গ্যাসের আকাল, মেনুতে কাটছাঁট

                   জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজে চাইনিজ ও ওয়েস্টার্ন খাবার বন্ধ

শুধু দেশ নয়, বিদেশ থেকেও অনেকে এখানে ঘুরতে আসেন। এই মুহূর্তে জলদাপাড়া সংলগ্ন মাদারিহাটে সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রায় ৫০টি লজ রয়েছে। সেখানে মেনুতে চাইনিজ থেকে ওয়েস্টার্ন সবরকম খাবারই পাওয়া যেত এতদিন। তবে এখন সে গুড়ে বালি। জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার নিরঞ্জন সাহা বলেন, ‘গ্যাসের আকাল। তাই পর্যটকদের খাবারের মেনু থেকে চাইনিজ ও ওয়েস্টার্ন খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চালু রয়েছে থালি সিস্টেম।

১৪ই  মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,:-মাদারিহাট:
 ভ্রমণপিপাসু বাঙালি ঘুরতে গিয়ে মুখরোচক খাবার খেতেই পছন্দ করে। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নার গ্যাসের আকালে জলদাপাড়ার বিভিন্ন হোটেল, রিসর্ট ও লজ কর্তৃপক্ষ খাবারের মেনু থেকে একাধিক পদ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজে ইতিমধ্যেই চাইনিজ ও ওয়েস্টার্ন খাবার বন্ধ হয়েছে। পর্যটকদের জন্য কেবল থালি সিস্টেম পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি লজগুলির খাবারের মেনুতেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এদিকে, ঘুরতে গিয়ে পছন্দের খাবার না পেয়ে মন খারাপ পর্যটকদের।

জঙ্গলের টানে জলদাপাড়ায় সারাবছরই পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। শুধু দেশ নয়, বিদেশ থেকেও অনেকে এখানে ঘুরতে আসেন। এই মুহূর্তে জলদাপাড়া সংলগ্ন মাদারিহাটে সরকারি ও বেসরকারি মিলে প্রায় ৫০টি লজ রয়েছে। সেখানে মেনুতে চাইনিজ থেকে ওয়েস্টার্ন সবরকম খাবারই পাওয়া যেত এতদিন। তবে এখন সে গুড়ে বালি। জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার নিরঞ্জন সাহা বলেন, ‘গ্যাসের আকাল। তাই পর্যটকদের খাবারের মেনু থেকে চাইনিজ ও ওয়েস্টার্ন খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চালু রয়েছে থালি সিস্টেম। এই থালিতে মুরগির মাংস ও মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পুরোনো মাটির উনুন মেরামত করা হয়েছে। জ্বালানি কাঠ দিয়ে ব্রেকফাস্ট তৈরি করা হচ্ছে।’

জলদাপাড়ার একটি বেসরকারি লজের মালিক সঞ্জয় দাস জানালেন, তাঁরা তন্দুরি জাতীয় খাবার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তন্দুরি জাতীয় খাবার তৈরির জন্য আলাদা রাঁধুনি রাখতে হয়। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে এইসব পদ রান্না করা সম্ভব নয়। পর্যটকরা ঘোরার পাশাপাশি ভালো খাবার খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা তাঁদের চাহিদা পূরণ করতে অপারগ।’

জলদাপাড়ার আরেকটি বেসরকারি লজের মালিক বিকাশ সাহা জানালেন, তিনি আগে পর্যটকদের ১২ রকম পদের একটি বিশেষ থালির ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু গ্যাসের সংকটে মেনুতে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। এখন কেবল ৬ রকম পদে তিনি রাখতে পারছেন বলে জানালেন। জলদাপাড়ার একটি রিসর্টের মালিক উত্তম বিশ্বাসও জানালেন, তাঁরা তন্দুরি জাতীয় খাবার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বাইরে থেকে কিনতে ৪-৫ হাজার টাকা লাগছে। যেখানে প্রকৃত মূল্য ২২৩৭ টাকা। চাল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে। এইরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে রিসর্ট বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকবে না।’

কলকাতা থেকে জলদাপাড়ায় ঘুরতে এসেছেন তাপসকুমার মণ্ডল ও পিয়ালি ভাওয়াল। বেঙ্গালুরু থেকে এসেছেন দীপককুমার সেন। তাঁদের প্রত্যেকেই রাতে চাইনিজ খাবার অর্ডার করেন। কিন্তু লজ কর্তৃপক্ষ পত্রপাঠ জানিয়ে দেন, চাইনিজ হবে না। দীপক বললেন, ‘প্রিয় খাবার পেলাম না। ভাত-ডাল খেয়েই কাটাতে হল।’