নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ লাগামছাড়া বর্ষার দাপটে তোলপাড় আবহাওয়া, জুলাই মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত একাধিক রাজ্যের আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে চরম বিপদের ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন বা আইএমডি৷ফের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস! জারি হলুদ সতর্কতা! দেখে নিন কোন কোন জায়গায়।কেন্দ্রীয় মৌসম ভবনের পক্ষ থেকে জানান যে কর্ণাটকের মালাড অঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির দাপট বাড়বে৷ সেখানে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ দক্ষিণ কর্ণাটকের উদূপী, চিকমাগালুরু, কোডাগু, শিভমোগা-সহ একাধিক জেলায় মাঝারি মাপের বৃষ্টি হবে৷
আবহাওয়া দফতরের তরফে অনেক এলাকাতেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ।রাজ্যের আবার আবহাওয়া নতুন ভাবে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। রবিবার রাত থেকেই হরিয়ানা, পঞ্জাব এবং চণ্ডীগড়ের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন।
এই কয়েকটি রাজ্যে মৌসুমি বায়ু আগামী কয়েকদিন সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া দফতরের তরফে অনেক এলাকাতেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আবার অনেক জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া থাকবে এমনটা জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয় এই কয়েকটি রাজ্যে হলুদ সতর্কতাও জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।চণ্ডীগড় আবহাওয়া দফতরের পরিচালক মনমোহন সিংয়ের মতে, আগামী ৫ দিন পঞ্জাব ও হরিয়ানার অনেক জেলায় বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পঞ্চকুলা, যমুনানগর, আম্বালা, পানিপথে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।এই সময়ে কুরুক্ষেত্র, কর্নাল, হিসার, ঝাজ্জার, গুরুগ্রাম, ভিওয়ানি, জিন্দ, নুহ, পালওয়াল, ফরিদাবাদ, সোনিপাত, রোহতক, কাইথাল সহ অনেক জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।অন্য দিকে, হিসার, জিন্দ, ফতেহাবাদ, সিরসা, কাইথালে আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে গত রবিবার অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়। এখানেও আগামী কয়েকদিনের বৃষ্টি আর্দ্র তাপ থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৫ দিন এইসব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হিসার জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে এবারে কম বৃষ্টি হয়েছে। এখন এখানে বৃষ্টি হলে কৃষকদের জন্য তা লাভবান প্রমাণিত হবে।বন্যাকবলিত আম্বালা, কর্নাল, পানিপথ, সিরসা, ফতেহাবাদে আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে এখানকার পরিস্থিতি আবার আগের মতোই খারাপ হতে পারে। তবে অধিকাংশ জেলায় বন্যার জলস্তর এখন অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।সিরসা ও ফতেহাবাদ জেলার কয়েকটি গ্রাম বন্যার জলে তলিয়ে গিয়েছে। ফতেহাবাদেও রবিবার পর্যন্ত জল অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রশাসন এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরাও চিন্তিত যে আবার বৃষ্টি হলে ঘাগরের জলের মুখে থাকা সিরসা এবং ফতেহাবাদের অনেক গ্রামে পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় আরও খারাপ হতে পারে।পঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব, লুধিয়ানা, পাতিয়ালা, রূপনগর, মোহালি, সাঙ্গরুরে বৃষ্টির জন্য আবহাওয়া দফতরের তরফে ফের হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পঞ্জাব সংলগ্ন হরিয়ানার অধিকাংশ এলাকা ইতিমধ্যেই বন্যার কবলে পড়েছে। আবার পঞ্জাবে ভারী বৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব দেখা যাবে হরিয়ানার এইসব এলাকায়।বৃষ্টি ও বন্যার জলে বিপর্যস্ত দেশের রাজধানী দিল্লিতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনও ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না৷ আগামী ছ’দিন ধরে দিল্লিতে ক্রমাগত বৃষ্টির দাপট দেখা যাবে৷ ফলে দিল্লিতেও আরও জলমগ্নতার ঘটনার ঘটতে পারে৷ এ ছাড়াও ঝড় বৃষ্টি হবে হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, পূর্ব রাজস্থান, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চলে৷
