দাগাপুরের অপহৃত নাবালিকা উদ্ধার; পুলিশের জালে হলদিবাড়ির যুবক সাজানুর

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, শিলিগুড়ি: ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :-  প্রধাননগর থানার পুলিশের তৎপরতায় অপহরণের কিনারা হলো শিলিগুড়িতে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হওয়া ১৬ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় সাজানুর হুসেন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তিতে নাবালিকার পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসের দিন প্রধাননগর থানার দাগাপুর এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা আচমকা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় সন্ধান চালিয়েও যখন ব্যর্থ হন, তখন তাঁরা প্রধাননগর থানায় একটি অপহরণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে প্রধাননগর থানার একটি বিশেষ দল। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, এই ঘটনার পেছনে হলদিবাড়ির বাসিন্দা সাজানুর হুসেনের হাত রয়েছে। এরপরই গোপন অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাজানুরকে জালে তোলে পুলিশ। তাকে দফায় দফায় জেরা করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রধাননগর থানা এলাকার একটি গোপন ডেরা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া নাবালিকা বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ধৃত সাজানুর হুসেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। এই ঘটনার পেছনে আর কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না বা কেন এই অপহরণ— তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকরা।

বিয়েবাড়িতে জানলা দিয়ে ঢুকে ‘সাফাই’ অভিযান! আশিঘর পুলিশের তৎপরতায় শ্রীঘরে চোর, উদ্ধার সোনার গয়না ও মোবাইল

শিলিগুড়ি: বিয়েবাড়ির ভিড় আর ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে চুরির বড়সড় ছক কষেছিল দুষ্কৃতী। কিন্তু পুলিশের ক্ষিপ্রতায় সেই ছক ভেস্তে গেল। শিলিগুড়ির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের অরবিন্দ পল্লী সংলগ্ন এলাকায় একটি বিয়েবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার করল আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অজয় মহতো নামে এক যুবককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বাগডোগরার বাসিন্দা মাম্পি দে সরকার আশিঘর এলাকায় একটি বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাতে সেখানেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাঁরা। গভীর রাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন জানলা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢোকে দুষ্কৃতী। অভিযোগ, সেখান থেকে সোনার গয়না ভর্তি একটি ব্যাগ এবং তিনটি দামী মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয় সে। ১৫ তারিখ সকালে চুরির বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ওইদিনই মাম্পি দেবী আশিঘর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামেন আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকরা। এসিপি (এস্টেট) সোমনাথ দাস জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে তদন্তকারী দল দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপরই শিলিগুড়ির ঘুঘুমালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজয় মহতোকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার অলঙ্কার এবং তিনটি মোবাইল ফোন।
আজ মঙ্গলবার ধৃত অজয় মহতোকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় খুশি অভিযোগকারিণী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।