মিড-ডে মিলের আলু নিয়ে সমস্যা

নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, ২৫শে সেপ্টেম্বর,২০২৫ :জলপাইগুড়ি: মিড-ডে মিলের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া আলু নিয়ে মহাফাঁপরে পড়েছে জেলার একাধিক প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি স্কুল। হঠাৎ করে ছুটির নির্দেশ আসায় স্কুলে মজুত থাকা আলু থেকে যাওয়ায় কী করা হবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে অনেক স্কুল। জঙ্গল লাগোয়া এলাকার কিছু স্কুল তো আবার হাতির ভয়ে বেঁচে যাওয়া আলু রান্নার কাজে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ আবার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আলু ভাগ করে দিয়েছে।
গরুমারা জাতীয় উদ্যান লাগোয়া কালামাটি জুনিয়ার হাইস্কুলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা প্রায় ২১৬। গত সপ্তাহের সোমবার স্কুলে বরাদ্দ আলু এসে পৌঁছায়। আর মঙ্গলবারই কলকাতায় তুমুল বৃষ্টির জেরে বুধবার থেকে রাজ্যের সরকারি স্কুল-কলেজে পুজোর ছুিট ঘোষণা করে দেয় রাজ্য সরকার। ফলে ওই স্কুলের ভঁাড়ারে প্রায় এক কুইন্টাল আলু বেঁচে গিয়েছে। হাতির ভয়ে সেই আলু রান্নার কাজে যুক্ত মহিলাদের হেপাজতেই রাখতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানালেন স্কুলের মিড-ডে মিল ইনচার্জ শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু রায়৷ নাগরাকাটার টন্ডু টিজি ৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের চাল খাওয়ার জন্য বহুবার হাতির হামলা হয়েছে। স্কুলের সহকারী শিক্ষক লক্ষ্মীনারায়ণ সাউ বলেন, ‘২৫ সেপ্টেম্বর হয়ে স্কুল বন্ধ হবে বলে জানতাম। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে নোটিশ পাই স্কুল বন্ধের। তখন আগামী কয়েকদিনের আলু স্কুলে রেখে দিলে তা হাতির খাবার হবে। তাই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বণ্টন করব বলেই ঠিক করেছি।’
গত সপ্তাহের সোমবার কৃষি বিপণন দপ্তর থেকে জেলার প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি ৩০০০ স্কুলে মিড-ডে মিলের জন্য মোট ১৬৬ মেট্রিক টন আলু দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত বুধবার থেকে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্কুলই তাদের কাছে থাকা আলু খরচ করতে পারেনি। স্কুল ফের খুলবে ছটপুজোর পর। স্কুল খুললে আরও দুই দফায় মিড-ডে মিলের জন্য আলু সরবরাহ করা হবে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ততদিনে স্কুলে থাকা অবশিষ্ট আলু পচে দুর্গন্ধ বেরোবে। এই পরিস্থিতিতে অনেক স্কুল জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চলেছে।
চলতি বছর কৃষকরা আলুর দাম পাচ্ছিলেন না। কেজিপ্রতি আলু কৃষকরা ৬ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন। রাজ্য সরকারের নির্দেশে জেলা প্রশাসন চাষিদের থেকে ১০ টাকা কেজি দরে আলু কিনেছিল। সেই আলুই এখন মিড-ডে মিলে দেওয়া হচ্ছে বলে জেলার কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক দেবাঞ্জন পালিত জানিয়েছেন।
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সম্পাদক বিপ্লব ঝা অভিযোগ করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমার ননী সাহা কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলু পেয়েছি। তার মধ্যে ছুটি ছিল। এখন তো স্কুলই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক আলু এখনও স্কুলে জমে আছে। ওই আলু নিয়ে কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। স্কুলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। পচে দুর্গন্ধ বের হবে। বৃহস্পতিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছি।’
তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি স্বপন বসাক অবশ্য বলেন, সরকার থেকে মিড-ডে মিলে আলু ১০-১২ দিন আগে দিয়েছিল। এখন স্কুল বন্ধ হওয়ার পর কয়েকটি স্কুলে হয়তো চার বা পাঁচ কেজি করে আলু থাকতে পারে। তেমন কোনও সমস্যা নয়।
এদিকে জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক দেবাঞ্জন পালিত দাবি করেন, যে স্কুলে যেটুকু প্রয়োজন তার বেশি আলু দেওয়া হয়নি। তাছাড়া জ্যোতি আলু ড্রাই করে দেওয়া হয়েছিল। কিছু আলু থেকে গেলেও ২০-২২ দিন ঠিক থাকবে।’ পুজোর পর আরও দুই দফায় আলু মিড-ডে মিলের জন্য দেওয়া হবে বলে জেলা শাসক শামা পারভিন জানিয়েছেন।