রিপোর্ট দেখে বিচারপতি সিনহা এদিন ইডি-কে প্রশ্ন করেন, “এত কিছুর পর মাত্র একজনের হদিশ পেলেন?” তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মাত্র একজন থাকবেন এই মানি ট্রেলে। আপনাদের আগের কথা শুনে সেরকম মনে হয়নি।’এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ নিয়ে ইডি ও সিবিআই যে রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোসেন বিচারপতি। ওএমআর শিট যেখানে নেই, সেখানে কীভাবে তথ্য যাচাই করা হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যাঁদের বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের তালিকা পর্ষদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছিল ইডি ও সিবিআই-কে।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ বিপুল টাকায় চাকরি যে বিক্রি হয়েছে, গোয়েন্দাদের তদন্ত এই বিষয়টা অনেকটা স্পষ্ট হলেও, সেই টাকা কোথা থেকে কার হাত ঘুরে কোথায় পৌঁছল, সেই জাল খুঁজতে এখনও তৎপর কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই সূত্রেই কিছুদিন আগে খোঁজ চলে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নামে এক সংস্থার অফিসে। এবার সেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সম্পত্তির হিসেব জমা পড়ল কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ মতো, আজ বৃহস্পতিবার মুখবন্ধ খামে জমা পড়েছে সেই সব তথ্য।এদিন ইডি আদালতে জানায়, যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তা রিপোর্ট আকারে জমা দেওয়া হয়েছে।
আরও তদন্ত চলছে। ইডি-র দেওয়া রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির। ইডি-র দাবি, ওই ব্যক্তি ৪৪ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন পরে সেই টাকা ফেরতও দিয়েছিলেন। তবে কোনও অভিনেতার কথা বলা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি। রিপোর্ট দেখে বিচারপতি সিনহা এদিন ইডি-কে প্রশ্ন করেন, “এত কিছুর পর মাত্র একজনের হদিশ পেলেন?” তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মাত্র একজন থাকবেন এই মানি ট্রেলে। আপনাদের আগের কথা শুনে সেরকম মনে হয়নি।’এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ নিয়ে ইডি ও সিবিআই যে রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোসেন বিচারপতি। ওএমআর শিট যেখানে নেই, সেখানে কীভাবে তথ্য যাচাই করা হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
যাঁদের বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের তালিকা পর্ষদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছিল ইডি ও সিবিআই-কে। সেই তালিকা যাচাই করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে পর্ষদ। সেই রিপোর্ট দেখেই বিচারপতি সিনহা প্রশ্ন করেন, “কারা বেআইনিভাবে নিয়োগ পেয়ে়ছে, আপনারা জানলেন কীভাবে?” নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কার্যত কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে এসেছে। সামনে এসেছে একাধিক নাম। আদালতের সওয়াল-জবাবে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিপুল টাকায় চাকরি যে বিক্রি হয়েছে, গোয়েন্দাদের তদন্ত এই বিষয়টা অনেকটা স্পষ্ট হলেও, সেই টাকা কোথা থেকে কার হাত ঘুরে কোথায় পৌঁছল, সেই জাল খুঁজতে এখনও তৎপর কেন্দ্রীয় সংস্থা।মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনে ভুল হলে তা সংশোধন করার ব্যবস্থা রয়েছে অনলাইনে। তার পরেও এ বছর বহু স্কুল ভুল সংশোধনের চেষ্টা করেনি।
এ ব্যাপারে এবার কড়া হল পর্ষদ। যে সব স্কুল এখনও পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্রে ভুল সংশোধনের চেষ্টা করেনি, তাদের ফি দিতে হবে বলে জানিয়ে দিল মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ।২০২১ সালে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চালু হয়েছিল। সে বার ৯,৮৪৩টি আবেদন জমা পড়েছিল। এবার জমা পড়েছে মাত্র ১,০০০টি।পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, এ বছর ১৮২টি স্কুল এই অনলাইন ডেটা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াতে অংশই নেয়নি। তাদের ক্ষেত্রে ফি দেবেন স্কুল কর্তপক্ষ। ওই পরীক্ষার্থীরা নয়, এমনই নিয়ম করল পর্ষদ।নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস (Leaps & Bounds) কোম্পানির ডিরেক্টর এবং শীর্ষকর্তাদের সম্পত্তির যাবতীয় তথ্য হলফনামা আকারে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই লিপস অ্যান্ড বাউন্স-এর ডিরেক্টর এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের যাবতীয় সম্পত্তির হিসেব ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
সেই মতোই এদিন তা জমা করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। এদিকে ওই সংস্থার সম্পত্তির হিসেবও চেয়েছে আদালত।এবার এই নিয়েই মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বর্তমানে সংসদের বিশেষ অধিবেশনের জন্য দিল্লিতে রয়েছেন অভিষেক। সেখানেই তিনি বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে সব নথিই ওদের কাছে রয়েছে।’এদিকে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের দফতরে ইডি আধিকারিকরা হানা দেওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই সংস্থার হিসেব রক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন কোম্পানির কম্পিউটারে ১৬টি এক্সেল ফাইল ডাউনলোড করেছেন ইডির আধিকারিকরা। যেই সমস্ত ফাইলগুলির সঙ্গে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কোনও সম্পর্ক নেই। এই নিয়ে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম থানাতে অভিযোগ করা হয়েছে।
পাল্টা হেনস্তার অভিযোগেও হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।এই নিয়ে শুনানি হয় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। রাজ্যের তরফে বলা হয়, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে তল্লাশিতে কি ভুয়ো ইডি (ED) আধিকারিক যুক্ত রয়েছে? রাজ্যের সওয়াল, মাঝেমধ্যেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভুয়ো আধিকারিক ধরা পড়ে। তবে জানতে চাওয়ায় ক্ষতি কী? ইডির পাল্টা সওয়াল, বারবার এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। গতি স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশকে দিয়ে এই সমস্ত কাজ করা হচ্ছে। এর পিছনে প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে। আমরা যখনই জানিয়েছি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সিইও তারপর থেকেই এই হয়রানি শুরু হয়েছে।’
