বিজেপি জিতলে তবেই ভাত!
নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক, ৬ই মে ২০২৬ঃ-শীতলকুচি: বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত, অথচ সেই ভাত ছাড়াই দীর্ঘ এক দশক কাটিয়ে দিলেন শীতলকুচির ভাঐরথানা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সুভাষ বর্মন। ২০১৬ সালের এক দুপুরে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে ভাতের হাঁড়ি ভাঙার অপমানের বদলা নিতেই তিনি অন্ন ত্যাগ করেছিলেন। ২০২৬-এ রাজ্যে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেই এবার সেই প্রতিজ্ঞা ভাঙতে চলেছেন তিনি।
২০১৬ সালের কোচবিহার লোকসভা উপনির্বাচনে বিজেপির পোলিং এজেন্ট হওয়াটাই ছিল সুভাষের ‘অপরাধ’। অভিযোগ, ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের বাহিনী তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে রান্না করা ভাতের হাঁড়ি উঠোনে আছাড় মেরে ভেঙে দেয়। ছড়িয়ে থাকা সেই ভাতের দানার ওপর দাঁড়িয়েই সুভাষ শপথ নিয়েছিলেন— “যতদিন বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে না, ততদিন ভাত ছোঁব না।”
সুভাষের স্ত্রী অঞ্জনা বর্মন জানান, দীর্ঘ ১০ বছর কৃষিকাজের হাড়ভাঙা খাটুনি সত্ত্বেও সুভাষ শুধু দুধ, রুটি আর ফল খেয়ে কাটিয়েছেন। পরিবারের কেউ তাঁকে ভাতের অনুরোধ করেও টলাতে পারেনি। এমনকি সেইদিনের ভাঙা হাঁড়ি-কড়াই আজও তিনি সযত্নে রেখে দিয়েছেন সেই অপমানের স্মৃতি হিসেবে।
সুভাষের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়িত। আগামী ৯ মে রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন বাড়িতে বড় অনুষ্ঠান করে গ্রামের মানুষকে খাইয়ে তবেই ১০ বছর পর ভাতের গ্রাস মুখে তুলবেন তিনি। যদিও বিষয়টিকে তৃণমূল নেতৃত্ব ‘পাগলামি’ বলে কটাক্ষ করেছে, তবে শীতলকুচির ওই এলাকায় সুভাষ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
“গৌতম দেব রাজনীতি ছাড়লে তৃণমূল বাঁচবে!”
মেয়রকে সন্ন্যাস নেওয়ার পরামর্শ রবিকন্যা পাপিয়া ঘোষের

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক, ৬ই মে ২০২৬ঃ-শিলিগুড়ি: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার ঘরোয়া কোন্দল প্রকাশ্যে। শিলিগুড়ি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ভোটে বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়া গৌতম দেবের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি গৌতম দেবকে ‘ক্ষমতালোভী’ বলে অভিহিত করে অবিলম্বে তাঁকে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পাপিয়া ঘোষের দাবি, শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য এককভাবে গৌতম দেবই দায়ী। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর বারবার আস্থা রাখলেও তিনি সেই ভরসা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
শিলিগুড়ির ২৪৫টি বুথেই তৃণমূল হেরেছে। এমনকি মেয়র নিজের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজস্ব বুথেও বড় ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। এই লজ্জাজনক ফলের পর গৌতম দেবের মেয়র পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই বলে মনে করেন পাপিয়া।
তাঁর অভিযোগ, গৌতম দেব নিজেকে শিলিগুড়ির অভিভাবক দাবি করলেও আসলে তিনি উত্তরবঙ্গের বহু প্রতিশ্রুতিমান নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছেন।
পাপিয়ার স্পষ্ট বার্তা— “গৌতম দেব রাজনীতি ছাড়লে তৃণমূল বাঁচবে।” তাঁর মতে, গৌতম দেবের মুখ সামনে থাকলে দল ভবিষ্যতে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
মেয়রের মতো হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে দলেরই প্রাক্তন জেলা সভানেত্রীর এমন কড়া বয়ান শিলিগুড়ি পুরনিগমের অন্দরেও কম্পন সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার, এই ‘সন্ন্যাস’ তত্ত্বের জবাবে গৌতম দেব কী প্রতিক্রিয়া দেন।
