টিকিট না পেয়ে অভিমান, দলবদলের ইঙ্গিত!
২৬ মার্চ ২০২৬, নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফের চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই চমকের কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে এলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিদায়ী মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ, অভিমান ও হতাশার সুর শোনা গেল তাঁর কথায়। শুধু তাই নয়, অন্য দল থেকে অফার পাওয়ার কথাও খোলাখুলি স্বীকার করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
🟦 শিবপুরে প্রার্থী বদল, বড় ধাক্কা মনোজের জন্য
এইবার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে বালির বিধায়ক রানা চ্যাটার্জি-কে। ফলে বর্তমান বিধায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও টিকিট পাননি মনোজ তিওয়ারি।
দলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে, যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
🟨 “অন্য দল থেকে অফার রয়েছে”, স্বীকারোক্তি মনোজের
দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন মনোজ তিওয়ারি। তিনি বলেন—
“অন্য দল থেকে অফার রয়েছে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত করিনি। স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তিনি এখনও কোনও সিদ্ধান্ত না নিলেও দলবদলের সম্ভাবনাকে একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া—
“খারাপ লাগা তো থাকবেই। পাঁচ বছর আগে যখন আমাকে ফোন করা হয়েছিল, তখন দিদির ডাকে আমি সাড়া দিয়েছিলাম। সেই সময় যেভাবে তাঁকে অপমান করা হচ্ছিল, তা আমার জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল।”
🟩 নিজের লড়াই ও রাজনৈতিক যাত্রার কথা স্মরণ
নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথাও তুলে ধরেছেন মনোজ। তাঁর কথায়—
“আমি দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছি।”
“রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি।”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির শক্তিশালী প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিবপুর থেকে জয়ী হন তিনি। এরপর তাঁকে রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়, যা রাজনৈতিক জীবনে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।
নিজের দাবি অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তিনি এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, যা স্থানীয় মানুষ জানেন বলেও উল্লেখ করেন।
🟪 প্রার্থী তালিকায় বড় রদবদল, একাধিক হেভিওয়েট বাদ
শুধু মনোজ তিওয়ারি নন, এবারের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় একাধিক বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। একাধিক বিদায়ী মন্ত্রী ও বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হয়নি, যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে বাদ পড়েছেন—
তাজমুল হোসেন
বিপ্লব রায়চৌধুরী
জোৎস্না মান্ডি
এছাড়াও—
বেলেঘাটায় টিকিট পাননি পরেশ পাল
জোড়াসাঁকোয় বাদ পড়েছেন বিবেক গুপ্ত
বারাসতে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী-র পরিবর্তে প্রার্থী হয়েছেন সব্যসাচী দত্ত
এই রদবদল যে নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।
🔶 এখন নজর মনোজের পরবর্তী পদক্ষেপে
মনোজ তিওয়ারির মন্তব্য ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
👉 তিনি কি সত্যিই অন্য দলে যোগ দেবেন?
👉 নাকি শেষ মুহূর্তে কোনও নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হবে?
রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এখন তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে। তবে এটুকু নিশ্চিত, শিবপুর কেন্দ্রের এই পরিবর্তন এবং মনোজের প্রতিক্রিয়া—দুই মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের আগে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল।
