সড়ক সারাতে ভরসা পূর্ত দপ্তর, দায়িত্ব পেয়েও কাজ শুরু করেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা 

 

নিউজ ইউএপি ডিজিটাল ডেস্কঃ বালুরঘাট;২৪শে অক্টোবর,২০২৫ :-শিলিগুড়ি: 

যেনতেনপ্রকারে রাস্তা মেরামত করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি সংস্থাকে অনুরোধ করে কাজ করাতে হচ্ছে পূর্ত দপ্তরকে। সম্প্রতি পাহাড়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ভিভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য পূর্ত দপ্তরকেই রাস্তা মেরামত করতে হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন পূর্ত দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তা হাতে নেই, আর্থিক বরাদ্দ নেই, তাহলে কীভাবে কাজ করা সম্ভব?

দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগ স্থাপনকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দেখভালের জন্য পূর্ত দপ্তরের আলাদা অফিস রয়েছে। আধিকারিকও রয়েছেন। কিন্তু রাস্তার দায়িত্ব চলে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক সংস্থার হাতে। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক মাস কেটে গেলেও কেন্দ্রীয় সংস্থাটি কাজে হাত দেয়নি। তাই ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসন সেই পূর্ত দপ্তরকেই তলব করছে। যেনতেনপ্রকারে রাস্তা মেরামত করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি সংস্থাকে অনুরোধ করে কাজ করাতে হচ্ছে পূর্ত দপ্তরকে। সম্প্রতি পাহাড়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ভিভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য পূর্ত দপ্তরকেই রাস্তা মেরামত করতে হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন পূর্ত দপ্তরের কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তা হাতে নেই, আর্থিক বরাদ্দ নেই, তাহলে কীভাবে কাজ করা সম্ভব? পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার নির্মল মণ্ডল বলেছেন, ‘রাস্তা জাতীয় এজেন্সিকে দিয়ে দেওয়ায় দার্জিলিং জেলায় আমাদের দুটি সাব-ডিভিশন পুরোপুরি অকেজো হয়ে গিয়েছে। সেখানে আধিকারিক, কর্মীরা থাকলেও কাজ কিছুই নেই।’ একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সড়ক বা হিলকার্ট রোডের দায়িত্ব পুনরায় পেতে চেয়ে রাজ্য পূর্ত দপ্তর কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রকে চিঠি দিয়েছে। যদিও দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট বলেছেন, ‘শুধু মুখ্যমন্ত্রী এলেই জেলা প্রশাসনের ভাঙা রাস্তা মেরামতের কথা মনে পড়ে। সাধারণ মানুষের জন্য পূর্ত দপ্তর রাস্তা মেরামতের কাজ করে না। তাই রাস্তাটি পূর্ত দপ্তরের হাত থেকে নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু হয়ে যাবে।’

ধাপে ধাপে রাজ্যের হাতে থাকা জাতীয় সড়কগুলি কেন্দ্রীয় সড়ক সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে। গত বছর ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডকে (এনএইচআইডিসিএল)। ফলে সে সময় পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়কের একটি সাব-ডিভিশন কর্মহীন হয়। ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দীর্ঘদিন পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক ডিভিশন-৯’এর হাতে ছিল। রাস্তাটি দেখভালের জন্য পূর্ত দপ্তরের জাতীয় সড়ক বিভাগের (ডিভিশন-৯) দুটি সাব-ডিভিশন করা হয়েছিল। শিলিগুড়ি সাব-ডিভিশন অফিস দার্জিলিং মোড় থেকে মহানদী পর্যন্ত এবং দার্জিলিং সাব-ডিভিশন অফিস মহানদীর পর থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রাস্তা দেখভালের দায়িত্বে ছিল। প্রতিটি অফিসে একজন করে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, একাধিক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার, জব অ্যাসিস্ট্যান্ট সহ বিভিন্ন পদে কর্মী রয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই জাতীয় সড়কটিও এনএইচআইডিসিএলকে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাস্তাটির দায়িত্ব হস্তান্তরও হয়ে গিয়েছে। যার ফলে পূর্ত দপ্তরের দুটি অফিসের হাতে বাস্তবে কোনও কাজ নেই। কিন্তু ৪ অক্টোবরের দুর্যোগে রাস্তাটি আরও বেহাল হতেই মেরামতের জন্য ডাক পড়ছে পূর্ত দপ্তরেরই। যে কারণে রাস্তাটির দায়িত্ব ফিরে পেতে চাইছে রাজ্যের পূর্ত দপ্তর।