আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতে—আমাদের কি প্রয়োজন ? বৈদেশিকগণের যদি এই সকল বিষয়ের প্রয়োজন থাকে, তবে আমাদের বিশগণ প্রয়োজন আছে। কারণ আমাদের উপনিষদ্, যতই বড় হউক, অন্যান্য জাতির সহিত তুলনায় আমাদের পূর্বপুরুষ ঋষিগণ যতই বড় হউন, আমি তোমাদিগকে স্পষ্ট ভাষায় বলিতেছি— আমরা দুর্বল, অতি দুর্বল। প্রথমতঃ আমাদের শারীরিক দৌর্বল্য—এই শারীরিক দৌর্বল্য আমাদের অন্ততঃ এক-তৃতীয়াংশ দুঃখের কারণ। আমরা অলস, আমরা কাজ করিতে পারি না; আমরা একসঙ্গে মিলিতে পারি না; আমরা পরস্পরকে ভালবাসি না ; আমরা ঘোর স্বার্থপর; আমরা তিন জন এক সঙ্গে মিলিলেই পরস্পরকে ঘৃণা করিয়া থাকি, ঈর্ষা করিয়া থাকি। আমাদের এখন এই অবস্থা—আমরা অতিশয় বিশৃঙ্খলভাবাপন্ন, ঘোর স্বার্থপর হইয়া পড়িয়াছি— শত শত শতাব্দী যাবৎ এই লইয়া বিবাদ করিতেছি—তিলক ধারণ এইভাবে করিতে হইবে, কি ঐভাবে। কোন মানুষের দৃষ্টিতে আমার খাওয়া নষ্ট হইবে কিনা—এই ধরনের গরেতের সমস্যার উপর বড় বড় বই লিখিতেছি। যে-জাতির মস্তিষ্কের সমদেয় শক্তি এইরূপ অপর্বে সন্দর সন্দর সমস্যার গবেষণায় নিযুক্ত, সে জাতির নিকট হইতে বড় রকমের একটা কিছ, আশা করা যায় না, এর,প আচরণে আমাদের লজ্জাও হয় না ! হাঁ, কখন কখন লজ্জা হয় বটে, কিন্তু, আমরা যাহা ভাবি, তাহা করিতে পারি না । আমরা ভাবি অনেক কিছ,, কিন্তু কাজে পরিণত করি না। এইরূপে তোতাপাখি মতো কথা বলা আমাদের অভ্যাস হইয়া গিয়াছে— আচরণে আমরা পশ্চাৎপদ ।

ইহার কারণ কি? শারীরিক দুর্বলতাই ইহার কারণ। দুর্বল মস্তিষ্ক কিছ, করিতে পারে না ; আমাদিগকে সবলমস্তিষ্ক হইতে হইবে– আমাদের যুবকগণকে প্রথমতঃ সবল হইতে হইবে, ধর্ম’ পরে আসিবে। হে আমার যুবক বন্ধুগণ, তোমরা সবল হও— তোমাদের নিকট ইহাই আমার বক্তব্য। গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের আরও নিকটবর্তী হইবে। আমাকে অতি সাহসপূর্বক এই কথাগুলি বলিতে হইতেছে ; কিন্তু, না বলিলেই নয়। আমি তোমাদিগকে ভালবাসি । আমি জানি, সমস্যা কি—কাঁটা কোথায় বিধিতেছে। আমার কিছু অভিজ্ঞতা আছে। তোমাদের বলি, তোমাদের শরীর একটা, শক্ত হইলে তোমরা গীতা আরও ভাল বুঝিবে। তোমাদের রক্ত একট, তাজা হইলে তোমরা শ্রীকৃষ্ণের মহতী প্রতিভা ভাল করিয়া বুঝিতে পারিবে।

…….. তোমরা কি আমার কথায় বিশ্বাস করিবে ?—আমরা ইংরেজ নরনারী অপেক্ষা কম বিশ্বাসী, হাজারগুণে কম বিশ্বাসী। আমাকে স্পষ্ট কথা বলিতে হইতেছে, কিন্তু, না বলিয়া উপায় নাই। তোমরা কি দেখিতেছ না, ইংরেজ নরনারী যখন আমাদের ধর্ম তত্ত্ব একটু আধট, বা ঝিতে পারে, তখন তাহারা যেন উহাতে মাতিরা উঠে, আর যদিও তাহারা রাজার জাতি, তথাপি স্বদেশের লোকের উপহাস ও বিদ্রূপ উপেক্ষা করিয়া ভারতে আমাদের ধর্ম প্রচার করিতে আসিয়া থাকে? তোমাদের মধ্যে কয়জন এরূপ করিতে পারো? কথাটি একবার ভাবিয়া দেখ। আর কেন তোমরা ইহা করিতে পার না? জান না বলিয়া যে করিতে পার না—তাহা নয়, তাহাদের অপেক্ষা তোমরা বেশী জানো, সেই জন্যেই তোমরা কাজ করিতে পার না। যতটা জানিলে তোমাদের পক্ষে কল্যাণ, তোমরা তাহা অপেক্ষা বেশী জানো—ইহাই তোমাদের মুশকিল । তোমাদের রক্ত পাতলা, তোমাদের মস্তিষ্ক আবিলতাপূর্ণ ও অসাড়, তোমাদের শরীর দুর্বল। শরীরের এ অবস্থা পরিবর্তন করিতে হইবে। শারীরিক দৌর্বল্যই সকল অনিষ্টের মূলে, আর কিছু নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *