গৃহকর্তার আত্মহত্যা, লালবাগে চাঞ্চল্য

ভগবানগোলায় চরম নৃশংসতা! স্ত্রী ও দুই মেয়েকে গলা কেটে খুন


নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, লালবাগ,৩০শে জানুয়ারী ২০২৫:- মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী ভগবানগোলা থানা এলাকায় এক হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল বুধবারের সকাল। একটি বন্ধ ভাড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হলো একই পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফল ব্যবসায়ী মানিক বেপারী, তাঁর স্ত্রী দোলা ব্যাপারী এবং তাঁদের দুই নাবালিকা কন্যা। পরিবারের তিন সদস্যের গলাকাটা দেহ মেঝের ওপর রক্তাপ্লুত অবস্থায় পড়ে থাকলেও, গৃহকর্তা মানিকের দেহটি ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিক বেপারীর আদি বাড়ি নদিয়া জেলায় হলেও ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি পরিবার নিয়ে ভগবানগোলায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। বুধবার সকাল থেকেই ওই ভাড়াবাড়ি থেকে উৎকট দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন প্রতিবেশীরা। দীর্ঘক্ষণ ডাকার পরেও কারও সাড়া না মেলায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়। খবর দেওয়া হয় ভগবানগোলা থানায়। পুলিশ পৌঁছে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করতেই শিউরে ওঠেন আধিকারিকরা।
তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক কলহ বা আর্থিক অনটনের জেরে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মানিক। সম্ভবত স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করার পর, অপরাধবোধ বা অবসাদ থেকে নিজে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বা সময় নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না প্রশাসন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ভগবানগোলার এসডিপিও (SDPO) বিমান হালদার ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘর থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই পরিবারের নদিয়ার আত্মীয়দেরও খবর দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দুটি ছোট শিশুসহ পুরো পরিবারের এই করুণ পরিণতিতে স্তম্ভিত ভগবানগোলার বাসিন্দারা। পাড়াপড়শিদের দাবি, বাইরে থেকে পরিবারটিকে সুখী বলেই মনে হতো। কী এমন ঘটল যে মানিককে এমন নৃশংস পথ বেছে নিতে হলো, তা নিয়ে এলাকায় জল্পনা তুঙ্গে।