চাঁচলে বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীকে ভুট্টার ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ‘ধর্ষণ’,

মৃতের মেয়ে প্রমিলা মণ্ডল সূত্রধর জানান, “দাদা ও বৌদি মিলে বাবাকে মারধর করছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও ঘুষি মেরে ফেলে দেয়। বাবা জ্ঞান হারালে আমরা টোটো করে হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু ডাক্তারবাবুরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।” বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী পার্বতী মণ্ডল ও ছোট ছেলে সুশান্ত। সুশান্ত জানান, তিনি ঝামেলা থামাতে গিয়ে নিজেও আহত হয়েছেন।

পলাতক অভিযুক্ত প্রৌঢ়

২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক:সামসী: বিশেষভাবে সক্ষম (শারীরিক প্রতিবন্ধী) এক তরুণীকে দু’বার ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল মালদহের চাঁচল-২ ব্লকে। অভিযোগের তির গ্রামেরই এক বছর পঞ্চাশের ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবার চাঁচল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বছর আঠাশের ওই তরুণী বাড়ির কাছেই একটি মাঠে ছাগল চরাতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় মাঠের নির্জনতার সুযোগ নিয়ে এক প্রৌঢ় তাঁকে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতের আড়ালে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়; নির্যাতিতা জানিয়েছেন, প্রায় দেড় মাস আগেও ওই ব্যক্তি একইভাবে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল।
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার কথা কাউকে জানালে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল অভিযুক্ত। সেই ভয়ে এবং লোকলজ্জার আশঙ্কায় শারীরিকভাবে অসমর্থ ওই তরুণী প্রথমে পরিবারের কাউকে কিছু বলতে সাহস পাননি। কিন্তু লাগাতার মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ গ্রামের কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে। এরপরই পরিবারের সদস্যরা পুরো বিষয়টি জানতে পারেন।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। চাঁচল থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, তবে তার সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, নির্যাতিতা তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে পুলিশ।

সুপারি গাছ নিয়ে বিবাদ, ছেলের ঘুষিতে প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ বাবা, ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্য
ধূপগুড়ি: সামান্য সুপারি গাছ ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। আর সেই বিবাদের জেরে বড় ছেলের ঘুষির আঘাতে মৃত্যু হলো বাবার। মঙ্গলবার সকালে ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব শালবাড়ি এলাকায় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম শুকলাল মণ্ডল (৫৭)। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সুপারি গাছ নিয়ে বড় ছেলে রামনাথ মণ্ডলের সঙ্গে শুকলালবাবুর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। শুকলালবাবু তখন ভাত খেতে বসেছিলেন। গণ্ডগোল থামাতে তিনি খাওয়া ছেড়ে উঠে এসে ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রামনাথ ও তাঁর স্ত্রী কোনও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন। বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে রামনাথ তাঁর বাবাকে লক্ষ্য করে সজোরে ঘুষি মারেন। সেই আঘাতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শুকলালবাবু।

মৃতের মেয়ে প্রমিলা মণ্ডল সূত্রধর জানান, “দাদা ও বৌদি মিলে বাবাকে মারধর করছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও ঘুষি মেরে ফেলে দেয়। বাবা জ্ঞান হারালে আমরা টোটো করে হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু ডাক্তারবাবুরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।” বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী পার্বতী মণ্ডল ও ছোট ছেলে সুশান্ত। সুশান্ত জানান, তিনি ঝামেলা থামাতে গিয়ে নিজেও আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ধূপগুড়ি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গিইলসেন লেপচা জানিয়েছেন, পুলিশ অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পারমিতা রায় সরকার এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে আখ্যা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তুচ্ছ সুপারি গাছের জন্য নিজের জন্মদাতার প্রাণ কেড়ে নেওয়ার এই ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা জেলা।