অবাক হবেন অমরনাথেরআসল কাহিনী জানলে

১৮৪২ সালে ব্রিটিশ পরিব্রাজক জিটি ভেগনের লেখা গ্রন্থেও রয়েছে অমরনাথের হিম লিঙ্গের উল্লেখ।
আবুল ফজলের লেখা আকবরের জীবনী ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থের ৩৬০ নম্বর পাতায় রয়েছে অরনাথের শিবলিঙ্গের বিস্তারিত বর্ণনা

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ অমরনাথের গুহায় শিবলিঙ্গ আবিষ্কার করেছিলেন হিন্দু নয়, এক মুসলিম মেষ পালক। নাম বুটা মালিক। জানা যায়, পাহাড়ের গায়ে এক মুসলিম মেষপালক পশুচারণ করতে গিয়ে পাহাড়ের গুহায় তুষারের শিবলিঙ্গ দেখে পান। তাঁর প্রথম মহাদেব সাক্ষাত্ পাওয়ার পর ব্যপকভাবে প্রচার পায়। তারপর থেকে প্রায় দেড়শো বছর ধরে অমরনাথের পুজোর মন্ত্র ও পৌরাহিত্য করতেন। অনেকেই মনে করেন, অমরনাথ যাত্রায় বুটা মালিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করলে যাত্রা অসম্পূর্ণ।

মন্ত্র পড়িয়ে পুজো করিয়ে বহু দর্শনার্থীদের যাত্রা করিয়েছেন ওই সংখ্যালঘু পরিবার।মেষপালক বুটা মালিকের যে গল্প এতদিন প্রচার করা হত তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বলা হয় বুটা মালিক নাকি ১৮৫০ সালে প্রথম অমরনাথে শিবলিঙ্গ দেখতে পান। কিন্তু ঘটনা হল ১৮৫০ সালের আগে রচিত একাধিক গ্রন্থে অমরনাথ যাত্রা হিম শিবলিঙ্গের উল্লেখ রয়েছে। ৫ম শতকে লেখা লিঙ্গ পুরাণে অমরনাথের হিম লিঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই গ্রন্থের ১২তম অধ্যায়ের ৪৮৭ নম্বর পাতায় ১৫১তম শ্লোকটি নিবেদন করা হয়েছে অমরনাথ যাত্রার উদ্দেশ্যে।

১২ শতকে কলহন রচনা করেন কাশ্মীরের ইতিহাস ‘রাজ তরঙ্গিনী’। এই গ্রন্থেও রয়েছে অমরনাথের উল্লেখ। এই গ্রন্থের ২৮০ পাতায় লেখা ২৬৭ নম্বর শ্লোকটিতে রয়েছে অমরনাথ যাত্রার উল্লেখ।
১৭ শতকে লেখা ঔরঙ্গজেবের ফরাসি ডাক্তার ফ্রাঙ্কোইস বার্নারের লেখা গ্রন্থে এর উল্লেখ রয়েছে। এই গ্রন্থের ৪৮০ নম্বর পাতায় অমরনাথ যাত্রা এবং এখানকার হিম লিঙ্গের প্রতি হিন্দুদের আস্থার কথা বর্ণিত রয়েছে।
১৮৪২ সালে ব্রিটিশ পরিব্রাজক জিটি ভেগনের লেখা গ্রন্থেও রয়েছে অমরনাথের হিম লিঙ্গের উল্লেখ।
আবুল ফজলের লেখা আকবরের জীবনী ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থের ৩৬০ নম্বর পাতায় রয়েছে অরনাথের শিবলিঙ্গের বিস্তারিত বর্ণনা।

ছয় হাজার ফুট উচ্চতা ও অত্যন্ত দুর্গম যাত্রা হলেও প্রতি বছর অমরনাথ যাত্রায় (Amarnath Yatra) লক্ষ লক্ষ মানুষ সামিল হোন। হিন্দুদের কাছে অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হল এই অমরনাথ মন্দির। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষ এই যাত্রায় যুক্ত হোন দেশ-বিদেশের ভক্তরা। গ্রীষ্মের সময় খুব কম সময়ের জন্য হলেও এই যাত্রা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অমরনাথ গুহার ভিতরে জল চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে সেই জল জমে শিবলিঙ্গের আকার ধারণ করে। প্রায় ৫ হাজার বছরের বেশি পুরনো পবিত্র গুহার রয়েছে অনেক লোককথা ও রহস্য। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, প্রাচীন কালে মহর্ষি ভৃগু প্রথম তুষারলিঙ্গ দেখতে পান।আধ্যাত্মিক তৃপ্তি পেতে অনেক পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেছিলেন। হিমালয় যাত্রার সময় তিনি বাবা অমরনাথ গুহার দর্শন পেয়েছিলেন। আর সেই থেকেই যাত্রা ও প্রচার শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *