আধিচেতনা

গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বামীজী। তা কেন হবে? জ্ঞানোন্মেষ হলেও কুমোর কুমোরই থাকবে— জেলে জেলেই থাকবে—চাষা চাষই করবে। জাতব্যবসা ছাড়বে কেন ? “সহজং কর্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ”—এই ভাবে শিক্ষা পেলে এরা নিজ নিজ বৃত্তি ছাড়বে কেন? জ্ঞানবলে নিজের সহজাত কর্ম যাতে আরও ভাল করে করতে পারে, সেই চেষ্টা করবে। দু-দশজন প্রতিভাশালী লোক কালে তাদের ভেতর থেকে উঠবেই উঠবে। তাদের তোরা (ভদ্রজাতিরা) তোদের শ্রেণীর ভেতর করে নিবি। তেজস্বী বিশ্বামিত্রকে ব্রাহ্মণেরা যে ব্রাহ্মণ বলে স্বীকার করে নিয়েছিল, তাতে ক্ষত্রিয় জাতটা ব্রাহ্মণদের কাছে তখন কতদূর কৃতজ্ঞ হয়েছিল বল দেখি? ঐরূপ sympathy (সহানুভূতি) ও সাহায্য পেলে মানুষ তো দূরের কথা, পশুপক্ষীও আপনার হয়ে যায়।

স্বামীজী। তা না হলে কিন্তু তোদের (ভদ্রজাতদের) কল্যাণ নেই। তোরা চিরকাল যা করে আসছিস—ঘরাঘরি লাঠালাঠি করে সব ধ্বংস হয়ে যাবি! এই mass (ভদ্রেতর সাধারণ) যখন জেগে উঠবে, আর তাদের ওপর তোদের (ভদ্রলোকদের) অত্যাচার বুঝতে পারবে—তখন তাদের ফুৎকারে তোরা কোথায় উড়ে যাবি! তারাই তোদের ভেতর civilisation (সভ্যতা) এনে দিয়েছে ; তারাই আবার তখন সব ভেঙে দেবে। ভেবে দেখ—গল্ জাতের হাতে—অমন যে প্রাচীন রোমক সভ্যতা কোথায় ধ্বংস হয়ে গেল ! এইজন্য বলি, এই সব নীচ জাতদের ভেতর বিদ্যাদান, জ্ঞানদান করে এদের ঘুম
ভাঙাতে যত্নশীল হ। এরা যখন জাগবে — আর একদিন জাগবে নিশ্চয়ই—তখন তারাও তোদের কৃত উপকার বিস্মৃত হবে না, তোদের নিকট কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *