শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে সুনাম রয়েছে। কিন্তু এবার ভোটের আগে সেই সৌজন্য কোথাও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে কিন্তু ছবিটা অন্যরকম। দুই ফুলের প্রার্থীরা সেখানে এখনও সৌজন্য বজায় রাখছেন।তৃণমূলের রঞ্জন শীলশর্মা এবং বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত স্তরে একে অপরকে রক্তচক্ষু দেখিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে না। দু’-চারটে প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া বাদে দুজনেই সেই জায়গা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।
শিলিগুড়ি: রাজনীতি মানেই যেন কাদা ছোড়াছুড়ি, ব্যক্তিগত আক্রমণ। অন্তত শিলিগুড়িতে গৌতম-শংকরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান লড়াইয়ের দিকে তাকালে তেমনটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব এবং বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে চাইছেন না। সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু এই লড়াইয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে।
৯ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক:- শিলিগুড়ি- শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে সুনাম রয়েছে। কিন্তু এবার ভোটের আগে সেই সৌজন্য কোথাও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে কিন্তু ছবিটা অন্যরকম। দুই ফুলের প্রার্থীরা সেখানে এখনও সৌজন্য বজায় রাখছেন।
তৃণমূলের রঞ্জন শীলশর্মা এবং বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত স্তরে একে অপরকে রক্তচক্ষু দেখিয়ে লড়াই করতে হচ্ছে না। দু’-চারটে প্রশ্নের প্রতিক্রিয়া বাদে দুজনেই সেই জায়গা থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।
এর নেপথ্যে অবশ্য রয়েছে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির দুই প্রার্থীর সম্পর্ক। মা-ছেলের রসায়ন। সেকারণেই প্রকাশ্যে সেভাবে কেউ কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগের পাহাড় খাড়া করছেন না। বরং, প্রাধান্য পাচ্ছে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শগত লড়াই। পাশাপাশি দুটি বিধানসভার এমন বিপরীত ছবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
কাদা ছোড়াছুড়িতে বিশ্বাসী নন শিখা। বরং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন তিনি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো হলেও শিখা বলছেন, ‘রাজনীতির ময়দানে লড়াই থেকে দূরে সরার কোনও কারণ নেই। আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।’ তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। এলাকার বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জলের দুর্ভোগের অভিযোগ তুলেছেন। ভয় দেখানো, কেজিএফ গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন শিখা।
আর রঞ্জনের বক্তব্য, ‘রাজনীতির লড়াই রাজনীতিতে থাকাটাই ভালো। ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কী দরকার আছে? মানুষ বলছেন, বিজেপি বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায়নি।’ তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক বিজেপির হলেও কিছু কাজ করতে পারেনি তাদের কেন্দ্রীয় সরকার।
শিলিগুড়িতে অনেক সময় রাজনৈতিক পারদ এতটাই চড়ে যাচ্ছে যে, নেতারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ। অনেকের মতে, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে নীরব ভোটের ট্রেন্ড রয়েছে। সেটা শিলিগুড়ির মতো ‘হটসিট’ নয়। সেখানে সুর চড়িয়ে, একে-অপরকে নীচু দেখিয়ে, রাজনৈতিক স্টান্টবাজি করে জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে টিকে থাকার প্রাধান্য নেই। প্রতিটি দলের ভেতরে চরম কোন্দল থাকলেও তাই হয়তো এখনও পর্যন্ত সস্তা জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে নামতে হয়নি তঁাদের।
