Subhendu: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব দিলীপের

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,কলকাতা, ৯ই মে ২০২৬ঃ-অনেকেই মনে করছেন, শুভেন্দু এবং দিলীপের দূরত্ব কমা রাজ্যে দলের নতুন সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সহায়ক হবে৷ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষকে নতুন সরকারে কাজে লাগাতে চাইবেন শুভেন্দুও৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যেভাবে দিলীপকে তিনি নিজের গাড়ির সহযাত্রী করলেন, তাতে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক নতুন সরকারে বড় কোনও দায়িত্ব পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!
তবে এই সমীকরণ বদলের সূত্রপাত সম্ভবত তার আগেই হয়ে গিয়েছিল৷ দিলীপ নিজেই এ দিন দাবি করেছেন, এ দিন দলের বৈঠকে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিই শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করেছিলেন৷ সূত্রের খবর, দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্য জুড়ে বিজেপি প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রধান মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন শুভেন্দুই৷ নতুন সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শুভেন্দুই সবথেকে যোগ্য বলেও দাবি করেন দিলীপ৷ দিলীপের এই প্রস্তাবে দলের জয়ী বিধায়করা তো বটেই, বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরাও সহমত পোষণ করেন৷
 
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন, সেই সময় দলের রাজ্য সভাপতির নাম দিলীপ ঘোষ৷ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পান শুভেন্দু৷ অন্যদিকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকে দলে আস্তে আস্তে গুরুত্ব কমেছিল দিলীপ ঘোষের৷
গত প্রায় পাঁচ বছর কোণঠাসা থাকার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ফের দিলীপ ঘোষকে সক্রিয় করে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব৷ এর কৃতিত্ব অবশ্য অনেকেই দলের নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে দেন৷ দলের মধ্যেই মাঝে কয়েকবছর ব্রাত্য হয়ে যাওয়ার জন্য এক সময় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠদেরই দুষতেন দিলীপ ঘোষের অনুগামীরা৷ তবে সাফল্য অনেক রাজনৈতিক সমীকরণই বদলে দেয়৷ ঠিক যেমন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী নাম ঘোষণার পর গাড়িতে তাঁর সহযাত্রী হিসেবে পাশের আসনে দেখা গেল দিলীপ ঘোষকেই!
পাল্টা শুভেন্দুও এ দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের নাম নিয়েছেন৷ পরিষদীয় দলের বৈঠকের পর লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে নতুন সরকার গঠনের দাবি জানান শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারদের মতো বঙ্গ বিজেপি-র সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন দিলীপ ঘোষও৷ লোকভবন থেকে শুভেন্দু অধিকারী যখন বেরিয়ে আসছেন, তখন গাড়িতে তাঁর পাশের আসনে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে৷ খড়্গপুর সদরের বিধায়ককে পাশে বসিয়য়েই নিউ টাউনের হোটেলে দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী৷
অনেকেই মনে করছেন, শুভেন্দু এবং দিলীপের দূরত্ব কমা রাজ্যে দলের নতুন সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সহায়ক হবে৷ রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষকে নতুন সরকারে কাজে লাগাতে চাইবেন শুভেন্দুও৷ মুখ্যমন্ত্পী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যেভাবে দিলীপকে তিনি নিজের গাড়ির সহযাত্রী করলেন, তাতে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক নতুন সরকারে বড় কোনও দায়িত্ব পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!