এতদিন ধারণা করা হতো, মহেনজো–দড়ো গড়ে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০–২৬০০ অব্দের মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই শহরের উৎপত্তি আরও প্রাচীন, সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০ অব্দ বা তারও আগে। পাকিস্তানের প্রত্নতত্ত্ববিদ আসমা ইব্রাহিম ও আলি লাশারি, এবং University of Wisconsin-এর গবেষক জোনাথন মার্ক কেনওয়ার যৌথভাবে এই অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। তাঁদের খননকার্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীরের সন্ধান মেলে, যা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন মর্টিমার হুইলার ১৯৫০ সালে।
২৪শে মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক,:-প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর নগরসভ্যতা সিন্ধু সভ্যতা-এর ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে মহেনজো–দড়োকে ঘিরে সাম্প্রতিক আবিষ্কারের ফলে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে অবস্থিত মহেনজো-দড়ো বহুদিন ধরেই মানবসভ্যতার প্রাচীনতম পরিকল্পিত নগরগুলির একটি হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা জানাচ্ছে, এই শহরের ইতিহাস আমরা যতটা পুরোনো বলে জানতাম, বাস্তবে তা আরও বহু শতাব্দী আগে পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে।

১৯২২ সালে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্থানের সন্ধান পান। তাঁর আবিষ্কার ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসের ধারণাকেই আমূল বদলে দেয়। এর আগেই ১৯২১ সালে দয়ারাম সাহানি হরপ্পা আবিষ্কার করেছিলেন। এই দুটি নগরের সন্ধান প্রমাণ করে যে, ভারতীয় সভ্যতা মিশর ও সুমের-এর সমসাময়িক এবং উন্নত নগরসংস্কৃতির অধিকারী ছিল।
এতদিন ধারণা করা হতো, মহেনজো–দড়ো গড়ে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০–২৬০০ অব্দের মধ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই শহরের উৎপত্তি আরও প্রাচীন, সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০ অব্দ বা তারও আগে। পাকিস্তানের প্রত্নতত্ত্ববিদ আসমা ইব্রাহিম ও আলি লাশারি, এবং University of Wisconsin-এর গবেষক জোনাথন মার্ক কেনওয়ার যৌথভাবে এই অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। তাঁদের খননকার্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীরের সন্ধান মেলে, যা প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন মর্টিমার হুইলার ১৯৫০ সালে।
নতুন রেডিওকার্বন পরীক্ষায় জানা গেছে, এই প্রাচীরটি “কোট ডিজি পর্যায়”-এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সিন্ধু সভ্যতার একটি প্রাথমিক ধাপ। এই সময়ে বড় নগর গড়ে ওঠার আগে ছোট ছোট আধা-নগর বা প্রোটো-সিটি তৈরি হচ্ছিল। এই পর্যায়ের নামকরণ হয়েছে কোট ডিজি প্রত্নস্থলের নাম অনুসারে। গবেষকদের মতে, মহেনজো–দড়োর পশ্চিমাংশে পাওয়া প্রাচীরটি বিভিন্ন সময়ে নির্মিত হয়েছে এবং এর প্রাচীন স্তর আরও পুরোনো বসতির উপর দাঁড়িয়ে আছে, যা শহরটির বয়স আরও পিছিয়ে দেয়।

মহেনজো–দড়োর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বেই নয়, তার উন্নত নগর পরিকল্পনাতেও। শহরটিতে ছিল সুশৃঙ্খল রাস্তা, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, সুসংগঠিত আবাসন এবং বিখ্যাত ‘গ্রেট বাথ’—যা প্রাচীন জনজীবনের উচ্চমানের পরিচায়ক। এছাড়া এখানকার ইট নির্মাণ, মাপজোকের নির্ভুলতা এবং বাণিজ্যিক কার্যকলাপ প্রমাণ করে যে, এই সভ্যতা অত্যন্ত সংগঠিত ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ছিল।
সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, মহেনজো–দড়ো শুধু একটি প্রাচীন শহর নয়, বরং মানবসভ্যতার বিকাশের একটি দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা ইতিহাসের অংশ। এর ফলে সিন্ধু সভ্যতার সূচনাকাল এবং বিকাশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা আরও বিস্তৃত ও গভীর হচ্ছে।
