আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ এখানে ঐরূপ অনুভূতি হবে। যার হয় না, সে জানবি এখানকার লোক নয়। কত লোক হুজুগে মেতে এসে আবার যে পালিয়ে যায়, উহাই তার কারণ। ব্রহ্মচর্যবিহীন, দিনরাত অর্থ অর্থ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমন সব লোকে এখানকার ভাব কখনো বুঝতে পারবে না, কখনো মঠের লোককে আপনার বলে মনে করবে না। এখানকার সন্ন্যাসীরা সেকেলে, ছাই-মাখা, মাথায় জটা, চিমটে হাতে, ঔষধ-দেওয়া সন্ন্যাসীদের মতো নয় ; তাই লোকে দেখে শুনে কিছুই বুঝতে পারে না। আমাদের ঠাকুরের চালচলন, ভাব সকলই নতুন ধরনের ছিল—তাই আমরাও সব নতুন রকমের ; কখনো সেজে গুজে ‘বক্তৃতা’ দিই, আবার কখনো ‘হর হর ব্যোম ব্যোম’ বলে ছাই মেখে পাহাড়-জঙ্গলে ঘোর তপস্যায় মন দিই !

শুধু সেকেলে পাজি-পুঁথির দোহাই দিলে এখন আর কি চলে রে ? এই পাশ্চাত্য সভ্যতার উদ্বেল প্রবাহ তর তর করে এখন দেশ জুড়ে বয়ে যাচ্ছে। তার উপযোগিতা একটুও প্রত্যক্ষ না করে কেবল পাহাড়ে বসে ধ্যানস্থ থাকলে এখন আর কি চলে? এখন চাই গীতায় ভগবান যা বলেছেন— প্রবল কর্মযোগ—হৃদয়ে অসীম সাহস, অমিত বল পোষণ করা। তবে তো দেশের লোকগুলো সব জেগে উঠবে, নতুবা ‘তুমি যে তিমিরে’, তারাও সেই তিমিরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *