আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ শিষ্য। ……এমন কিন্তু দেখিয়াছি মহাশয়, ধর্মের দিকে একটু ঝোঁক হইলেই লোকে আগে মাছমাংস ছাড়িয়া দেয়। অনেকের চক্ষে ব্যভিচারাদি গুরুতর পাপ অপেক্ষাও যেন মাছমাংস খাওয়াটা বেশি পাপ!—এ ভাবটা কোথা হইতে আসিল ?
স্বামীজী। …..কোত্থেকে এল, তা জেনে তোর দরকার কি? তবে ঐ মত ঢুকে যে তোদের সমাজের ও দেশের সর্বনাশ সাধন করেছে, তা তো দেখতে পাচ্ছিস ? দেখ না—তোদের পূর্ববঙ্গের লোক খুব মাছমাংস খায়, কচ্ছপ খায়, তাই তারা পশ্চিমবাংলার লোকের চেয়ে সুস্থ শরীর। তোদের পূর্ববাংলার বড় মানুষেরাও এখন রাত্রে লুচি বা রুটি খেতে শেখেনি। তাই আমাদের দেশের লোকগুলোর মতো অম্বলের ব্যারামে ভোগে না। শুনেছি, পূর্ববাংলার পাড়াগায়ে লোকে অম্বলের ব্যারাম কাকে বলে, তা বুঝতেই পারে না ।
শিষ্য। …….আজ্ঞে হাঁ। আমাদের দেশে অম্বলের ব্যারাম বলিয়া কোন ব্যারাম নাই। এদেশে আসিয়া ঐ ব্যারামের নাম শুনিয়াছি। দেশে আমরা দুবেলাই মাছ ভাত খাইয়া থাকি।
স্বামীজী।….. তা খুব খাবি। ঘাসপাতা খেয়ে যত পেটরোগা বাবাজীর দলে দেশ ছেয়ে ফেলেছে। ওসব সত্ত্বগুণের চিহ্ন নয়, মহা তমোগুণের ছায়া—মৃত্যুর ছায়া। চিহ্ন হচ্ছে—মুখে উজ্জ্বলতা, হৃদয়ে অদম্য উৎসাহ, tremendous activity ; আর তমোগুণের লক্ষণ হচ্ছে—আলস্য, জড়তা, মোহ, নিদ্রা—এই সব ।
শিষ্য। …..কিন্তু মহাশয়, মাছমাংসে তো রজোগুণ বাড়ায়। স্বামীজী। আমি তো তাই চাই। এখন রজোগুণেরই দরকার। দেশের যেসব লোককে এখন সত্ত্বগুণী বলে মনে কচ্ছিস—তাদের ভেতর পনর-আনা লোকই ঘোর তমোভাবাপন্ন। এক-আনা লোক সত্ত্বগুণী মেলে তো ঢের! এখন চাই—প্রবল রজোগুণের তাণ্ডব উদ্দীপনা। দেশ যে ঘোর তমসাচ্ছন্ন, দেখতে পাচ্ছিস না ? এখন দেশের লোককে মাছমাংস খাইয়ে উদ্যমী করে তুলতে হবে, জাগাতে হবে, কার্য-তৎপর করতে হবে। নতুবা ক্রমে দেশসুদ্ধ লোক জড় হয়ে যাবে, গাছ-পাথরের মতো জড় হয়ে যাবে। তাই বলছিলুম মাছমাংস খুব খাবি। শিষ্য। কিন্তু মহাশয়, মনে যখন সত্ত্বগুণের অত্যন্ত স্ফূর্তি হয়,তখন মৎস্য-মাংসে স্পৃহা থাকে কি?
স্বামীজী।…… না. তা থাকে না। সত্ত্বগুণের যখন খুব বিকাশ হয় তখন মাছমাংসে রুচি থাকে না। কিন্তু সত্ত্বগুণ প্রকাশের এইসব লক্ষণ জানবি—পরের জন্য সর্বস্ব-পণ, কামিনী-কাঞ্চনে সম্পূর্ণ অনাসক্তি, নিরভিমানিত্ব, অহংবুদ্ধিশূন্যত্ব। এইসব লক্ষণ যার হয়, তার আর animal-food-এর (আমিষাহারের) ইচ্ছা হয় না। আর যেখানে দেখবি, মনে ঐ সব গণের স্ফূর্তি নেই অথচ অহিংসার দলে নাম লিখিয়েছে—সেখানে জানবি হয় ভণ্ডামি, না হয় লোকদেখানো ধর্ম। তোর যখন ঠিক ঠিক সত্ত্বগুণের অবস্থা হবে তখন আমিষাহার ছেড়ে দিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *