মাথাভাঙ্গায় খুশির জোয়ার!

‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা পেলেন ১০ হাজারেরও বেশি উপভোক্তা
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, পারডুবি:,৩০শে জানুয়ারী ২০২৫:- গ্রামের সাধারণ মানুষের নিজস্ব পাকা বাড়ির স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি ‘বাংলার বাড়ি’ (গ্রামীণ) প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের অর্থ প্রদানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে এই ব্লকে মোট ১১,০৬৪ জন উপভোক্তা পাকা বাড়ি তৈরির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম দফায় ৯,৯৫৩ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পারডুবি সহ বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উপভোক্তাদের হাতে প্রতীকী অনুমোদনের প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবলু বর্মন সহ অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
টাকা পাওয়ার খবর পৌঁছাতেই খুশির হাওয়া ব্লকের প্রতিটি কোণায়। পারডুবির স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল বর্মন ও রামপ্রসাদ বাড়ই বলেন, “নিজেদের একটা পাকা বাড়ির স্বপ্ন বহুদিনের ছিল। আর্থিক অনটনের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। দিদির এই প্রকল্পের জন্য এবার আমরাও ইটের বাড়িতে থাকতে পারব। সরকারকে আমাদের অনেক ধন্যবাদ।”
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবলু বর্মন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলার চেহারা বদলে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের সাফল্যের পর দ্বিতীয় পর্যায়েও আমরা প্রতিটি যোগ্য উপভোক্তার কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে দায়বদ্ধ।” ব্লক প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, বাকি থাকা উপভোক্তাদের নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ হলেই তাঁদের অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

গাজোলে পানীয় জল পরিষেবা বন্ধের উপক্রম! বেতন না পেয়ে কর্মবিরতির পথে পাম্প অপারেটররা
গাজোল: এক দিন পাম্প না চললে এলাকায় জলের হাহাকার পড়ে যায়, আর সেই জল সরবরাহ চালু রাখাই যাঁদের কাজ, তাঁরাই এখন অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বকেয়া বেতনের দাবিতে বুধবার দুপুরে গাজোলের পিএইচই অফিস চত্বরে বিক্ষোভ দেখালেন চুক্তিভিত্তিক পাম্প অপারেটররা। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত এই কর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বেতন না পেলে তাঁরা পাম্প চালানো বন্ধ করে দেবেন।
গাজোল ব্লকে বর্তমানে ৬২ জন পাম্প অপারেটর রয়েছেন, যাঁদের ওপর নির্ভর করে হাজার হাজার মানুষের পরিশ্রুত পানীয় জলের জোগান। কর্মীদের অভিযোগ, কারও তিন মাস, কারও পাঁচ মাস, এমনকি কারও সাত মাস ধরে বেতন বাকি পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে হাড়ভাঙা খাটুনি দিলেও মাসের শেষে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন এই অস্থায়ী কর্মীরা।
এদিন গাজোলের পিএইচই পাম্প অপারেটর ইউনিয়নের নেতা মইনুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তিনি বলেন, “আমরা জেলার ইঞ্জিনিয়ারের কাছে দাবি জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। যদি ওই তারিখের মধ্যে টাকা অ্যাকাউন্টে না ঢোকে, তবে আমরা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হব। এর ফলে সাধারণ মানুষ জল না পেলে তার দায়ভার দপ্তরকেই নিতে হবে।” বেতনের পাশাপাশি অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
গাজোল ব্লকে আগামীতে আরও ২৫২টি নতুন ইউনিট চালু হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান কর্মীদের এই ক্ষোভ না মিটলে গোটা ব্লকের জল পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সরবরাহ করা জলের ওপর গাজোলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নির্ভরশীল। ফলে পাম্প অপারেটররা কর্মবিরতিতে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়বেন সাধারণ নাগরিক ও স্কুল-হাসপাতালগুলি।
এখন দেখার, ৫ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইনের মধ্যে প্রশাসন বকেয়া মিটিয়ে জল সঙ্কট রুখতে পারে কি না।