ফেব্রুয়ারিতে চড়ছে তাপমাত্রার পারদ
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, শিলিগুড়িঃ ,৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬:-
বারবার পিচ বদল করেও আর থিতু হতে পারছে না শীতের ব্যাটিং। ভ্যালেন্টাইনস ডে বা সরস্বতী পুজোর সেই চেনা শিরশিরানি কি এবার অধরাই থাকবে? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী রবিবারের পর থেকেই পাকাপাকিভাবে রাজ্য থেকে পাততাড়ি গোটাতে শুরু করবে শীত।
উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া আপাতত মনোরম থাকবে। হিমালয় সংলগ্ন জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৬ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। তবে পাহাড় ভ্রমণে বাধা হতে পারে কুয়াশা। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ভ্যালেন্টাইনস ডে তে যারা পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের কুয়াশার কথা মাথায় রেখেই যাত্রার সময় স্থির করতে হবে।
শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭.১ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী পাঁচ দিন ভোর এবং রাতে শীতের আমেজ কিছুটা বজায় থাকলেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজ অনুভূত হবে। সোমবার থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রেমের উৎসবে ভারী সোয়েটার বা জ্যাকেট নয়, বরং হালকা স্টাইলিশ পোশাকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন বঙ্গবাসী।
তবে এখনই কুয়াশা থেকে রেহাই নেই। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলোতে ভোরের দিকে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ভোরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতার অভাব ভোগাতে পারে।
কেন এই অকাল বিদায়? শীতের এই আকস্মিক বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছে বায়ুমণ্ডলের একাধিক পরিবর্তন। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নতুন করে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে তৈরি হয়েছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। এই ভৌগোলিক পরিবর্তনের ফলে উত্তুরে হাওয়ার পথ রুদ্ধ হচ্ছে এবং জলীয় বাষ্পের আধিক্য বাড়ছে, যার জেরেই ফিকে হয়ে আসছে শীতের আমেজ।
বুক ভরা স্বপ্ন বনাম পেটের টান! মাধ্যমিক আসতেই মন খারাপ মইনুলের
ফালাকাটা: গত বছর এই সময় ছেলেটা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু পাশ করতে পারেনি। পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসা হয়নি। তাই পড়াশোনা ছেড়ে কাজকর্মে মন দিয়েছে। কাজ বলতে পরিত্যক্ত বোতল কুড়োনো, কাচের মদের বোতল, প্লাস্টিকের জল বা ঠান্ডা পানীয়ের বোতল। এই কাজে ছেলেটার সঙ্গী হয়েছে তার খড়তুতো ভাই, যার আবার বাবা-মা কেউ নেই। দুই কিশোর আবর্জনা ঘেঁটে বোতল খুঁজে বস্তা ভর্তি করে। এরপর বোতলগুলি কারখানায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এভাবেই ওদের দিন কেটে যায়।
কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষা আসতেই এক অদ্ভুত বিষাদ গ্রাস করেছে মইনুল আলিকে। স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছেলেমেয়েরা যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তখন সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকছে সেদিকে। বুকের ভেতর একটাই ধ্বনি বাজছে- আমি পারিনি। এদিকে সারাদিন মন খারাপ করে থাকলে তো পেট চলবে না। অগত্যা ভাই জামেনুল আলিকে নিয়ে বোতল সংগ্রহের কাজে লেগে পড়তে হয় তাকে।
বাড়ি মাথাভাঙ্গার হিন্দুস্থান মোড় এলাকা হলেও মইনুলদের রোজগারের উৎস আলিপুরদুয়ার। ফালাকাটার রাইচেঙ্গা, আসাম মোড়, বালুরঘাট, শিশাগোড় ও আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের মেজবিল, পলাশবাড়ি, সাহেবপোঁতা, সোনাপুর, বাবুরহাট, ভান্ডানিহাট, শালকুমারহাট, নতুনপাড়া, সিধাবাড়ি, যোগেন্দ্রনগর এলাকায় প্রায়ই দুই ভাইকে দেখা যায়। মাধ্যমিকে ফেল করার পর প্রথমে টোটো কিনেছিল বছর ষোলোর মইনুল। কিন্তু রাস্তায় টোটোর অভাব নেই। সে পাল্লা দিয়ে পেরে ওঠেনি। রোজগার হচ্ছিল না। তাই বোতলবোঝাই বস্তাগুলিকে এখন সে ওই টোটো করেই কারখানায় নিয়ে যায়। মইনুলের বাবা সফিকুল আলি দিনমজুর। মইনুল জানাল, বয়স কম বলে সে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যায়নি। জামেনুলের বয়স যখন মাত্র ৬ বছর, তখন তার বাবা ও মা দুজনই মারা যায়। এখন জামেনুলের বয়স ১৪, সে মইনুলদের বাড়িতে থাকে। জামেনুল পড়েছে ক্লাস এইট পর্যন্ত। পড়াশোনা নিয়ে আর এগোতে পারেনি।
বোতল কুড়োনোর ফাঁকে মইনুল বলে চলে, ‘গতবার এরকম সময় আমিও মাধ্যমিক দিচ্ছিলাম। কিন্তু ফেল করায় আর স্কুলে যাইনি। সংসার চলে না। তাই বোতল কুড়োতে শুরু করি।’ আর রোজগার? মইনুলের জবাব, ‘কোনওদিন দেড় হাজার, তো কোনওদিন এক হাজার টাকা। যা হয় দুই ভাই ভাগ করে নিই।’ ওরা আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন এলাকা থেকে বোতল সংগ্রহ করে মাথাভাঙ্গার একটি কারখানায় নিয়ে যায়। এত কম বয়সে ওদের কাজ করতে দেখে অনেকেই কথা বলতে এগিয়ে যান। সেরকমই কথা বলছিলেন শিশাগোড়ের এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বাপ্পা সরকার। পরে তিনি বললেন, ‘দুজনকে দেখে খারাপ লাগছিল। জঞ্জাল ঘেঁটে বোতল কুড়োচ্ছিল। যে বয়সে স্কুলে পড়ার কথা, সেই বয়সে নোংরা ঘেঁটে উপার্জন করছে।’ ফালাকাটার এক পরিবেশপ্রেমী সংস্থার সম্পাদক সুজিত সরকারের বক্তব্য, ‘এই বয়সে এমন কাজ করা ঠিক নয়। হয়তো পরিস্থিতির চাপে রোজগারের এই পথ বেছে নিয়েছে। প্লাস্টিক পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক। যেখানে অনেকে প্লাস্টিকের বোতল ফেলে দিচ্ছে। সেগুলি কুড়িয়ে ওরা পরিবেশকে একদিক থেকে রক্ষা করছে।’
