হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কী কথা হল মোদীর?

 

২১শে  মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,:-সম্প্রতি ইসরায়েলের হামলায় ইরানের দক্ষিণ পার্স (South Pars) গ্যাস ফিল্ড এবং তার পাল্টায় কাতারের রাস লাফান  এলএনজি কমপ্লেক্সে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা চরমে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এবং ভারতের আমদানিকৃত তেলের ৪০ শতাংশ ও এলএনজির ৫০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এই পথ রুদ্ধ হলে ভারতের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী শনিবার এক্স-এ এক পোস্টে জানান:

  • অবকাঠামো রক্ষা: গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করছে।
  • নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা: আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল অবাধ ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
  • ভারতীয়দের নিরাপত্তা: ইরানে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়ে তেহরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংকটের আঁচ যাতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে না পড়ে, সে জন্য তৎপর হয়েছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। শনিবার কেন্দ্র জানিয়েছে: দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

  • ভর্তুকিহীন ছোট সিলিন্ডার: পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজির ‘ফ্রি ট্রেড এলপিজি’সিলিন্ডার সহজলভ্য করা হবে।
  • বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক এলপিজি-র বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল, ধাবা এবং কমিউনিটি কিচেনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস পাবে

এর আগে গত ১২ মার্চও দুই নেতার মধ্যে কথা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী এবং জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে কোনো বাধাই কাম্য নয়। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও পশ্চিমী দেশগুলোর লড়াই ভারতকে এক কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে বিদেশের মাটিতে স্বার্থ রক্ষা, অন্যদিকে দেশের বাজারে জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা—উভয় ক্ষেত্রেই মোদী সরকার বর্তমানে ‘অ্যাকশন মোড’-এ রয়েছে।পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘের মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইদ ও নওরোজের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি এই আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়গুলো।