চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার সফলভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রজ্ঞান রোভার বিক্রম ল্যান্ডারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে এবং চাঁদে তদন্ত শুরু করবে। এই সব কিছুই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হয়ে চলেছে।এবার শুরু হবে আসল কাজ’-জানালেন ইসরো প্রধান এস সোমানাথ
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ তখনও ৬টা বাজেনি। আমাদের চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার ক্রমশ নামছে। চাঁদের মাটির সঙ্গে দূরত্ব কমতে কমতে যখন আর দু’কিলোমিটার বাকি, না চাইতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। চার বছর আগে ঠিক এই পর্যায়ে এসেই তো থমকে গিয়েছিল আমাদের সব স্বপ্ন। ২.২ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছনোর পরেই ল্যান্ডার থেকে আর কোনও সিগন্যাল আসছিল না। চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। চাঁদের বুকে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে গিয়েছিল আমাদের যত্নে লালিত সেই ল্যান্ডার। সেই স্মৃতি যেন আমার অবচেতনে এখনও টাটকা ছিল। এ বার তাই সেই পর্যায়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠেছিলাম মনে মনে।কিন্তু সে সব অতীত। আমাদের বিক্রম (ল্যান্ডার) চাঁদে পা রেখেছে। আর দ্বিমত নেই। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে আমরাই প্রথম।অতঃপর ইতিহাস গড়ল ভারত। 23 অগস্ট, বুধবার চাঁদের মাটিতে সফ্ট ল্যান্ডিং করল চন্দ্রযান-3।
কথা মতোই এদিন সন্ধে 6টা 4-এ চাঁদের মাটি স্পর্শ করল মহাকাশযানটি। এককথায় হাতের মুঠোয় চাঁদ ধরে ফেলল ভারত। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রাখল ভারত।সেই মাহেন্দ্রক্ষণ থেকে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরে আমরা। 23 অগস্ট, বুধবার চাঁদের মাটিতে সফ্ট ল্যান্ডিং অর্থাৎ পাখির পালকের মতো অবতরণ করবে চন্দ্রযান-3। এদিন সন্ধে 6টা 4-এ চাঁদের মাটি স্পর্শ করার কথা ইসরোর মহাকাশযানটির। ISRO জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পদার্পণ করবে চন্দ্রযান-3। চার বছর আগে চন্দ্রযান-2 এর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে আঁটঘাট বেঁধেই নেমেছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। তবে ল্যান্ডিংয়ের জন্য চন্দ্রযান-3 বিক্রম ল্যান্ডারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল সঠিক জায়গা খুঁজে বের করা।
এর আগে ইসরোর তরফে জানানো হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে কোনও সমস্যা দেখা দিলে চন্দ্রযান-3 অবতরণ 23 অগস্ট থেকে পিছিয়ে 27 অগস্ট করা হবে। কিন্তু তেমনটা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছে দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। ঠিক যে সময়ে অবতরণ করার কথা, সেই সময়েই চাঁদের মাটি ছুয়ে ফেললো চন্দযান৩।ভারতের চন্দ্রযান-3-এর বিক্রম ল্যান্ডার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করতে সফল হয়েছে। চাঁদের এই অংশে পৌঁছানো প্রথম দেশ হয়ে উঠেছে ভারত। আজ পর্যন্ত কেউ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যেতে পারেনি। বিক্রম ল্যান্ডারের সফল সফট ল্যান্ডিংয়ের পর প্রথম ছবি শেয়ার করেছে ISRO। টুইট করে লিখেছে, “চন্দ্রযান-3-এর ল্যান্ডার এবং বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এই ছবিগুলি ল্যান্ডারের ক্যামেরা থেকে তোলা হয়েছে।”রোভার প্রজ্ঞান শীঘ্রই ল্যান্ডারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে
চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার সফলভাবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করেছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রজ্ঞান রোভার বিক্রম ল্যান্ডারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসবে এবং চাঁদে তদন্ত শুরু করবে। এই সব কিছুই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হয়ে চলেছে।এবার শুরু হবে আসল কাজ’-জানালেন ইসরো প্রধান এস সোমানাথ
