নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর,২০২৫ :–
শালকুমারহাট: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নেপালিটারিতে ভিন্নভাবে হয় দুর্গাপুজো। এই পাড়ায় প্রায় দুশো নেপালি পরিবারের বসবাস। সর্বজনীনভাবে মন্দিরে তো পুজো হয়। পাশাপাশি নেপালিদের বাড়ি বাড়িও দেবী দুর্গার পুজো হয়। বাড়ির পুজোর মেয়াদ তিনদিন। আর বাড়ির ক্ষেত্রে কুমারীপুজো দিতেই হয়। চলে চণ্ডীপাঠ। শেষের দিন খাওয়ানো হয় প্রসাদ। তবে বাড়ির এই ঐতিহ্য যেমন এখনও বজায় রয়েছে তেমনি মন্দিরের পুজোও নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে হয়৷ আর মন্দিরে অঞ্জলি দেওয়ার সময় সংস্কৃত মন্ত্র নেপালি ভাষায় অনুবাদ করেন পুরোহিত। কারণ, এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাই নেপালি। তাই মাতৃভাষায় মন্ত্রপাঠে পুজো চলে।
নেপালিটারির প্রবীণ বাসিন্দা সীতারাম ছেত্রীর কথায়, ‘মহালয়ার পর প্রথমা থেকে নবমী পর্যন্ত নয় দিনের মধ্যে যে কোনও তিনদিন বাড়ি বাড়ি পুজো করার নিয়ম। এখানে প্রত্যেক বাড়িতেই দেবী দুর্গার ফ্রেমবন্দি ছবিতে পুরোহিত দিয়ে পুজো করা হয়। সঙ্গে কুমারীপুজোও হয়।’
তবে মন্দিরের পুজোতেও যেহেতু সবাই যুক্ত, তাই ষষ্ঠী বা সপ্তমীর আগেই বাড়ির পুজোগুলি সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান। বাড়িতে তিনদিনের পুজো করবেন টংকাবাহাদুর ছেত্রী। তাঁর কথায়, ‘বাড়ির পুজো একেবারেই ঘরোয়াভাবে করা হয়। তবে শেষের দিন সবাইকে প্রসাদ খাওয়ানো হয়। তাছাড়া সবাই মন্দিরের পুজোতেও আমরা শামিল হই।’
মন্দিরে পুজো শুরু নেপথ্যে কারণও রয়েছে। একেবারেই জলদাপাড়া বনাঞ্চলের পাশেই নেপালিটারি গ্রাম। ছয় দশক আগে দিনের বেলাতেই হাতি, বাইসন, গন্ডার গ্রামে চলে আসত। এই বুনোদের প্রতিরোধের জন্যই দেবী মায়ের পুজোর উদ্যোগ নেন নেপালিরা। তখন কাশ ফুলের গাছের ছন দিয়ে মন্দির তৈরি হত। বেড়া দেওয়া গত পাটশলার। পুজোর পর সেই মন্দির ভেঙে ফেলা হত৷ এভাবেই মন্দিরে পুজোটা শুরু হয়। পরে সেখানে পাকা মন্দির তৈরি হয়। এখন এই মন্দিরের পুজো করেন কুমার উপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘বংশপরম্পরায় এই পুজো করে আসছি। পুজো ও অঞ্জলির সময় সংস্কৃত মন্ত্র নেপালি ভাষায় অনুবাদ করে বলা হয়৷ কারণ, মাতৃভাষায় মন্ত্র বলা হলে সবার বুঝতে সুবিধা হয়।’
এবার নেপালিটারিতে পুজোর ৫৮তম বর্ষ। এবারের পুজো কমিটির সম্পাদক সুরজ ছেত্রী বলছেন, ‘পুরোনো ঐতিহ্য ও নিয়মনিষ্ঠা মেনেই পুজো হয়। সপ্তমী তিথিতে প্রথমে করা হবে প্রকৃতির পুজো৷ সেদিন ফুলপাতি নিয়ে শোভাযাত্রাও বের হবে।’ তবে আশপাশে বসবাসকারী মেচ, রাজবংশী, আদিবাসী সহ অন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষও এখন মন্দিরের পুজোয় শামিল হন।
গ্রামের সব বাড়িতেই দুর্গাপুজো
