দারিদ্র্য জয় করে সিভিল সার্ভিসে মেখলিগঞ্জের নীলকমল,

খুশির হাওয়া কৃষক পরিবারে 

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, জামালদহ:৩০শে জানুয়ারী ২০২৫:-  অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের কাছে হার মানল চরম দারিদ্র্য। ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় অভাবনীয় ফলাফল করে নজর কাড়লেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের যমেরডাঙ্গা গ্রামের ভূমিপুত্র নীলকমল বর্মন। রাজবংশী কৃষক পরিবারের এই মেধাবী সন্তানের সাফল্যে খুশির জোয়ার বইছে গোটা এলাকায়।

নীলকমলের বাবা লালকান্ত বর্মন পেশায় এক সামান্য কৃষক। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারেও ছেলের পড়াশোনার স্বপ্নে তিনি কখনো বাধা হতে দেননি। জামালদহ তুলসী দেবী উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নীলকমলের ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মেধার প্রশংসা করতেন। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা থেকে উঠে এসে রাজ্যের এই শীর্ষস্থানীয় পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে নীলকমল প্রমাণ করে দিলেন যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে আর্থিক অনটন কোনো বাধা নয়।
সম্প্রতি জামালদহ এলাকায় একটি নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই দুঃসময়ে নীলকমলের এই ‘হিমালয় সম’ সাফল্য এলাকাবাসীর কাছে ইতিবাচক ও খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে। মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন মহল থেকে নীলকমলকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

নীলকমলের এই জয়যাত্রা আগামী দিনে প্রান্তিক এলাকার বহু যুবক-যুবতীর কাছে সিভিল সার্ভিসে আসার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির জের, চা শিল্পে নবজোয়ারের সম্ভাবনা   

শিলিগুড়ি: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারত সরকারের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে চা শিল্পে আসতে চলেছে নবজোয়ার। বুধবার একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কথা জানান টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি শৈলজা মেহেতা। ১৬তম ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সদ্য স্বাক্ষরিত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে গোটা দেশের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের চায়ের ব্যবসাও লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত থেকে প্রতি বছর ১৯-২১ মিলিয়ন কেজি চা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির মধ্যে জার্মানি এবং পোল্যান্ডেই ভারতের চা সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করা হয়। এই  দুটি দেশ থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলিতে ভারতের চা বণ্টন করা হয়। এই প্রসঙ্গে শৈলজা বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে ভারতের কৃষিজাত দ্রব্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চায়ের মতো পণ্যগুলির প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ব্ল্যাক টি-এর ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগামীতে গ্রিন টি-এর ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।’ তিনি যোগ করেন, ‘এই চুক্তি থেকে লাভবান হওয়ার জন্য ক্ষুদ্র এবং মাঝারি চা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে যাতে চায়ের উৎপানকারী ও রপ্তানিকারীরা লাভবান হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যবসার  সঙ্গে যুক্ত স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।’