গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ শিষ্য। কিন্তু মহাশয়, গার্গী, খনা, লীলাবতীর মতো গুণবতী শিক্ষিকা স্ত্রীলোক দেশে এখন পাওয়া যায় কই ! স্বামীজি। দেশে কি এখনো ঐরূপ স্ত্রীলোক নাই? এ সীতা-সাবিত্রীর দেশ, পুণ্যক্ষেত্র ভারতে এখনো মেয়েদের যেমন চরিত্র, সেবাভাব, স্নেহ, দয়া, তুষ্টি ও ভক্তি দেখা যায়, পৃথিবীর কোথাও তেমন দেখলুম না। ওদেশে (পাশ্চাত্যে) মেয়েদের দেখে আমার অনেক সময় স্ত্রীলোক বলেই বোধ হতো না—ঠিক যেন পুরুষ মানুষ! গাড়ি চালাচ্ছে, অফিসে বেরুচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে, প্রফেসরী করছে! একমাত্র ভারতবর্ষেই মেয়েদের লজ্জা, বিনয় প্রভৃতি দেখে চক্ষু জুড়ায়। এমন সব আধার পেয়েও তোরা এদের উন্নতি করতে পারলি নে! এদের ভিতরে জ্ঞানালোক দিতে চেষ্টা করলি নে। ঠিক ঠিক শিক্ষা পেলে এরা ideal (আদর্শ) স্ত্রীলোক হতে পারে।
স্বামীজী। ….ক্রমে সব হবে। দেশে এমন শিক্ষিত লোক এখন জন্মায়নি, যারা সমাজ-শাসনের ভয়ে ভীত না হয়ে নিজের মেয়েদের অবিবাহিতা রাখতে পারে। এই দেখ না—এখনো মেয়ে বার-তের বৎসর পেরুতে না পেরুতে—লোকভয়ে, সমাজভয়ে বে দিয়ে ফেলে। এই সেদিন consent (সম্মতিসূচক) আইন করবার সময় সমাজের নেতারা লাখ লোক জড় করে চেঁচাতে লাগল “আমরা আইন চাই না।” অন্য দেশ হলে সভা করে চেঁচান দূরে থাকুক, লজ্জায় মাথা গুঁজে লোক ঘরে বসে থাকত ও ভাবত আমাদের সমাজে এখনো এহেন কলঙ্ক রয়েছে!
স্বামীজী।…… ভাল-মন্দ সব দেশেই আছে। আমার মতে সমাজ সকল দেশেই আপনা-আপনি গড়ে। অতএব বালা-বিবাহ তুলে দেওয়া, বিধবাদের পুনরায় বে দেওয়া প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নাই আমাদের কার্য হচ্ছে স্ত্রী, পুরুষ, সমাজের সকলকে শিক্ষা দেওয়া। সেই শিক্ষার ফলে তারা নিজেরাই কোটি ভাল, কোনটি মন্দ, সব বুঝতে পারবে ও আপনারা মন্দটা করা ছেড়ে দেবে। তখন আর জোর করে সমাজের কোন বিষয় ভাঙতে-গড়তে হবে না ।
গভর্নমেন্টের statistics-এ (পরিসংখ্যান তালিকায়) দেখা যায়, ভারতবর্ষে শতকরা ১০।১২ জন মাত্র শিক্ষিত, তা বোধ হয় মেয়েদের মধ্যে one percent-ও (শতকরা একজন) হবে না ।
তা নাহলে কি দেশের এমন দুর্দশা হয়? শিক্ষার বিস্তার—জ্ঞানের উন্মেষ—এসব না হলে দেশের উন্নতি কি করে হবে ? তোরা দেশে যে কয়জন লেখাপড়া শিখেছিস—দেশের ভাবী আশার স্থল—সেই কয়জনের ভিতরেও ঐ বিষয়ে কোন চেষ্টা বা উদ্যম দেখতে পাই না। কিন্তু জানিস, সাধারণের ভিতর আর মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার না হলে কিছু হবার জো নাই। সেজন্য আমার ইচ্ছা আছে—কতকগুলি ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মচারিণী তৈরি করব। ব্রহ্মচারীরা কালে সন্ন্যাস গ্রহণ করে দেশে দেশে, গাঁয়ে গাঁয়ে গিয়ে mass-এর (জনসাধারণের) মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে যত্নপর হবে। আর ব্রহ্মচারিণীরা মেয়েদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার করবে। কিন্তু দেশী ধরনে ঐ কাজ করতে হবে।
