প্যাঙ্গুলিনের আঁশ সহ গ্রেফতার আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের ৩ সদস্য
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, শিলিগুড়ি | ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :-ফালাকাটা: আন্তর্জাতিক বাজারে বহুমূল্য ও নিষিদ্ধ প্যাঙ্গুলিনের আঁশ পাচারের ছক বানচাল করল বন দপ্তর। রবিবার রাতে সোনাপুর-জয়গাঁ সড়কে অভিযান চালিয়ে এক কেজি ৭১০ গ্রাম প্যাঙ্গুলিনের আঁশ সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছেন বনকর্মীরা। ধৃতদের মধ্যে একজন অসমের এবং বাকি দুইজন কোচবিহারের বাসিন্দা।
জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জের রেঞ্জার রাজীব চক্রবর্তীর কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে, মেঘালয় থেকে একটি বড় চালান আলিপুরদুয়ার হয়ে পাচার হতে চলেছে। সেই মতো বনকর্মীরা সোনাপুর-জয়গাঁ সড়কে ওত পেতে বসেছিলেন। পাচারকারীরা সেখানে পৌঁছে নিষিদ্ধ ওই আঁশ হাতবদল করার সময় বন দপ্তরের বিশেষ দল তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
বন দপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত শাজাহান আলি অসমের বাসিন্দা। সে মেঘালয় থেকে এই আঁশ সংগ্রহ করে আলিপুরদুয়ারে নিয়ে এসেছিল। সেখানে কোচবিহারের বাসিন্দা সুরজিত দাস ও মুকুল রহমানের কাছে এই আঁশগুলি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। পাচার চক্রের এই শিকড় ভিন রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত বলে নিশ্চিত বনকর্তারা।
প্যাঙ্গুলিনের এই আঁশ ঠিক কোথায় এবং কার কাছে পাঠানো হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্যাঙ্গুলিন একটি অতি সংরক্ষিত প্রাণী, যার দেহাংশ কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। সোমবার ধৃত তিনজনকে আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হয়েছে।
শিলিগুড়িতে গুদামের তালা ভেঙে ১৬.৫ লক্ষ টাকার সিলিন্ডার চুরি;
ধৃত ৩, এখনও হদিস মেলেনি সিলিন্ডারের
শিলিগুড়ি: শহরের ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন একটি গুদাম থেকে প্রায় ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার প্রিন্টিং সিলিন্ডার চুরির ঘটনায় বড়সড় রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ এই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও, চুরির তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি ৩২৫টি সিলিন্ডারের একটিও। এই ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ী মহলে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ জানুয়ারি চুরির বিষয়টি প্রথম নজরে আসে ‘আনন্দ ডোমেস্টিক অ্যাপ্লায়েন্সেস প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থার কর্মীদের। গুদামে নতুন স্টক রাখতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, সামনের ও পেছনের দরজা ভাঙা। ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিদ্যুতের তার। গুদামের বাইরে ও ভেতরে ভাঙা মদের বোতল পড়ে থাকতে দেখে কর্মীদের সন্দেহ হয়, দুষ্কৃতীরা দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আড্ডা জমিয়ে অপারেশন চালিয়েছে। হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, গুদাম থেকে মোট ৩২৫টি দামী প্রিন্টিং সিলিন্ডার উধাও।
ঘটনার পর আশিঘর পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রসেনজিৎ রায়, কালীন শর্মা ও কৃষ্ণ রায় নামে তিন যুবককে গ্রেফতার করে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তাদের জলপাইগুড়ি আদালতে তুলে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। হেফাজতে থাকাকালীন পুলিশ তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ১৬.৫ লক্ষ টাকার সেই সিলিন্ডারগুলো কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে বা কাকে বিক্রি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য মেলেনি।
আজ সোমবার অভিযুক্তদের পুনরায় আদালতে তোলা হয়েছে। তবে পুলিশের জালে চোর ধরা পড়লেও মূল সামগ্রী উদ্ধার না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরের বাইপাস এলাকায় সিসিটিভি ও নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এতগুলো ভারী সিলিন্ডার চম্পট দিল, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং সিলিন্ডারগুলি ভিন রাজ্যে পাচার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
