নুতন মুখ আর চায়ে চুমুক

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ হাতে চায়ের ভাঁড়৷ ঠিক সামনেটায় বসে এক ঝাঁক কচিকাঁচা৷ তাদের কারও মাথায় কালো ফেট্টি, হাতে গিটার৷ কারও হাতে ছোট ইউকালেলে৷মমতার ঠিক ডানদিকে বসে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ বাঁদিকে, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম৷ দেখা যাচ্ছিল দেবাশিস কুমার কিংবা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কেও৷একুশে জুলাইয়ের ঠিক আগের দিন প্রস্তুতি দেখতে এসে ঠিক এভাবেই চা-এর জমজমাট আড্ডা বসেছিল ধর্মতলা ক্রশিংয়ের সামনে৷ সাথে নুতন মুখ ও উঠে এলো,একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে রয়েছে তৃণমূলের।

সেই মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার স্বপ্ন থাকে কত তরুণ, কত নতুনের। আবার নতুন প্রজন্মের কাউকে যখন একুশের মঞ্চে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়, তখন স্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি হয় তাঁকে নিয়ে। শুক্রবার, একুশের সমাবেশের পর তেমনই কৌতূহলের কেন্দ্রে এখন রাজন্যা হালদার ।এদিন ধর্মতলার সভা মঞ্চে বক্তাদের তালিকায় প্রথম দিকেই নামই ছিল রাজন্যার। ছিপছিপে চেহারার এই তরুণীকে এক লহমায় দেখে বোঝা যাবে না, তাঁর গলায় এত ঝাঁঝ, এত তেজ বক্তৃতায়।একুশের মঞ্চে কারা বক্তব্য রাখবেন, তা শেষ পর্যন্ত ঠিক হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদনেই। রাজন্যার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একুশের মঞ্চের সভাস্থল পরিদর্শনে যান তখনই তিনি বক্তাদের তালিকায় রাজন্যার নাম ঢুকিয়ে দেন।প্রথমবার এত বড় মঞ্চে বক্তৃতা দিতে পেরে খুশি রাজন্যা নিজেও। একুশের সমাবেশ শেষে দ্য ওয়াল-কে তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ তো আগে কখনও আসেনি। এই সুযোগ পেয়ে খুব ভাল লাগছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আমাদের জায়গা করে দিচ্ছেন, এমন ধারা আগে কখনও দেখিননি, ভাবতেও পারিনি।’দিন কয়েক আগে একটি সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘যদি আমাকে কখনও রাজনীতি থেকে বিরতি নিতে হয়, তবে আমি নিজের হাতে নতুন প্রজন্মকে তৈরি করে যাব। তাঁদের হাতেই ব্যাটন তুলে দেব।’

এদিন রাজন্যা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে আমাদের মতো নতুনকে জায়গা করে দিচ্ছেন, আমাদের কাছে এটা বড় সৌভাগ্য’।রাজন্যা হালদার, পিএইচডি স্কলার। প্রেসিডেন্সি থেকে স্নাতক পাশ করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সোনারপুরের মেয়ে রাজন্যা ছোট থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন। দাদু কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর বাবাও কংগ্রেস করতেন, পরে তৃণমূলের হাত ধরেন। ২০১৭ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেছেন রাজন্যা। এখন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ছাত্র যুব সংগঠনের সহ সভাপতি।

শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই রাজন্যাকে নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেই তুমুল চর্চা চলছে। অনেকে আবার রাজন্যর সঙ্গে জয়া দত্তর তুলনা করতেও শুরু করেছেন। জয়া দত্তকে একসময় অনেকেই চিনতেন না। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে পড়ে যান জয়া। জয়াকে অনেক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ করে দেন মমতা। দেখা যায় কিছুদিনের মধ্যেই জয়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি হন।রাজন্যার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটবে কিনা এখনই বলা কঠিন। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, রাজন্যাকে পছন্দ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতো ঝাঁঝালো বক্তৃতা যাঁরা দিতে পারেন তাঁদের মমতা পছন্দ করেন। কারণ, মমতাও ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই ছিলেন অতিশয় আগ্রাসী। আর আড্ডায় গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে কখনও খুচরো আলাপচারিতা করতে দেখা যাচ্ছিল কচিকাচাদের সঙ্গে, তো কখনও আলাপের সঙ্গী হচ্ছিলেন সুদীপ-ফিরহাদ৷ভিড়ের মধ্যে শ্যাওলা সবুজ রঙের শাড়িতে দেখা গিয়েছিল যুব তৃণমূলনেত্রী সায়নী ঘোষকেও৷বৃহস্পতিবারের পরে শুক্রবার৷ ২০ পেরিয়ে একুশ৷

শুক্রবার আরও এক একুশে জুলাইয়ের সাক্ষী থাকল কলকাতা৷ তা-ও বৃষ্টিভেজা৷ বৃ্ষ্টিতে ভিজে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন সুদীপ৷ তারপর একই রকম ভিজে বক্তৃতা করলেন ফিরহাদও৷সবশেষে, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মঞ্চে উঠলেন, তখনও ফের ঝিরিঝিরি নামল বৃষ্টি৷ মঞ্চে দাঁড়িয়েই সপসপে হয়ে ভিজলেন মমতা৷ জোরাল আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে৷এদিন মমতার বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ, সবটাই ছুঁয়েছিল মণিপুর৷ মণিপুর হিংসা প্রসঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি৷তোপ দাগেন ১০০ দিনের কাজের বকেয়া পাওনা প্রসঙ্গেও৷ ঘুরে ফিরে আসে পঞ্চায়েত নির্বাচন, আসে কেন্দ্রীয় রাজনীতি৷ আসে জোট প্রসঙ্গ৷উল্লেখযোগ্য ভাবে এদিন বাম কিংবা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া কথা বলতে শোনা যায়নি তৃণমূলনেত্রীকে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *