জব কার্ড নিয়ে অভিষেক শুভেন্দু তরজা

জব কার্ড হোল্ডারদের সামনে রেখে তাঁরা জানান, দেখুন, আপনাদের বাড়ির কাঁচা ছাদ, আপনাদের থাকার জায়গা নেই, অথচ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কোটি-কোটি টাকা খরচ করছে এই কারণে৷ যে পার্লামেন্ট বছরে ১০০-দিনও বসে না, সেটার জন্য এত টাকা খরচ করা হচ্ছে৷ এদিকে আপনাদের বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে লোকে মারা যাচ্ছে, আর আপনাদের টাকা না দিয়ে এ খানে পার্লামেন্ট বানানো চলছে৷মূলত বাঁকুড়া, বীরভূমের অনেকেই ছিলেন এখানে৷

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লিতে অভিষেক, এবার যাচ্ছেন শুভেন্দুও! তৃণমূলের আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক, জব কার্ড নিয়ে নালিশ তবে অভিষেক সকল তৃণমূলের প্রতিবাদে যোগ দেওয়া জব কার্ড হোল্ডাররা ঘুরে দেখলেন দিল্লির একাধিক প্রশাসনিক ভবন৷ দিল্লিতে প্রতিবাদের মধ্যেই এ দিন বিকেলের পর জব কার্ড হোল্ডারদের দিল্লির নতুন সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়৷ আর সেখানেই, অর্থাৎ এই গোটা অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা৷ তাঁরাই ভারতমণ্ডপম ও সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় নতুন পার্লামেন্ট ভবন ঘুরিয়ে দেখেন৷

সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁরা জব কার্ড হোল্ডারদের সামনে রেখে তাঁরা জানান, দেখুন, আপনাদের বাড়ির কাঁচা ছাদ, আপনাদের থাকার জায়গা নেই, অথচ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কোটি-কোটি টাকা খরচ করছে এই কারণে৷ যে পার্লামেন্ট বছরে ১০০-দিনও বসে না, সেটার জন্য এত টাকা খরচ করা হচ্ছে৷ এদিকে আপনাদের বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে লোকে মারা যাচ্ছে, আর আপনাদের টাকা না দিয়ে এ খানে পার্লামেন্ট বানানো চলছে৷মূলত বাঁকুড়া, বীরভূমের অনেকেই ছিলেন এখানে৷ তাঁদের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে পুরোটাই ঘুরিয়ে দেখানো হয়৷ এই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জব কার্ড হোল্ডারদের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প ঘুরিয়ে দেখিয়ে দেখানো হয়েছে, কী ভাবে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের টাকা না দিয়ে কোটি-কোটি টাকা খরচ করে পার্লামেন্ট ভবন তৈরি করেছে৷ তবে ২ অক্টোবর এবং আজবিভিন্ন প্রকল্পে বকেয়া টাকা আদায়ের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছে তৃণমূল৷

সেখানে রয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ এরই মাঝে সোমবার রাতের বিমানে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ এখানেই শেষ নয়, বিজেপি নেতার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে দেদার দুর্নীতি হয়েছে৷ লুট করা হয়েছে কেন্দ্রের টাকা৷ এ নিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের আগেই কেন্দ্রীয় কৃষি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ এমনকি, গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি তুলেছেন তিনি৷এদিন তাঁর দিল্লি যাত্রার উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘দিল্লিতে গিয়ে সুনিশ্চিত করব, যাতে যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ফেক জব কার্ড ইস্যু করেছে, তারা আইনের আওতায় আসে। তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা হয়। জব কার্ড ইস্যুয়িং অথরিটি হচ্ছে পঞ্চায়েত প্রধান, আর DDO হচ্ছে জেলাশাসক। আমি চেষ্টা করব দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলাশাসক, পঞ্চায়েত সচিবের মতো যাঁরা মনরেগা থেকে টাকা লুট করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণ হয়।’’এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি ৩২ লক্ষ ‘ফেক জব কার্ড’ তৈরি করা হয়েছে৷

এই দুর্নীতির মাধ্যমে কেন্দ্রের টাকা লুট হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু৷ তিনি বলেন, ‘‘যারা যারা টাকা তুলেছে, তারা দেশের টাকা লুটেছে৷ সম্পদ চুরি করেছে৷ ট্যাক্সের জিএসটির টাকা লুট করেছে৷ এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে যাতে কঠিন কঠোর ব্যবস্থা হয়, এই জন্যই দিল্লি যাত্রা।’’তবে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী গিরিরাজ সিং-এর সঙ্গে তাঁর দেখা করা হবে না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু৷ তিনি বলেন, ‘‘গিরিরাজ সিংহের দেখা করার প্রশ্ন নেই। উনি বাইরে থাকবেন বলে দিয়েছেন। কাল সন্ধে ৬ টায় এমওএস সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির সঙ্গে কৃষি ভবনে ওঁদের (তৃণমূল) সঙ্গে দেখা করবে। তার আগে আমার সঙ্গে মাননীয় এমওএস-এর মিটিং হবে। কৃষি ভবনে ৪টের সময়।

’’শুভেন্দুর দাবি,বহু অযোগ্যদের প্রথমে জব কার্ড প্রাপকের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে খতিয়ে দেখা যায়, এমন অনেকেই তালিকায় আছেন, যাঁদের জব কার্ড পাওয়ার কথাই নয়। তিনি জানান, যোগ্য জব কার্ড হোল্ডারদের নিয়েবিজেপির আপত্তি নেই। তবে বিজেপি যে কোনও রকমের ‘চুরি’ আটকাতে চায়। তাঁর দাবি, ১ কোটি ৩২ লক্ষ ফেক জব কার্ড হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তিনি জানান, ‘‘আমি দিল্লিতে গিয়ে সুনিশ্চিত করব ফেক জব কার্ডে যারা টাকা তুলেছেন তার যাতে আইনের আওতায় আসে৷

’’অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে দিল্লিতে তৃণমূলের ধরনার প্রথম দিনেই বাঁধে বিপত্তি৷ রাজঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের ধরনা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় দিল্লি পুলিশ৷ রাজঘাট চত্বরে র‍্যাফ মোতায়েন করে মূল গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সরে যাওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেয় দিল্লি পুলিশ৷কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের এই ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের সাংবাদিক সম্মেলনও মাঝপথে বন্ধ করে দেয় পুলিশ৷ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় নেতাদের৷ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়৷তবে আগামিতে কি হয় সে দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের মানুস।

বাংলায় সবার আগে পড়ুন ব্রেকিং নিউজ। থাকছে প্রতিদিনের খবরের লাইভ আপডেট। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাংলা খবর পড়ুন এই   NEWS UAP  পেজ এর ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *