গৌতম বিশ্বাস,নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্কঃ তোমরা কি অন্য কোন শাস্ত্রে এরূপ নির্ভীক বাণী শুনিতে পাও—‘বেদপাঠের দ্বারাও আত্মাকে লাভ করা যায় না’ ? হৃদয় খুলিয়া প্রাণ ভরিয়া তাঁহাকে ডাকিতে হইবে। তীর্থে বা মন্দিরে গেলে, তিলকধারণ করিলে অথবা বস্তুবিশেষ পরিলে ধর্ম হয় না। আমি গায়ে চিত্র-বিচিত্র করিয়া চিতাবাঘটি সাজিয়া বসিয়া থাকিতে পারো, কিন্তু, যতদিন পর্যন্ত না তোমার হৃদয় খুলিতেছে, যতদিন পর্যন্ত না ভগবানকে উপলব্ধি করিতেছ, ততদিন সব বৃথা। …. যিনি ভগবানকে অনভব করিয়াছেন, তাঁহাকে সর্ব ভূতে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন, তিনি ঋষি হইয়াছেন। সহস্র বৎসর পূর্বে যিনি এইরূপে উপলব্ধি করিয়াছেন— তিনিও যেমন ঋষি, সহস্র বৎসর পরেও যিনি উপলব্ধি করিবেন, তিনিও তেমনি ঋষি।
এই প্রাচীনগণ মহাপুরুষ ছিলেন, কিন্তু, আমরা আরও বড় হইতে চাই।
তাঁহারা অতীত- কালে বড় বড় কাজ করিয়াছিলেন, আমাদিগকে তাঁহাদের অপেক্ষা আরও বড় বড় কাজ করিতে হইবে । প্রাচীন ভারতে শত শত ঋষি ছিলেন, এখন লক্ষ লক্ষ ঋষি হইবেন, নিশ্চয় হইবেন । আর তোমাদের প্রত্যেকেই যত শীঘ্র ইহা বিশ্বাস করিবে, ভারতের পক্ষে ও সমগ্র পৃথিবীর পক্ষে ততই মঙ্গল। তোমরা যাহা বিশ্বাস করিবে, তাহাই হইবে।
তোমরা যদি নিজেদের নির্ভীক বলিয়া বিশ্বাস কর, তবে নির্ভীক হইবে । যদি সাধ, বলিয়া বিশ্বাস কর, কালই তোমরা সাধরূপে পরিণত হইবে ; কিছুই তোমাদিগকে বাধা দিতে পারিবে না । …সব শক্তি তোমাদের ভিতরে রহিয়াছে। তোমরা সব করিতে পারো। ইহা বিশ্বাস কর। মনে করিও না- তোমরা দুর্বল। আজকাল অনেকে যেমন নিজেদের অর্ধোন্মাদ বলিয়া মনে করে, সেরূপ মনে করিও না। অপরের সাহায্য ব্যতীতই তোমরা সব করিতে পারো। সব শক্তি তোমাদের ভিতর রহিয়াছে ; উঠিয়া দাঁড়াও এবং তোমাদের ভিতর যে দেবত্ব লক্কায়িত রহিয়াছে, তাহা প্রকাশ কর।
