টোটোর দাপটে বাসের পেটে টান

ময়নাগুড়ি শহরের চিত্রটা এখন বেশ উদ্বেগজনক। টেকাটুলি, হলহলিয়া, হুসলুরডাঙ্গা এমনকি জলঢাকা সেতু থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত লম্বা রুটেও এখন অবাধে চলছে টোটো। শহরের বকুলতলা-ধূপগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে বাসের আগেই টোটোর লম্বা লাইন থাকছে। ফলে যাত্রীরা বাসে ওঠার আগে টোটোতে চেপে বসছেন। একইভাবে পেট্রোল পাম্প লাগোয়া জলপাইগুড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকেও সাপ্টিবাড়ি, সুস্থিরহাট বা রাজারহাটের যাত্রী তুলে নিচ্ছে টোটো।
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক: ময়নাগুড়ি: ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :-স্টপে বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর তার সামনেই সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে টোটোও। গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরে ঢুকে পড়া টোটোর দাপটে কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে ময়নাগুড়ির বাস ও ম্যাক্সিক্যাব চালকদের। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যাত্রী না পেয়ে অধিকাংশ সময় ফাঁকা গাড়ি নিয়েই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আগামীদিনে ছোট বাস বা ম্যাক্সিক্যাব পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ চালকরা।
ময়নাগুড়ি শহরের চিত্রটা এখন বেশ উদ্বেগজনক। টেকাটুলি, হলহলিয়া, হুসলুরডাঙ্গা এমনকি জলঢাকা সেতু থেকে ধূপগুড়ি পর্যন্ত লম্বা রুটেও এখন অবাধে চলছে টোটো। শহরের বকুলতলা-ধূপগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে বাসের আগেই টোটোর লম্বা লাইন থাকছে। ফলে যাত্রীরা বাসে ওঠার আগে টোটোতে চেপে বসছেন। একইভাবে পেট্রোল পাম্প লাগোয়া জলপাইগুড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকেও সাপ্টিবাড়ি, সুস্থিরহাট বা রাজারহাটের যাত্রী তুলে নিচ্ছে টোটো। যেখানে ছোট বাসে জলপাইগুড়ি বা ধূপগুড়ির ভাড়া ২০ টাকা, সেখানে টোটোয় যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তা সত্ত্বেও টোটোর দাপটে বাসের ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড়।

সমস্যার কথা মেনে নিয়ে নিউ ময়নাগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন মোড় টোটো ইউনিয়নের সম্পাদক শৌভিক মণ্ডল এই সংকটের জন্য গ্রামীণ টোটোকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘মূলত গ্রামীণ এলাকার টোটো শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর ফলে শহরের টোটোচালকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহরের টোটোচালকরা সুনির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিং করেন এবং নির্দিষ্ট রুটেই চলেন।’
টোটোর এই দৌরাত্ম্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ম্যাক্সিক্যাব চালক ও মালিকরা। সংগঠনের ময়নাগুড়ি শাখার সম্পাদক স্বপন গোপ বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির আগে ময়নাগুড়ি শহরে ১২৫টি গাড়ি চলত। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫-৩০টিতে। রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে তেলের খরচ উঠছে না। বহু পুরোনো গাড়ি ভাঙাড়ি হিসেবে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। যেভাবে বাসের আগে দাঁড়িয়ে টোটো যাত্রী তুলছে, তাতে ব্যবসা চালানো অসম্ভব।’
একই যন্ত্রণার কথা শোনালেন কনডাক্টর কমল সেন। তিনি বলেন, ‘ধূপগুড়ির দিকে যাব বলে বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ সামনেই সারিসারি টোটো দাঁড়িয়ে যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে। এভাবে চললে আমরা গাড়ি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব।’ চালক বুবাই রায়ও এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। বাসের টাইম কিপার সুকুমার রাহা বলেন, ‘খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।’
তবে ময়নাগুড়ি ব্লক টোটো ইউনিয়নের সম্পাদক আফিদুল ইসলামের দাবি, তাঁরা প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই চালকদের গাড়ি চালাতে বলেছেন। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সোমেশ সান্যালও দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ময়নাগুড়ি ট্রাফিক ওসি অতুলচন্দ্র দাস জানান, নজরদারি চালানো সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে এই সমস্যা হচ্ছে, তবে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।