টলিপাড়ায় কর্মবিরতি, কলাকুশলীদের পাশে নজিরবিহীন উদ্যোগ

“আমি খাব, তুমি অভুক্ত থাকবে না”— মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন Jeetu Kamal

৯ইএপ্রিল,২০২৬ :- নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক:- টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় কর্মবিরতির আবহে এক মানবিক নজির গড়লেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা- জিতু কমল (Jeetu Kamal)। প্রয়াত অভিনেতা- রাহুল আরুনদয় ব্যানার্জি  (Rahul Arunoday Banerjee}-এর মৃত্যুর প্রতিবাদে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তার দাবিতে ডাকা এই কর্মবিরতির জেরে কাজ বন্ধ হয়ে যায় বহু ধারাবাহিক ও শুটিং।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন ‘দিন আনি দিন খাই’ কলাকুশলীরা—যাদের উপার্জন পুরোপুরি নির্ভর করে দৈনিক কাজের উপর। ঠিক সেই সময়েই নিজের ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় উদ্যোগ নিলেন জীতু।
নিজের পকেট থেকে পারিশ্রমিক দেওয়ার ঘোষণা
কর্মবিরতির প্রাক্কালে শুটিং ফ্লোর থেকেই জীতু ঘোষণা করেন—
যতদিন শুটিং বন্ধ থাকবে, সেই দিনগুলির পারিশ্রমিক তিনি নিজেই দেবেন।
কলাকুশলীদের ভাষায়,
“এই প্রথমবার কোনও অভিনেতা আমাদের কথা ভেবে এমন পদক্ষেপ করলেন।”
জীতুর স্পষ্ট বার্তা—
আমি খাব, তুমি থাকবে অভুক্ত—এটা হতে পারে না।”
প্রতিবাদ, বিতর্ক এবং জীতুর অবস্থান
শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, ‘জাস্টিস ফর রাহুল’ আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন জীতু।
প্রতীকী প্রতিবাদে তিনি নিজের ছবিতেও মালা পরিয়ে শিল্পী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক।
সহ-অভিনেতা Abhrajit Chakraborty-এর মন্তব্যের জবাবও দেন তিনি সরাসরি। এমনকি শুটিং ফ্লোরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন।
সমালোচনার জবাবে জীতুর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—
“আমি কুবেরের সন্তান নই, কিন্তু আমার বাবা-মা শিখিয়েছেন—পাশের মানুষ অভুক্ত থাকলে পাশে দাঁড়াতে হয়।”
জীতু কামাল: শুধু অভিনেতা নন, দায়িত্বশীল মানুষও
জিতু কমল Jeetu Kamal বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ।
তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত হন Satyajit Ray-এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য (ফিল্ম: Aparajito)—যেখানে তাঁর অভিনয় দক্ষতা জাতীয় স্তরেও প্রশংসা কুড়োয়।
তার পাশাপাশি তিনি—
সামাজিক বিষয় নিয়ে সরব
শিল্পীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন
নিজের মতামত নির্ভয়ে প্রকাশ করেন
 উপসংহার
টলিপাড়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও জিতু কমল Jeetu Kamal-এর এই উদ্যোগ শুধু মানবিকতার উদাহরণই নয়, বরং পুরো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বার্তা—
“সংকটে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই আসল দায়িত্ব।”
কর্মবিরতির আবহে এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে শিল্পী-কলাকুশলীদের মনে নতুন আশার আলো