পরিষেবা না পেয়ে ফিরছেন সাধারণ মানুষ
৯ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক:- শিলিগুড়ি: ভোট বলে কথা, মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরে ভোট ভিক্ষা চাইছেন প্রার্থীরা। অথচ সেই মানুষই বিভিন্ন প্রয়োজনে পুরনিগমে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। কেননা ভোট আবহে পুরনিগমে কার্যত ছুটির আমেজ। অধস্তন কর্মীরা থাকলেও উচ্চপদস্থ আধিকারিক, মেয়র থেকে মেয়র পারিষদ কেউই খুব প্রয়োজন ছাড়া পুরনিগমে আসছেন না। এরই মধ্যে আবার পুরনিগমে সচিব নেই। নির্বাচন কমিশন গত মাসে পুর সচিব অনাবিল দত্তকে বদলি করলেও নতুন করে কাউকে এখানে দায়িত্বে পাঠানো হয়নি। ফলে সমস্যা আরও বেড়েছে।
পুরনিগমের কমিশনার অশ্বিনী রায় বলেছেন, ‘প্রয়োজনে সবাই আসছেন। সমস্যা কিছু হচ্ছে না। সচিবের সমস্ত কাজকর্ম ফিন্যান্স অফিসারকে অস্থায়ীভাবে দেখতে বলা হয়েছে।’ ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারও দাবি করেছেন, প্রতিদিন তিনি অন্তত এক ঘণ্টার জন্য পুরনিগমে বসছেন।
প্রতিদিন শহরের প্রচুর মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে পুরনিগমে আসেন। মেয়র, ডেপুটি মেয়র, মেয়র পারিষদদের প্রচুর কাজকর্ম থাকে, যেগুলি নিয়মিতই দেখভাল করতে হয়। মানুষ প্রয়োজনে এলে তাঁদের সেই সমস্যাগুলির সমাধানের দায়িত্বও পুরকর্তাদের ওপর থাকে। কিন্তু গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মেয়র, ডেপুটি মেয়র, মেয়র পারিষদরা ধীরে ধীরে পুরনিগমে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। খুব প্রয়োজন হলে মেয়র গৌতম দেব পুরনিগমে কিছুক্ষণের জন্য আসছেন। বেশিরভাগ মেয়র পারিষদও একই কাজ করছেন। বিষয়টিতে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে শহরজুড়ে। ভোট ঘোষণার পর প্রথমদিকে বহু লোক এসে ঘুরে গেলেও, এখন পুরনিগমে কাজে আসা লোকজনের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। তঁারা ধরেই নিয়েছেন ভোটপর্ব না শেষ হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি বদলাবে না।
সোমবারের পর মঙ্গলবারও দুপুরে পুরনিগমে ঢুঁ মেরে সেই খুব বেশি লোকজন দেখা গেল না। পুরোনো বিল্ডিংয়ে রবীন্দ্র সংগীত বাজছে ঠিকই, কিন্তু সেই গান শোনার লোকজনেরও বড্ড অভাব। মেয়র পারিষদ থেকে কাউন্সিলার, ডেপুটি মেয়রের ঘরে উঁকি মারতেই ভিতর থেকে সহকারী বলে উঠছেন, কেউ আসেননি। ভোট না পেরোলে কাউকেই পাবেন না।
পানীয় জল সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে মেয়র পারিষদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শংকর রায়। এঘর, ওঘর ঘুরে মেয়র পারিষদ সহ অন্য আধিকারিককে না পেয়ে তিনি নীচে নেমে আসেন। পরে বললেন, ‘আমাদের পাড়ায় তিন-চারদিন ধরে জল আসছে না। মাঝেমধ্যেই জলের সমস্যা হচ্ছে। তাই মেয়র পারিষদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। অফিস থেকে বলল, ভোটের পরে আসুন।’ তাঁর বক্তব্য, ‘প্রচণ্ড পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছি আর অফিস থেকে ভোটের পরে আসতে বলছে। অদ্ভুত ব্যাপার।’
বেলা ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ পুরনিগমে নিজের অফিসে আসেন নারী ও শিশুকল্যাণ এবং জন্মমৃত্যু শংসাপত্র বিভাগের মেয়র পারিষদ অভয়া বসু। তিনি বললেন, ‘প্রতিদিনই প্রচারের ফাঁকে অফিসে আসছি। জন্মমৃত্যু শংসাপত্র বিভাগে প্রচুর কাজের চাপ রয়েছে। এসআইআর পর্বে ৩০-৩৫ বছর আগে যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর পরিবারও মৃত্যুর শংসাপত্রের আবেদন করছেন। এত পুরোনো ফাইল বের করে সমস্ত তথ্য নেওয়া, মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার কাজ করতে হচ্ছে।’ বিদ্যুৎ বিভাগের মেয়র পারিষদ কমল আগরওয়াল এসে একঝলক দেখা দিয়েই ফের বেরিয়ে যান।
শুধু শাসক পক্ষই নয়, বিরোধী দলনেতা সহ বিরোধী কাউন্সিলারদেরও পুরনিগমে দেখা যাচ্ছে না। বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈনও ভোট প্রচারে ব্যস্ত থাকায় পুরনিগমে আসছেন না।
এরই মধ্যে গত ২৩ মার্চ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুরনিগমের সচিব অনাবিল দত্তকে মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত জেলাশাসক হিসাবে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু দু’সপ্তাহ পরেও সচিব পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সচিব না থাকায় পুরনিগমের প্রতিদিনের কাজকর্মে সমস্যা হচ্ছে।
