নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বহু সকলের ঘুম ভেঙে যায়। ভোররাতেই আতঙ্কে লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। একে অপরকে ফোন করে কুশল জিজ্ঞেস করতে দেখা যায় তাঁদের। আজ ভোরে, আধ ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর তিনটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জয়পুর। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ঘটে ভোর ৪টে বেজে ২৫ মিনিটে। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৩.৪। তারা আরও জানিয়েছে, ভুমিকম্পটি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে ভোর ৪.২২ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের ৫ কিলোমিটার গভীরে একটি ৩.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় ভোর ৪টে বেজে ৯ মিনিটে, মাটির নীচে ১০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.৪।
ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে টুইট করেছেন, “জয়পুর সহ রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আশা করি আপনারা সবাই নিরাপদ আছেন।”জোরালো কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে রাজধানী জয়পুর-সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলায়। জয়পুরে কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বহু সকলের ঘুম ভেঙে যায়। ভোররাতেই আতঙ্কে লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। একে অপরকে ফোন করে কুশল জিজ্ঞেস করতে দেখা যায় তাঁদের। অনেকে রাস্তায় বসে হনুমান চালিসা পাঠ করা শুরু করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের দাবি, ভূমিকম্পের সঙ্গে তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দও শুনতে পেয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎসস্থল আরাবল্লী পাহাড়। তবে ঠিক কী কারণে এই ভূমিকম্প হল, তা এখনও অজানা। বস্তুত, গত কয়েক মাস ধরেই রাজস্থানে ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার একের পর এক ভূমিকম্প হয়ে চলেছে।
এর আগে ২৪ জানুয়ারি এবং ২১ মার্চ জয়পুর এবং রাজস্থানের অন্যান্য জেলাগুলিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সেই সময়ও ভয়ে লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। সম্প্রতি সিকর জেলাতেও ভূমিকম্পকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সাধারণত, লাগাতার ছোট ছোট কম্পন, কোনও বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করা হয়। রাজস্থানের সামনে কি কোনও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে? এদিকে দিল্লি, পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশের পর এবার মহারাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সাতসকালে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে রায়গড় জেলর খালাপুর তহসিলের ইরশালওয়াড়ি গ্রামে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ধস নামে। তাতে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। ১০০-রও বেশি মানুষ ধসের জেরে আটকা পড়েছেন বলে অনুমান ।
aসূত্রের খবর, এদিন কাকভোরে যখন ধস নামে, তখন গ্রামবাসীরা সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। সেই কারণেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। ঘটনার সময় কয়েকটি শিশু গেম খেলার জন্য গ্রামের বাইরে গিয়েছিল, কারণ গ্রামের ভিতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক ভাল কাজ করে না। ধস নামার ঘটনা প্রথমে তাদেরই চোখে পড়ে। তারাই দৌড়ে গ্রামে এসে যে কজনকে পারে খবর দেয়। অন্তত ৪৮টি বাড়ি ধসের কারণে ভেঙে পড়েছে এবং কুড়িটি বাড়ি কাদামাটির তলায় চাপা পড়েছে বলে জানা গেছে।জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে।পাহাড়ের চূড়ায় যেখানে ধস নেমেছিল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসার জন্য ট্রেকিং এক্সপার্টদের খবর দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই।সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ১২টি দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া হার্ট অ্যাটাকের কারণে একজন উদ্ধারকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে নিজে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এসেছেন। উদ্ধারকাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে আপৎকালীন কন্ট্রোলরুম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যেই। আহতদের চিকিৎসার ভারও সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
