রাসায়নিক রঙের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে অ্যারোরুট, জবা, অপরাজিতা, গাঁদা ফুলের নির্যাস, বিটরুট ও হলুদের মতো ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এই আবির। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এই রঙ ত্বকের জন্য যেমন নিরাপদ, তেমনই পরিবেশবান্ধব। বাজারের রাসায়নিক রঙের তুলনায় এই ভেষজ আবিরের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
খড়িবাড়িতে ভেষজ আবির তৈরি করে স্বনির্ভরতার দিশা দেখাচ্ছেন অভিভাবকরা
২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক:খড়িবাড়ি:: বসন্তের রঙে এবার মিশছে স্বনির্ভরতার সুবাস। গত বছর পড়ুয়াদের তৈরি ভেষজ আবির সাড়া ফেলে দিয়েছিল খড়িবাড়ি ব্লকের গাইনজোত এলাকায়। সন্তানদের সেই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন তাঁদের মায়েরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তুলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে ভেষজ আবির তৈরি করে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন গাইনজোত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা অভিভাবকরা।
রাসায়নিক রঙের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে অ্যারোরুট, জবা, অপরাজিতা, গাঁদা ফুলের নির্যাস, বিটরুট ও হলুদের মতো ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এই আবির। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এই রঙ ত্বকের জন্য যেমন নিরাপদ, তেমনই পরিবেশবান্ধব। বাজারের রাসায়নিক রঙের তুলনায় এই ভেষজ আবিরের চাহিদা এখন তুঙ্গে।
মহিলাদের এই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৌভিক চক্রবর্তী এবং সহকারী শিক্ষক সইবা সিনহা ও সজেন্দ্রনাথ রায়। প্রধান শিক্ষক জানান, “আমাদের লক্ষ্য শুধু আবির বিক্রি নয়, গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলা এবং মানুষকে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহারে উৎসাহিত করা।” বিশেষ বিষয় হলো, স্কুলের পঠন-পাঠন যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য স্কুল ছুটির পরই চলে আবির তৈরির কাজ।
ইতিমধ্যেই এই আবির প্যাকেটজাত করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ‘ভোকাল ফর লোকাল’ স্লোগানকে পাথেয় করে গ্রামীণ মহিলাদের এই প্রচেষ্টা এখন সবার নজর কাড়ছে। স্বনির্ভর দলের মহিলারাও শিক্ষকদের এই সহযোগিতায় আপ্লুত। তাঁদের মতে, শিক্ষকদের উৎসাহ না থাকলে বাড়ির কাজের বাইরে আয়ের এই বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হতো।
মোবাইল চুরির অপবাদে কিশোরকে ‘তালিবানি’ নিগ্রহ; কুশিদা হাটে উন্মত্ত জনতার বর্বরতায় চাঞ্চল্য
হরিশ্চন্দ্রপুর: মঙ্গলবার দুপুরে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাংলা-বিহার সীমান্তবর্তী কুশিদা হাটে এক কিশোরের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতার অভিযোগ উঠল। স্রেফ মোবাইল চোর সন্দেহে এক কিশোরকে ভরা হাটের মধ্যে বেধড়ক মারধর করল উপস্থিত জনতা। হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইলেও রেহাই মেলেনি ওই কিশোরের। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই (যার সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে কুশিদা হাটে ভিড়ের মধ্যে এক কিশোরকে মোবাইল চোর সন্দেহে পাকড়াও করে কিছু মানুষ। এরপরই শুরু হয় গণপ্রহার। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই কিশোর বারংবার ক্ষমা চাইলেও উন্মত্ত জনতা তাকে লাথি ও কিল-চড় মারতে থাকে। এমনকি মারধর করতে করতে তার গায়ের পোশাক পর্যন্ত খুলে নিতে উদ্যত হয় ভিড়। অভিযোগ, এই নিগ্রহে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ— অনেকেই হাত লাগান। আইনের তোয়াক্কা না করে জনসমক্ষে এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ভিডিওটি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিগৃহীত কিশোরকে দ্রুত উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, “চুরির অভিযোগ থাকলে পুলিশে খবর দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা মারধরের সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভরা হাটে জনসমক্ষে একটি কিশোরকে এভাবে নগ্ন করে মারধর করার ঘটনায় নাগরিক সমাজের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন সাধারণ মানুষ বারবার আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
