নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, ৩০শে সেপ্টেম্বর,শিলিগুড়ি,২০২৫ :–ম্যাগাজিন পদ্য এবার ২৫ বছর পূর্ণ করলো। সম্পাদিকা রিমি দে-র উদ্যোগে এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হলো নতুন প্রজন্মের কবি ও লেখকদের। অনুষ্ঠানটি ছিলো সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা।উত্তরবঙ্গের তিন সাহিত্য পত্রিকা তিস্তাগুড়ি, শিলিগুড়ি জংশন ও একপশলা বৃষ্টি-কে পদ্যবন্ধু সম্মান জানাল কবি রিমি দে সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা পদ্য। এই পত্রিকার একটানা প্রকাশনার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শুক্রবার এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর সহ অন্য জেলার লেখক, কবি, সাহিত্যিকরাও। পত্রিকা নিয়ে ২৫ বছর ধরে সব বাধা পেরিয়ে একক পথ চলার কথা মাত্র দুই মিনিটেই অকপটে বলে ফেলেন রিমি। পত্রিকাকে আগামীদিনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে কিছু কথা বলেন ঊর্মিলা চক্রবর্তী, বিজয় দে, গৌরীশংকর ভট্টাচার্য, নীলাদ্রি দেব, মানবেন্দ্র সাহা, গৌতম গুহ রায়, তনুশ্রী পাল, ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য। পদ্যের প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা নিয়ে অলোচনা করেন পুরুষোত্তম সিংহ। অনুষ্ঠানে আলোচনা ছাড়াও ছিল গান, কবিতা পাঠ এবং আড্ডা। আর তাতে অংশ নেন আরও অনেক কবি, সাহিত্যিক। আন্তরিকভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মানসী।
ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্য বলেন যে তার(রিমি দের) সম্পাদিত গদ্য বইগুলি পড়েই আপাতত আমার তাঁকে জানা। গত বছর পদ্য পত্রিকার বিষয় ছিল সত্য ও সততা। আজকের এই আদর্শ, মানবতাবাদ ও মূল্যবোধের ঘোলাটে পরিসরে এরকম একটি সাহসী বিষয় নিয়ে সংখ্যার ভাবনা সম্পাদকের তাঁর কাজের প্রতি অনমনীয় ঋজুতা ও দায়বদ্ধতাকেই তুলে ধরে। বইটির পাঠশেষেও বইতে আলোচিত বিষয়বস্তুর বহুমাত্রিক বিস্তৃতি শুধু নয়, তার ভীষণ সৎ সম্পাদনাটুকুও বিশেষভাবে মনে থেকে যায়। এছাড়াও পড়া হয়েছে তাঁর সম্পাদিত আরও একটি অসম্ভব জরুরি সংকলন গ্রন্থ উত্তরাবাস। এটি সম্পূর্ণ গদ্য গ্রন্থ। হাওয়াকল পাবলিশার্স থেকে ২০২৩শের এপ্রিলে প্রকাশিত উত্তরবঙ্গ বিষয়ক স্মৃতি সংকলন। উত্তরবঙ্গের সাথে যুক্ত এগারোজন বিদগ্ধ গুণী মানুষের লেখনীতে ধরা পড়েছে গত শতকের পাঁচের দশক থেকে আজ অবধি এই উত্তরের পাল্টে যাওয়া সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সার্বিক পরিমণ্ডলের জীবন্ত চলচ্ছবি। খুব স্বল্প সময়ের আলাপে এ দুটি বইয়ের পাতার পর পাতা উল্টোতে উল্টোতেই রিমি দের সাহিত্য বোধ ও চেতনার সঙ্গে ঘটেছে আমার পাঠক সত্তার নিবিড় পরিচয়। তাই কদিন আগে চণ্ডাল প্রকাশিত