আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বামীজী রণদাবাবুকে বলিতে লাগিলেন, “পৃথিবীর প্রায় সকল সভ্য দেশের শিল্প-সৌন্দর্য দেখে এলুম, কিন্তু বৌদ্ধধর্মের প্রাদুর্ভাবকালে এদেশের শিল্পকলার যেমন দেখা যায়, তেমনি আর কোথাও দেখলুম না। মোগল বাদশাহের সময়েও ঐ বিদ্যার বিশেষ বিকাশ হয়েছিল; সেই বিদ্যার কীর্তিস্তম্ভরূপে আজও তাজমহল, জুম্মা মসজিদ প্রভৃতি ভারতবর্ষের বুকে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
“মানুষ নিজে যে, জিনিসটি তৈরি করে, তাতে কোন একটা idea express (মনোভাব প্রকাশ) করার নামই art (শিল্প)। যাতে idea-র (ঐরূপ ভাবের) expression (প্রকাশ) নেই, রং-বেরঙের চাকচিক্য পরিপাটি থাকলেও তাকে প্রকৃত art (শিল্প) বলা যায় না। ঘটি, বাটি, পেয়ালা প্রভৃতি নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলিও ঐরূপে বিশেষ কোন ভাব প্রকাশ করে তৈরি হওয়া উচিত।

শিষ্য।…. মহাশয়, এই উদ্দাম উন্মত্ত মনকে ব্রহ্মাবগাহী করা মহা কঠিন।
স্বামীজী। ……বীরের কাছে আবার কঠিন বলে কোন জিনিস আছে? কাপুরুষেরাই ওকথা বলে। “বীরাণামের করতলগতা মুক্তিঃ ন পুনঃ কাপুরুষাণাম্।”

তবে নানা পথ—নানা মত। জীবের পারমার্থিক স্বরূপ ব্রহ্ম হলেও মনরূপ উপাধিতে অভিমান থাকায় সে হরেক রকম সন্দেহ, সংশয়, সুখ, দুঃখ ভোগ করে। কিন্তু নিজের স্বরূপলাভে আব্রহ্মস্তম্ব পর্যন্ত সকলেই গতিশীল। যতক্ষণ না ‘অহং ব্রহ্ম’ এই তত্ত্ব প্রত্যক্ষ হবে ততক্ষণ এই জন্মমৃত্যুগতির হাত থেকে কারুরই নিস্তার নেই। মানুষজন্ম লাভ করে মুক্তির ইচ্ছা প্রবল হলে ও মহাপুরুষের কৃপালাভ হলে, তবে মানুষের আত্মজ্ঞানস্পৃহা বলবতী হয়। নতুবা কাম-কাঞ্চন-জড়িত লোকের ওদিকে মনের গতিই হয় না। মাগ-ছেলে, ধন-মান লাভ করবে বলে মনে যার সঙ্কল্প রয়েছে, তার কি করে ব্রহ্ম-বিবিদিষা হবে ? যে সব ত্যাগ করতে প্রস্তুত, যে সুখ-দুঃখ ভালমন্দের চঞ্চল প্রবাহে ধীর, স্থির, শাস্ত, সমনস্ক, সে-ই আত্মজ্ঞানলাভে যত্নপর হয়। সেই “নির্গচ্ছতি জগজ্জালাৎ পিঞ্জরাদিব কেশরী ” – মহাবলে জগজ্জাল ছিন্ন করে মায়ার গণ্ডি ভেঙে সিংহের মতো বেরিয়ে পড়ে।

বৈরাগ্য না এলে, ত্যাগ না এলে, ভোগস্পৃহাত্যাগ না হলে কি কিছু হবার জো আছে—“ সে যে ছেলের হাতের মোয়া নয় যে, ভোগা দিয়ে কেড়ে খাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *