নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, হরিশ্চন্দ্রপুর , ১৮ নভেম্বর ২০২৫: মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল হরিশ্চন্দ্রপুর। খাস জমির দখল নিয়ে বিবাদের জেরে একঘরে হয়ে থাকা হরিশ্চন্দ্রপুর থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাবার দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে এগিয়ে এলেন না এলাকার কেউ। বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী মুসলিম পাড়ার প্রতিবেশীরাই এগিয়ে এলেন রনজিৎ দাস নামে ওই প্রৌঢ়ের দেহ সৎকারে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর রামপুর গ্রামের ঘটনা।
জানা গিয়েছে, স্থানীয় রনজিৎ দাস (৬৫) এবং তাঁর পরিবারের, এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সামনে খাস জায়গা দখল নিয়ে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির সামনের খাস জায়গা ওই কয়েকজন অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা করছিলেন। এই নিয়ে বহুবার বচসা হয়। দখলকারীদের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রকাশ দাস এবং প্রাক্তন প্রধান রেজাউল হক মদত দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। বহুবার ওই পরিবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা, মহকুমা প্রশাসন, জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। মৃতের ছেলে কিশোর দাস পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। তবুও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।
অভিযোগ, তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রকাশ দাসের নির্দেশে এই বিবাদের কারণে প্রতিবেশীরা তাঁদের একঘরে করে রেখেছিল। এই পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন রনজিৎ দাস। মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু শবদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে আসেননি। ঘটনা জানতে পেরে পার্শ্ববর্তী মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন মরদেহে কাঁধ দিতে এগিয়ে আসেন। অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়াতেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন মুসলিম সহনাগরিকরা।
রনজিৎ দাসের স্ত্রী কলাবতী দাসের অভিযোগ, ‘আমার বাড়ির সামনে খাস জায়গা কয়েকজন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। ওখানে একটি অস্থায়ী মন্দির বানিয়েছে। সবটাই হয়েছে তৃণমূল নেতা প্রকাশ দাস এবং এলাকার প্রাক্তন প্রধান রেজাউল হকের নেতৃত্বে। আমার ছেলে সিভিক ভলান্টিয়ার। কিন্তু পুলিশের থেকে সেরকম কোনো সাহায্য পাইনি। এর আগে ওই জমি নিয়ে গন্ডগোলের জেরে আমার বাড়িতে একাধিকবার ভাঙচুর লুটপাট চালিয়েছে। প্রকাশ আর রেজাউলের নির্দেশে সালিশি সভায় আমাদের পরিবারকে একঘরে করার নিদান দেওয়া হয়েছে। গত সন্ধেবেলা স্বামী মারা যায়। কিন্তু দেহ সৎকারের জন্য পাড়ার কেউ এগিয়ে আসেননি। মুসলিম পাড়ার বাসিন্দারা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করল।’
এবিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য প্রকাশ দাস বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি। কাউকে একঘরে করিনি। এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে ওঁদের জমি নিয়ে গন্ডগোল চলছিল। তাছাড়া ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর আমাকে কেউ জানায়নি।’ ঘটনার নিন্দা করেছেন বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। আমি অবশ্যই বিষয়টি খোঁজ নেব।’ হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, ‘জমি নিয়ে একটা গন্ডগোলের খবর পেয়েছিলাম। অভিযোগও ছিল। সেটা নিয়ে তদন্তও চলছে। একঘরে রাখার কথা আমার জানা নেই।’ হরিশ্চন্দ্রপুর ১ এর বিডিও সৌমেন মণ্ডল বলেন, ‘একঘরে করে রাখার নিদান কখনোই আইনসম্মত নয়। বিষয়টি আমি খোঁজ নেব।’
জমি বিবাদের জেরে ‘একঘরে’ পরিবার! সৎকারেও এগিয়ে এল না প্রতিবেশীরা
