বিহারে মদ নিষিদ্ধের মাশুল দিচ্ছে বাংলা! মাতালদের তাণ্ডব ও ‘ছেলে ধরা’

 আতঙ্ক হরিশ্চন্দ্রপুরে, বাড়ছে অপরাধীদের আনাগোনা

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, হরিশ্চন্দ্রপুর: ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :-বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই উত্তপ্ত মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা। বাংলা-বিহার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এখন দ্বিমুখী আতঙ্ক। একদিকে বিহার থেকে আসা মদ্যপায়ীদের দৌরাত্ম্য, অন্যদিকে প্রতিবেশী রাজ্যের শিশুদের অপহরণ বা ‘ছেলে ধরা’র গুঞ্জন—এই দুই সাঁড়াশী চাপে দিশেহারা সাতমুনিয়া, ভেলাবাড়ি ও কুশিদা এলাকার বাসিন্দারা।
বিহার রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো কার্যত বিহারের বাসিন্দাদের মদের ‘হাব’ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই সীমান্ত পেরিয়ে দলে দলে মানুষ এখানে মদ খেতে আসে। শুধু তাই নয়, অবাধে চলছে মদ পাচার। কুশিদা এলাকার বাসিন্দা তাপস সিংহ বলেন, “সন্ধ্যার পর বিহারের মদ্যপায়ীরা এসে এলাকায় ঝামেলা করে, মারপিট হয়। আমাদের এলাকার সুস্থ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
সীমান্তের ওপারে বিহারের কাটিহার এলাকায় শিশু অপহরণের ঘটনায় হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। সেই রেশ এসে পড়েছে বাংলাতেও। মমতা সাহা ও দ্বিজেনচন্দ্র সিংয়ের মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনে-দুপুরে ভিক্ষুক সেজে এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়েছে। এর ফলে সন্তানদের বাইরে বের করতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। পাশাপাশি মাতালদের দাপাদাপিতে মহিলাদের রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর সবথেকে বড় অভিযোগ হলো প্রশাসনের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাতমুনিয়া বা কুশিদার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাকা পয়েন্টগুলোতে পাহারার দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র সিভিক ভলেন্টিয়ারদের। বড় কোনো পুলিশ আধিকারিক না থাকায় দুষ্কৃতীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে বলে গ্রামবাসীদের দাবি। তারা অবিলম্বে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ও নিয়মিত টহলদারির দাবি জানিয়েছেন।
যদিও জনরোষ ও আতঙ্কের বিষয়টি নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি অনুপ ঘোষ আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “সীমান্তবর্তী প্রতিটি নাকা পয়েন্টে নিয়মিত আধিকারিকরা টহল দিচ্ছেন। শুধু সিভিক নয়, সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসাররাও ডিউটি করেন। বিহারের কোনো দুষ্কৃতী যাতে অশান্তি না করতে পারে, সে বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছি।”
প্রশাসনের আশ্বাসের পরও আতঙ্ক কাটছে না হরিশ্চন্দ্রপুরের সীমান্ত পাড়ের মানুষের। ভোট যত এগোচ্ছে, এই সীমান্তবর্তী নিরাপত্তার অভাব ততই বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।