ব্যান্ডের কাজে বেরিয়ে যাই। বাবাও কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, এমন সময় বাড়িওয়ালা এসে হুজ্জতি শুরু করেন। এতে বাবা অপমানিত হয়ে বিষ খেয়ে নিজেকে শেষ করে ফেলে।’
মৃতের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ বাড়িওয়ালা অমর দে বকেয়া ভাড়ার দাবিতে হাজির হন ভাড়াটের ঘরে। অভিযোগ, ঝন্টুকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি টেনে বের করে ঘরের সামনে খুঁটিতে বাঁধেন বাড়িওয়ালা। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ জানানোর হুমকি দেন। শ্বশুরকে বাড়িওয়ালার রোষের হাত থেকে রক্ষা করতে পুত্রবধূ সহ দুই নাতি সেখানে আসে। তারা ঝন্টুকে বাঁধনমুক্ত করার ফাঁকে বাড়িওয়ালা তালা মেরে দেন ভাড়াটের ঘরের দরজায়। এরপরই টাকা জোগাড়ের জন্য টোটো নিয়ে বেরিয়ে যান ঝন্টু । দিনভর দুই সন্তান নিয়ে বাড়ির সিঁড়িতেই বসে ছিলেন পুত্রবধূ।
পূত্রবধূ বলেন, ‘শ্বশুরকে চোর, বাটপাড় বলে অপমান করতে করতে বাড়ির সামনের খুঁটিটায় বেঁধে ফেলেন বাড়িওয়ালা। দুই সন্তান সহ আমি ওঁর পায়ে পড়ি। আমাদেরও অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে থাকেন। আমরা তিনজনে শ্বশুরমশাইয়ের বাঁধন খুলছিলাম। এই ফাঁকে গেটে দরজায় তালা মেরে চলে যান বাড়িওয়ালা।’
এদিকে, দিনভর টোটো নিয়ে ঘুরে টাকা জোগাড় করতে পারেননি ঝন্টু। এরপরেই তিনি আগাছানাশক বিষ খান বলে অভিযোগ। সেই অবস্থায় এক আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছালে তাঁরাই ঝন্টুকে প্রথমে ধূপগুড়ি হাসপাতাল, তারপর জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তঁার মৃত্যু হয়। শুক্রবার ময়নাতদন্তের পর ঝন্টুর দেহ এলে তালা দেওয়া ওই ঘরের সামনে দেহ রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ।
শেষপর্যন্ত এদিন সন্ধ্যায় ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার অরূপ দে এবং পুলিশ আধিকারিকদের চেষ্টায় বাড়িওয়ালার পরিবারের থেকে চাবি উদ্ধার করে ঘরে ঢোকে পরিবারটি। তারপর মরদেহ নিয়ে ধূপগুড়ি পুর মহাশ্মশানে অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হয়।
অন্যদিকে, হাতে লেখা একটি চিরকুট দেখিয়ে বাবার সুইসাইড নোট বলে দাবি করেন শুভঙ্কর। তার ভিত্তিতে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথা জানায় মৃতের পরিবার। থানা সূত্রে খবর, শেষপর্যন্ত নির্বিঘ্নে অন্ত্যেষ্টি মিটেছে এবং পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে। তবে চেষ্টার পরেও বাড়িওয়ালার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। খোঁজ মেলেনি বাড়িওয়ালারও।
