১১ই মার্চ,২০২৬ :-নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্ক,তুফানগঞ্জ: –২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তুফানগঞ্জ বিধানসভা এলাকা থেকে এগিয়ে থেকে আলিপুরদুয়ারের আসনটি জয়লাভ করে বিজেপি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে থাকা তুফানগঞ্জ আসনটি ছিনিয়ে নেয় বিজেপি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও সেই জয়ের ধারা বজায় থাকে। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার আগে শহর যুব মোর্চার মণ্ডল পদাধিকারীদের একের পর এক গণ ইস্তফা পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। তার আগেই তুফানগঞ্জে বিজেপির ‘পদ্ম বাগানে’ কার্যত ছন্নছাড়া দশা। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একের পর এক পদ ত্যাগ করছেন তুফানগঞ্জ শহর মণ্ডলের যুব মোর্চার পদাধিকারীরা।
বর্তমানে তুফানগঞ্জ শহর বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী। এতদিন দলের যুব মোর্চার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন শুভাশিস ধর। একই ব্যক্তিকে বারবার শহর মণ্ডল সভাপতি করা নিয়ে দলের অন্দরে অসন্তোষও ছিল। অভিযোগ, এরই মাঝে মণ্ডল সভাপতি যুব মোর্চার কাজকর্মে অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করায় শহর মণ্ডল ও যুব মোর্চার মধ্যে চরম বিরোধ হয়।
রবিবার সমাজমাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তুফানগঞ্জ শহর যুব মোর্চার সভাপতি শুভাশিস ধর। তাঁর পদত্যাগের পর মঙ্গলবার একইভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে একে একে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন যুব মোর্চার তিন সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ সহ মোট পাঁচজন পদাধিকারী।
শহর মণ্ডল যুব মোর্চার সহ সভাপতি অরুণ উদয় সাহা বলেন, ‘মাদার কমিটির মণ্ডল সভাপতি হয়েও তিনি অনৈতিকভাবে যুব মোর্চার কমিটিতে হস্তক্ষেপ করছিলেন। যুব মোর্চার কাজকর্মে একপ্রকার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। এমনকি যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে এমন একটি নতুন নামের চর্চা চলছে, যাঁকে নিয়ে দল করা অসম্ভব। তাই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় গণপদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছি। শীঘ্রই জেলা সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানো হবে।’
এই প্রসঙ্গে দলের শহর মণ্ডল সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ‘বর্তমানে মণ্ডল যুব মোর্চার কারও কোনও পদ নেই। কারণ জেলায় নতুন করে যুব মোর্চার সভাপতি ঘোষণার পর, মণ্ডলের নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো কমিটির বৈধতা থাকে না। তখন পদাধিকারী বলে কেউ থাকে না। মণ্ডল সভাপতি যুব মোর্চার সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ করেন। দলে মোর্চা বা মণ্ডল আলাদা বিষয় নয়। দল বড় হলে টুকটাক অশান্তি থাকেই। তুফানগঞ্জে দলকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। তাতে কারও পদ থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে।’
তুফানগঞ্জে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা কার্যত স্বীকার করে বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সভাপতি কুমার চন্দননারায়ণ বলেন, ‘পরিবার বড় হলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য থাকতেই পারে। আলোচনা করেই সব সমস্যার সমাধান করা হবে।’
বিজেপির দখলে থাকা তুফানগঞ্জ বিধানসভা আসনটি ছিনিয়ে নিতে তৃণমূল যেখানে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে, সেখানে বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব আসন্ন নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি বুঝে তৃণমূলও বিজেপির বিক্ষুব্ধদের সসম্মানে দলে টানার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শহর যুব সভাপতি দেবািশস বর্মা বলেন, ‘বিজেপির অন্দরে ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। বিজেপির যুব মোর্চার বিক্ষুব্ধরা যদি মনে করেন, আমাদের দলে এলে তাঁদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে।’