সাথী নন্দী এবং কালিপদ বর্মনের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক উন্মোচন বইটি যখন হাতে এসে পড়ল তাতে দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটিই পড়লাম রিমি দের। ব্যক্তিগত পছন্দ সযত্নে সরিয়ে রেখে উঁকি দিতে চাইলাম তাঁর সাহিত্য সত্তাটির অন্তঃস্থলে। এবং, মুগ্ধ হলাম অচিরেই। তাঁর সম্পাদনার গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি পড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়ে উঠল ভীষণ। হয়তো এটিই এই উন্মোচন বইটিরও আরও একটি লক্ষ্য বটে, কোনও প্রিয় সাহিত্য ব্যক্তিত্বের যে কাজগুলো এখনও অনাঘ্রাত রয়ে গেছে কোনও কোনও পাঠকের কাছে, তার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলা, নব নব রূপে ও আঙ্গিকে নিজেরই প্রিয় সে কবি অথবা গদ্যকারকে চিনতে শেখা, নতুন জ্ঞান প্রদীপের আলোয় আবারও আবিষ্কার করা নিজেরই অনুসন্ধিৎসু পাঠক মনকে।

সম্পাদক রিমি দের পাশাপাশি কবি রিমি দের কবিতা বিষয়ক অনন্য চিন্তা ও দর্শনেরও একটি বেশ অন্তর্ভেদী পরিচয় পাওয়া যায় যখন তাঁর স্বরচিত কবিতাগুলির প্রকৃতি ও গঠনরীতি বিষয়ে তিনি বলে ওঠেন,’ কবিতার একটা নিজস্ব ভাষা রয়েছে। সেই ভাষার বোধের কাছাকাছি প্রথমে নিয়ে যেতে হবে পাঠককে। কবিতার ভাষা সাহিত্যের অন্যান্য শাখার ভাষার মতো নয়। কবিতার পাঠককে দীক্ষিত হতে হয়। সেই জন্যেই কিন্তু কবিতার প্রকৃত পাঠক কম এবং কবিতার কোনও একটি সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা নেই। যে যেমন লেখেন, তার মতো করে সংজ্ঞা তৈরি করেন…সবচেয়ে বড় কথা প্রেম ও প্রতিবাদ ছাড়া কবিতা হয় না।‘ এই সময়ের কবিতা বিষয়েও তাঁর সুস্পষ্ট বীক্ষণ ধরা পরে যখন তিনি বলেন,’ এই সময়ের কবিতা বহুমাত্রিক। বহু স্বর ফুটে ওঠে। আর পরিণতিহীন অর্থাৎ শেষাংশ মুক্ত অর্থাৎ ওপেন এন্ডেড। সেখানে পাঠকের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে নিজস্ব বোধ দিয়ে লেখাকে আত্মস্থ করবার।‘ তাঁর কলমে কিভাবে কখন কবিতা আসে সে বিষয়েও তাঁর সহজ স্বীকারোক্তি হল,’ কখনোই বিষয় নির্বাচন করে আমি কবিতা লিখি না…কখন কীভাবে লেখা হবে, বিশেষ করে কবিতা, সে তো আমিও জানি না! কখন কোন মুহুর্ত অন্তরমহলে আলোরন তুলবে সে তো আমারও জানার নাগালের বাইরে।তবে একটাই কথা যে বর্তমান সংখ্যা নিয়ে চমৎকার বললেন সুবক্তা ও লেখক পুরুষোত্তম সিংহ। সংগ্রহযোগ্য এই সংখ্যাটি সমাজে নারীর অবস্থান বিষয়ক। নিয়মিত ক্ষুদ্র পত্রিকা প্রকাশ করার অনেক সমস্যা। এখনো সমাজে একজন নারীকে কিছু অতিরিক্ত প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। প্রায় একার প্রচেষ্টায় ২৫ বছর ধরে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে যাওয়া সহজ কাজ নয়। কবি রিমি দে-কে অভিনন্দন।এগিয়ে চলুক রিমি দে ও তার পদ্য
