চূড়ান্ত তালিকা কি পিছোবে? ২১ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন ঘিরে অনিশ্চয়তা

 ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :- নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক:
ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান ঘিরে কার্যত চাপে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ নথি যাচাই শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। কমিশন সূত্রের খবর, ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যেতে পারে।

বিপুল সংখ্যক ‘অযোগ্য’ নথি

কমিশন নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভারদের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৯৭০ জন ভোটারের জমা দেওয়া নথি ‘অযোগ্য’ (Invalid) হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এদের অধিকাংশই কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি বৈধ নথির তালিকার বাইরে অন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে কোনো নথি গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে নিয়ম বহির্ভূত নথি বাতিল করা ছাড়া কমিশনের হাতে অন্য পথ ছিল না বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের।

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে একাধিক স্তরে জটিলতার ছবি সামনে আসছে—

* বাতিল নথি: ৪,৪৪,৯৭০ জন।
* শুনানিতে অনুপস্থিত: প্রায় ৭ লক্ষ ভোটার এসআইআর (SIR) শুনানিতে হাজির হননি।
* সিদ্ধান্তহীন নথি: প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নথি এখনও ইআরও (ERO) ও এইআরও (AERO)-দের পর্যায়ে ঝুলে রয়েছে।
* জেলাশাসকদের টেবিলে বকেয়া: আরও ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩২৩টি নথি নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি নথি পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়েছে। নির্বাচনকর্মীদের একাংশের মতে, এত অল্প সময়ে এই বিপুল পরিমাণ নথি খতিয়ে দেখা কার্যত পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ।

নিয়মভঙ্গের অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত তালিকার বাইরে নথি গ্রহণ করা হয়েছে। কেন এমন হল এবং কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে কমিশনের তরফে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হতে পারে। গোটা প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে বিশেষ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হয়েছে।

সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা

নিয়ম অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব নথি নিষ্পত্তি করার কথা। তবে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে কমিশনের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হতে পারে।

ভোটার তালিকা থেকে যদি বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ে, তার রাজনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে—সেই জল্পনাও এখন তুঙ্গে। রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান যে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।