চন্দ্রযান-3-এর চাঁদের মাটি স্পর্শ করার পর ইসরো প্রধান এস সোমানাথ বলেছেন, “সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল উৎক্ষেপণ, অবতরণ এবং চাঁদের কক্ষপথ পেরনো। এবার শুরু হবে আসল কাজ। ল্যান্ডারটির স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা হবে। আর আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোভারটি ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসবে। ল্যান্ডিং-এর বেগ প্রতি সেকেন্ডে 2 মিটার করা হয়েছিল। চাঁদে ল্যান্ডার এবং রোভারের যন্ত্রগুলি পরবর্তী 14 দিন বিভিন্ন পরীক্ষা করবে। সেগুলোই আমাদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ।এ এক অনন্য অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম, চিন্তা, চেষ্টা আর অনেক পরিকল্পনার যোগফল যেন আমাদের এই সাফল্য। আমি এবং আমার প্রত্যেক সহকর্মী এত দিন এই আনন্দভরা সন্ধ্যাটার জন্যেই তো অপেক্ষা করে ছিলাম! চাঁদের বুকে দেখতে চেয়েছিলাম ঠিক এমনই একটা ভোর। এখনও পর্যন্ত চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৃথিবীর আর কোনও দেশ যেতে পারেনি।
রাশিয়া কিছু দিন আগে চেষ্টা করেছিল বটে, কিন্তু ওরা ব্যর্থ হয়েছে। আমরাই প্রথম চাঁদের ‘কুমেরু’ জয় করলাম।চাঁদের উপরে ৩০ কিলোমিটারের কক্ষপথে আগেই পৌঁছে গিয়েছিল বিক্রম। আমাদের অফিস থেকে সারা ক্ষণ তার দিকে নজর রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে একটা যন্ত্র কোন পরিস্থিতির মুখে পড়বে, কী করবে, তার অধিকাংশই আর হাতে থাকে না। সকলে তাই ২৩ তারিখের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। দিন ঘনিয়ে এল। আমাদের উত্তেজনাও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল। বুধবার সকাল থেকে এখানে আমরা সবাই স্বাভাবিকই ছিলাম। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই চারপাশে যেন চাপা একটা উত্তেজনা চোখে পড়ছিল। মুখে কেউ কিছুই বলছে না। অথচ, সকলের মধ্যে যেন একটা ‘কী হয়, কী হয়’ চাঞ্চল্য।
আমরা যে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তা কিন্তু নয়। কারণ, এত দিন ধরে এত রকম ভাবে আমরা যে সাফল্যের প্রস্তুতি নিয়েছি, তার উপর ভরসা ছিল। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। অনেক রকম প্রতিকূলতা কল্পনা করে আগে থেকে বিকল্প প্রস্তুত করে রেখেছি। সিস্টেমেও কোথাও কোনও ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। ফলে আমাদের অভিযান যে সফল হবে, সে বিষয়ে আশাবাদী ছিলাম প্রথম থেকেই।অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কী বললেন?
ISRO-র বিজ্ঞানীদের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর। এরকম ইতিহাস তৈরি দেখতে পারলে জীবন ধন্য হয়ে যায়। তিনি জানান, চাঁদের মাটিতে ভারত পা রেখেছে। এরকম ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের চিরদিনের চেতনা হয়ে থেকে যায়। এই মুহূর্ত অবিস্মরণীয়, অভূতপূর্ব। এটা গর্বের। গোটা দুনিয়া আজ আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।চাঁদের পাহাড়’-এ সফল অবতরণ ভারতের চন্দ্রযান-৩-এর
সময়ের আগেই চাঁদের মাটিতে পা রাখল চন্দ্রযান-৩। বর্তমানে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রয়েছে যানটি। ইসরো প্রধান এস সোমনাথ চাঁদে চন্দ্রযান-৩ এর সফল সফট ল্যান্ডিং নিয়ে বলেছেন, “এই মুহূর্তে চাঁদের দক্ষিন মেরুতে রয়েছে চন্দ্রযান-৩।”দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ISRO-র ওয়াররুমে যোগদান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
বিক্রমের উচ্চতা ক্রমাগত কমে আসছে। চাঁদের মাটি আর কিছুটা দুরে। 1.8 কিলোমিটার দূরেই রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। আর সেই সঙ্গে এগিয়ে চলেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর দিকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই চন্দ্রযান-3 লাইভ দেখছেন চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জ়িনপিং।
