পুজো কি তবে জেলেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের?

১৫-১৬ জনের নাম চার্জশিটে আছে, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।”সওয়াল-জবাব চলাকালীন সিবিআই-এর আইনজীবী আদালতে জানান, শিক্ষা দফতরের সমস্ত বিষয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নখদর্পনে ছিল। তাহলে কীভাবে তিনি দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন?” পালটা বিচারক সিবিআই-কে বলেন,

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ “গত একবছর কাস্টডিতে। তিনি বয়স্ক, অসুস্থ। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিন পেলে তদন্ত থমকে যাবে, এমন কোনও ব্যপার নেই। বাকিদের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য কোথায়? পূর্বপুরুষের আমল থেকে তাঁর কলকাতায় বাস, তাই এই শহর ছেড়ে চল যাওয়ার কিছু নেই।”কলকাতা হাইকোর্টের পর ফের ধাক্কা! এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন খারিজ করল আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালত। এদিন মামলার শুনানিতে পার্থের আইনজীবি বলেন, ” বাগ কমিটির রিপোর্টে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল না।

এমন কী রিট পিটিশনেও নাম ছিল না। বাগ কমিটির রিপোর্টে যাঁকে অভিযুক্ত দেখানো হয়েছে, তাঁকে সিবিআই-এর দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে ২২ নম্বর সাক্ষী হিসাবে দেখানো হয়েছে। ১৫-১৬ জনের নাম চার্জশিটে আছে, কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।”সওয়াল-জবাব চলাকালীন সিবিআই-এর আইনজীবী আদালতে জানান, শিক্ষা দফতরের সমস্ত বিষয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নখদর্পনে ছিল। তাহলে কীভাবে তিনি দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন?” পালটা বিচারক সিবিআই-কে বলেন, ” চার্জশিটে তো একাধিক নাম আছে। তার মধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, কয়েকজনকে ধরেছেন। বাকিরা তো আকাশ উড়ছে।

একজন আছেন যার নাম এফআইআর-এ আছে। ফেরার নন। কিন্তু উনি তো বাইরে আছেন।”উল্লেখ্য, জামিন চেয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানির কথা ছিল ইডি বনাম পার্থের মামলার। মামলাটি যথাসময়ে শুনানির জন্যও ওঠে। কিন্তু শুনানি শুরু হতে না হতেই পিছিয়ে দেওয়া হয় মামলার তারিখ। আদালত জানিয়ে দেয়, বুধবার নয়, এক মাস পর আগামী ৯ অক্টোবর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জামিনের আবেদন শুনবে হাই কোর্ট। অন্যদিকে, এদিন সিবিআই বিশেষ আদালতেও খারিজ হল পার্থের জামিনের আবেদন। অক্টোবরে দুর্গাপুজো বাংলায়। ১৯ অক্টোবর পঞ্চমী। তার পাঁচ দিন আগেই শুনানি হবে পার্থের জামিনের মামলার। গত বছরের পুজো জেলেই কেটেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, আরও একটি পুজো কি জেলেই কাটতে চলেছে তাঁর?আলিপুর কোর্টের জেল লক আপে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ যদিও এই সাক্ষাৎকে নিছকই সৌজন্যমূলক বলে দাবি করেছেন শোভন৷ তবে শোভন- পার্থ সাক্ষাৎকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷

এ দিন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে পেশ করা হয়৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে যখন কোর্ট লক আপে নিয়ে আসা হয়, সেই সময় নিজের মামলা সংক্রান্ত প্রয়োজনে আলিপুর আদালতেই ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় কোর্ট লক আপে রয়েছেন শুনে সেখানে চলে আসেন শোভন৷ দূর থেকেই দু জনের মধ্যে কথা হয়৷ পার্থর শরীর কেমন আছে, তা জানতে চান প্রাক্তন মেয়র৷পার্থর সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে শোভন বলেন, ‘আবেগ না থাকলে তো মানুষই নই৷ উনি তো অভিযুক্ত, এখনও প্রমাণ হয়নি৷ ঢিল ছোড়া দূরত্বে বসেছিলাম, কিন্তু জানতাম না পার্থদা রয়েছেন৷’ তৃণমূলে থাকাকালীন শোভন ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক৷ পার্থ এখনও তার পাশের কেন্দ্র বেহালা পূর্বের বিধায়ক৷ শোভন যখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-র দিকে পা বাড়িয়েছেন, তখন দলের হয়ে তাঁকে বোঝাতে গিয়েছিলেন পার্থই৷

যদিও এ দিন পার্থ শোভন সাক্ষাৎ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ৷ তিনি বলেন, ‘পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে একা গিয়েছেন? না দু’জনে গিয়েছিলেন? নিজেই গেলেন? নাকি কেউ পাঠাল? পাশাপাশি বিধানসভা এলাকা ছিল। দেখা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত কৌতুহল আছে৷ বাকি কিছু জানিনা৷

তাঁর সঙ্গে পার্থর এই সাক্ষাৎ নিয়ে যে বিতর্ক হতে পারে, তা ভাল ভাবেই জানেন শোভন৷ সম্ভবত সেই কারণেই তিনি বলেন, ‘পয়তাল্লিশ বছরের সম্পর্ক৷ দেখা করাটা যদি অপরাধ হয়, তাহলে দেখা না করাটাও অপরাধ৷’ শোভন চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পার্থ কি পরিস্থিতির শিকার?’ শোভন বলেন, ‘পরিস্থিতির শিকার তো অবশ্যই৷নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিন অধরা এখনও। একবছর হয়ে গিয়েছে এখনও জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মাঝে বেশ কয়েকবার নানাররকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে বারবারই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আইনজীবীর তরফে জামিনের আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবী। এবার আদালতে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নজিরবিহীন দাবি করে বসলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলে রীতিমতো অ্য়াসিস্ট্যান্ট চেয়ে এবার বিচারপতির কাছে আর্জি জানালেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।আদালতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর সওয়াল, ‘আমার শরীর ভাল যাচ্ছে না, অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকলে ভাল হয়’। তাঁর কথায়, “দিনের পর দিন শরীর খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে। জেলে যদি একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট দেওয়া যায়।” বিচারক উত্তরে বলেন, “সেটা জেল ম্যানেজমেন্ট ঠিক করবে।” এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আপনি বলে দিলে হয়ে যাবে ।”পার্থ আরও যোগ করেন, “বাগ কমিটির রিপোর্ট দুই কোর্টই মেনেছে। এরা তা ফলো করছে না কেন…” যার প্রতিক্রিয়ায় বিচারক বলেন, “সেটা এখন বলে কী হবে।” নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগামী ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত পার্থকে জেল হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এদিকে আজ আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এদিন এসএসসি নিয়োগ মামলায় জানায়, নাকতলার বাড়িতে বসেই লিস্ট বা তালিকা তৈরি করতেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে আজ এমনই দাবি জানাল সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, SSC নিয়োগ দুর্নীতিতে কাকে কাকে চাকরি দিতে হবে তার তালিকা তৈরি হয়েছিল খোদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতার বাড়ি থেকেই। তালিকায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে। আদালতে এই দাবি করল CBI। তাদের দাবি, অবাধে দুর্নীতি করতে নিজের পছন্দের লোকদের বিভিন্ন পদে বসিয়েছিলেন পার্থ।আরও একটি পুজো কি তবে জেলেই? পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন খারিজ বিশেষ সিবিআই আদালতে , কলকাতা হাই কোর্টের পর এবার সিবিআই আদালতেও ধাক্কা খেলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *