আমি ইডি দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে ইডি অফিসারদের চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি, আমার বিরুদ্ধে কিছু থাকলে আদালতে জমা দিন। কেউ বারণ করছে না।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ যদি আদালতে জমা দেয়, তাহলে আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দেবে না।তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কিছু থাকলে আদালতে জমা দিন, আমাকে গ্রেফতার করুন।
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসের বাইরে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক। হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন, প্রমাণ থাকলে গ্রেফতার করুক তদন্তকারী সংস্থা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইডির চার্জশিটে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের সঙ্গে অভিষেকের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। সেই নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই তৃণমূল সাংসদ জবাব, ‘তাহলে ইডিকে বলুন আমাকে গ্রেফতার করতে। ইডি ছাড়ছে কেন?’ ইডির প্রশ্নবাণ সামলে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে আরও আগ্রাসী মেজাজে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক। বললেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি, ক্ষমতা থাকলে, বুকে দম থাকলে আমাকে গ্রেফতার করুন।’ অভিষেকের বক্তব্য, তাঁকে গ্রেফতার করা হলে বয়ান আদালতে জমা দিতে হবে এবং তাহলেই সব স্পষ্ট হবে তিনি কোন তদন্তে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে কী বলেছেন।
এরপরই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ বললেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ থাকে, তাহলে ইডি আদালতে জমা দিচ্ছে না কেন? আদালত তো চাইছে। তদন্তকারী সংস্থার কাছে কী ট্রেল রয়েছে, তা আদালতে জমা দিতে বলা হচ্ছে। কে বারণ করছে ইডিকে? আমি ইডি দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে ইডি অফিসারদের চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি, আমার বিরুদ্ধে কিছু থাকলে আদালতে জমা দিন। কেউ বারণ করছে না।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ যদি আদালতে জমা দেয়, তাহলে আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দেবে না।তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কিছু থাকলে আদালতে জমা দিন, আমাকে গ্রেফতার করুন।’ অভিষেক ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়কেই ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তলব করেছে দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কতবার ডাকা হয়েছে অভিষেক ও রুজিরাকে, সেই হিসেব নিকেশও এদিন দেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, তিনি কখনও তদন্তকে এড়িয়ে যাননি। এদিনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন বলেই জানালেন তিনি। বললেন, ‘আমাকে টানা ৪৮ ঘণ্টা বা ৭২ ঘণ্টা বা ৯৬ ঘণ্টা জেরা করলেও আমার এতটুকু কিছু যায় আসে না।’ ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে ফেলুদা-জটায়ু জুটির কথাও বললেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ইডি-সিবিআইয়ের তদন্তপ্রক্রিয়া অনেকটা জটায়ুর দৃষ্টিভঙ্গির মতো। বললেন, ‘এরা আগে থেকে অপরাধী ঠিক করে নেয় মনে মনে।’ইডির অফিসে টানা ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের জিজ্ঞাসাবাদ সামলে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে ফেলুদা-জটায়ু জুটির কথাও বললেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, ইডি-সিবিআইয়ের তদন্তপ্রক্রিয়া অনেকটা জটায়ুর দৃষ্টিভঙ্গির মতো। বললেন, ‘এরা আগে থেকে অপরাধী ঠিক করে নেয় মনে মনে। ঠিক করে নেয় এই ব্যক্তি, বা এই মহিলা, বা এই যুবক-যুবতীর মাথার উপর চাপিয়ে দিতে হবে। তারপর অপরাধ সাজানোর চেষ্টা করে। সেই জন্য কোনওদিন সুরাহা হয় না।’ কিন্তু কেন হঠাৎ ফেলুদা ও জটায়ুর প্রসঙ্গ টানলেন অভিষেক? সত্যজিৎ রায়ের এক অনবদ্য সৃষ্টি হল প্রদোষ মিত্র ওরফে ফেলুদা। তাঁর মগজাস্ত্রের জোরে বড় বড় কেস সামলে দিয়েছেন। আর জটায়ু ওরফে লালমোহন গাঙ্গুলিও হলেন সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি করা আরও এক চরিত্র। রহস্য-রোমাঞ্চ লেখক জটায়ু। রহস্য-উন্মোচনে ফেলুদার অন্যতম সঙ্গী তিনি। যে কোনও বিষয়ে সেই জটায়ু ও ফেলুদার দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক বার বার উঠে এসেছে সত্যজিৎ রায়ের লেখায়। এদিন সেই প্রসঙ্গই টেনে আনেন অভিষেক। বললেন, একবার জটায়ু ফেলুদাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁরা দু’জনেই একই জিনিস দেখছেন। তারপরও ফেলুদা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীকে খুঁজে বের করতে পারছেন, কিন্তু তিনি কেন পারছেন না?
অভিষেক বললেন, জটায়ুর সেই প্রশ্নের উত্তরে ফেলুদা বলেছিলেন, তফাৎ দৃষ্টিভঙ্গির। দু’জনেই একই জিনিস দেখছেন, কিন্তু ফেলুদা আগে অপরাধ দেখেন তারপর অপরাধী খোঁজেন। কিন্তু জটায়ু মনে মনে আগে ঠিক করে নেন, কে অপরাধী, তারপর অপরাধ তাঁর উপর জোর জবরদস্তি চাপিয়ে দিতে চান।ইডি-সিবিআই দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গিও সত্যজিৎ রায় সৃষ্টি সেই জটায়ুর দৃষ্টিভঙ্গির মতো বলেই মনে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সুজয় ভদ্র সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, তাঁর সাহেব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সাহেবকে কেউ ছুঁতে পারবে না। সুজয়কৃষ্ণের সেদিনের মন্তব্য নিয়েও এদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিষেককে। জবাবে তৃণমূল সাংসদ বললেন, ‘এই যে ঢুকে বেরিয়ে এলাম। ছুঁতে পারল? ব্যাখ্যাটা এই অবধিই থাক।‘বুধবার ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি অফিসে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে ইডি-সিবিআই এর তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে কার্যত তুলোধনা করলেন অভিষেক।
এদিন সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের অতীতের একটি মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সুজয় ভদ্র সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, তাঁর সাহেব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সাহেবকে কেউ ছুঁতে পারবে না। সুজয়কৃষ্ণের সেদিনের মন্তব্য নিয়েও এদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল অভিষেককে। জবাবে তৃণমূল সাংসদ বললেন, ‘এই যে ঢুকে বেরিয়ে এলাম। ছুঁতে পারল? ব্যাখ্যাটা এই অবধিই থাক।’ যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ার সময়ে তিনি এও বলেন যিনি ওই মন্তব্য করেছেন অর্থাৎ সুজয় ভদ্র, তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, তিনি কোথাও পালিয়ে যাচ্ছেন না বা এড়িয়ে যাচ্ছেন না। বললেন, ‘আমাকে যতবার ডেকেছে, আমি এসেছি। আগের বছরও সেপ্টেম্বর মাসে এখানে এসেছিলাম। সিবিআই-ইডি অফিসে আসা প্রচলিত প্রথা হয়ে গিয়েছে। আবার দু’মাস পর কিংবা তিন মাস পর বা ১০ দিন পর ডাকবে। আবার আসব।’
এর পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি গ্রেফতার সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ। বললেন, ‘সুজয় ভদ্রের বিরুদ্ধে যা আছে, প্রমাণ দিক। আদালতে মামলা চলবে। আদালতে ইতিমধ্যেই মামলা বিচারাধীন।’ উল্লেখ্য, বুধবারও প্রায় ৯ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসাররা। অভিষেকের বক্তব্য, এই জিজ্ঞাসাবাদের নির্যাস ‘মাইনাস ২’। বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে জানিয়ে রাখলেন, ইডিকে দিয়ে তলব করিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল কিংবা ধূপগুড়ির উপনির্বাচনের ফল উল্টে ফেলা যাবে না।
