ফরেস্ট ম্যালেরিয়া রুখতে মার্চ থেকে সার্ভে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ম্যালেরিয়া অ্যানোফিলিস মশাবাহিত। তবে আলাদা প্রজাতির। বিচরণস্থল জঙ্গল ও লাগোয়া এলাকা। জঙ্গল বা জঙ্গলের ধার দিয়ে শ্লথগতিতে বয়ে যাওয়া ঝোরা বা ওই জাতীয় জলাশয়গুলি ফরেস্ট ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহিত অ্যানোফিলিসের আতুঁড়। সাধারণ ম্যালেরিয়ায় অ্যানোফিলিস ঘরের ভেতরে কামড়ায়।

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক: নাগরাকাটা: ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :-একসময় প্রকোপ ছিল মারাত্মক। মাঝে কয়েকবছর ঘাপটি মেরে ছিল। গত ৩ বছর ধরে আবার মাথাচাড়া দিয়েছে ফরেস্ট ম্যালেরিয়া। যা নিয়ে উদ্বেগে স্বাস্থ্য দপ্তর। ডুয়ার্সে এই ম্যালেরিয়া রুখতে এবছর আগেভাগে ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার অন্য ব্লকগুলিকে একাজ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য ভবনে বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সভাও হয়েছে। জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার বলেছেন, ‘বিশেষ ধরনের মশারি বিতরণে শুরু থেকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। সবাই যাতে সেটা ব্যবহার করেন, তা স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রচার করবেন।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ম্যালেরিয়া অ্যানোফিলিস মশাবাহিত। তবে আলাদা প্রজাতির। বিচরণস্থল জঙ্গল ও লাগোয়া এলাকা। জঙ্গল বা জঙ্গলের ধার দিয়ে শ্লথগতিতে বয়ে যাওয়া ঝোরা বা ওই জাতীয় জলাশয়গুলি ফরেস্ট ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহিত অ্যানোফিলিসের আতুঁড়। সাধারণ ম্যালেরিয়ায় অ্যানোফিলিস ঘরের ভেতরে কামড়ায়। ফরেস্ট ম্যালেরিয়ার অ্যানোফিলিস বাইরেও কামড়ায়। ওই ম্যালেরিয়া মৃদু উপসর্গ বা উপসর্গহীনও হতে পারে। ২০২৪-এ ডায়নার জঙ্গল লাগোয়া কলাবাড়ি চা বাগান থেকে এরকম ১৭ জন উপসর্গহীন রোগীর সন্ধান পেয়েছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। পরে একইরকম ম্যালেরিয়া আক্রান্তের খোঁজ মেলে খেরকাটা গ্রাম, লালঝামেলা বস্তিতে। উপসর্গহীন রোগীরা বড় মাথাব্যথার কারণ। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় না আনা হলে রোগ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্য দপ্তর ফরেস্ট ম্যালেরিয়া নিয়ে মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু করতে চলেছে। তাতে জোর দেওয়া হচ্ছে নাগরাকাটা, মেটেলি, মালবাজার, বানারহাটকে। ওই ব্লকগুলি ডায়না, নাথুয়া, গরুমারা, চাপরামারি, মোরাঘাট, রেতি, আপালচাঁদ-এর মতো জঙ্গল অধ্যুষিত। ২০২৩ থেকে ২৫ পর্যন্ত নাগরাকাটা ব্লকের কলাবাড়ি চা বাগান, বামনডাঙ্গা চা বাগান, খেরকাটা বস্তি থেকে যত সংখ্যক ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সন্ধান মেলে, তার বেশিরভাগ ছিল ফরেস্ট ম্যালেরিয়া। আগেও ম্যালেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্য দপ্তর সেখানে মাস সার্ভে ও এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভে করত। এবার ওই দুই কাজ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র ভিত্তিক মার্চ থেকে শুরু হবে। নৈশকালীন এন্টোমোলজিক্যাল সার্ভেতে অ্যানোফিলিস সংগ্রহ করে সেগুলির মধ্যে ম্যালেরিয়ার অণুজীব বা প্যারাসাইট আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে ডিব্রুগড়ের আইসিএমআর-এ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে জেনোমনিটারিং। মার্চ থেকে শুরু হওয়া মাস সার্ভেতে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সন্ধান মিললে তাঁকে প্রোটোকল অনুযায়ী চিকিৎসার আওতায় আনা হবে। এই ব্যাপারে জলপাইগুড়ির জেলা পতঙ্গবিদ রাহুল সরকার বলেন, কোনওভাবে যাতে ফরেস্ট ম্যালেরিয়ার আউটব্রেক না হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ইনসেক্টিসাইড ট্রিটেড বেডনেট(আইটিবিএন) এবং লং লাস্টিং ইনসেক্টিসিডাল নেট (এলএলআইএন) মশারি ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে।