গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বামীজী।… দূর মূর্খ শক্তি-ফক্তি কেউ কি দেয় ? ও তোর ভেতরেই রয়েছে ; সময় হলেই আপনা-আপনি বেরিয়ে পড়বে। তুই কাজে লেগে যা না ; দেখবি এত শক্তি আসবে যে সামলাতে পারবিনি। পরার্থে এতটুকু কাজ করলে ভেতরের শক্তি জেগে ওঠে ; পরের জন্য এতটুকু ভাবলে ক্রমে হৃদয়ে সিংহবলের সঞ্চার হয়। তোদের এত ভালবাসি, কিন্তু ইচ্ছা হয় তোরা পরের জন্য খেটে খেটে মরে যা—আমি দেখে খুশি হই ।
স্বামীজী। …ত্যাগই হচ্ছে আসল কথা—ত্যাগী না হলে কেউ পরের জন্য ষোল আনা প্রাণ দিয়ে কাজ করতে পারে না। ত্যাগী সকলকে সমভাবে দেখে—সকলের সেবায় নিযুক্ত হয়। বেদান্তেও পড়েছিস, সকলকে সমানভাবে দেখতে হবে ; তবে একটি স্ত্রী ও কয়েকটি ছেলেকে বেশী আপনার বলে ভাববি কেন ? তোর দোরে স্বয়ং নারায়ণ কাঙালবেশে এসে অনাহারে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে রয়েছেন। তাঁকে কিছু না দিয়ে খালি নিজের ও নিজের স্ত্রী-পুত্রদেরই উদর নানাপ্রকার চর্ব্য-চূষ্য দিয়ে পূর্তি করা—সে তো পশুর কাজ ।
শিষ্য। …….মহাশয়, পরার্থে কার্য করিতে সময়ে সময়ে বহু অর্থের প্রয়োজন হয় । তাহা কোথায় পাইব ?
স্বামীজী। বলি, যতটুকু ক্ষমতা আছে ততটুকুই আগে কর না। পয়সার অভাবে যদি কিছু নাই দিতে পারিস—একটা মিষ্টি কথা বা দুটো সৎ উপদেশও তো তাদের শোনাতে পারিস। না—তাতেও তোর টাকার দরকার ?
শিষ্য। …আজ্ঞে হাঁ, তা পারি।
স্বামীজী।… ‘হাঁ পারি’ কেবল মুখে বললে হচ্ছে না। কি পারিস—তা কাজে আমায় দেখা, তবে তো জানব আমার কাছে আসা সার্থক। লেগে যা, কদিনের জন্য জীবন ? জগতে যখন এসেছিস, তখন একটা দাগ রেখে যা। নতুবা গাছপাথরও তো হচ্ছে মরছে—ঐরূপ জন্মাতে মরতে মানুষের কখনো ইচ্ছা হয় কি ? আমায় কাজে দেখা যে, তোর বেদান্তপড়া সার্থক হয়েছে। সকলকে এই কথা শোনাগে— ‘তোমাদের ভেতর অনন্ত শক্তি রয়েছে, সে শক্তিকে জাগিয়ে তোল।’ নিজের মুক্তি নিয়ে কি হবে ?—মুক্তিকামনাও তো মহা স্বার্থপরতা। ফেলে দে ধ্যান, ফেলে দে মুক্তি-যুক্তি। আমি যে কাজে লেগেছি সেই কাজে লেগে যা।
